Apan Desh | আপন দেশ

ব্যাংক খাত সংস্কারে ঋণ দিচ্ছে বিশ্ব ব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ 

প্রকাশিত: ২১:০৭, ২৪ জুন ২০২৬

আপডেট: ২১:০৭, ২৪ জুন ২০২৬

ব্যাংক খাত সংস্কারে ঋণ দিচ্ছে বিশ্ব ব্যাংক

ছবি: আপন দেশ

বাংলাদেশের ব্যাংক খাতের ভিত্তি শক্তিশালী করতে ৪৫০ মিলিয়ন (৪৫ কোটি) ইউএস ডলার ঋণ অনুমোদন করেছে বিশ্ব ব্যাংক। দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি তরান্বিত করা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির পূর্বশর্ত হিসেবে এ অর্থায়ন করা হচ্ছে।

বুধবার (২৪ জুন) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বিশ্ব ব্যাংকের ঢাকা অফিস। এর আগে গত বুধবার (২৩ জুন) যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংকের সদর দফতর থেকে এ অর্থায়ন অনুমোদন করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ফাইন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্ট-২ এর আওতায় এ অর্থ ব্যবহার করা হবে। এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো ছোট আমানতকারীদের সুরক্ষায় আমানত সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি সক্ষমতা ও পদ্ধতি গড়ে তোলা।

এছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর সংস্কার এবং ব্যাংক রেজোলিউশনের ভিত্তি তৈরি করবে এ প্রকল্প। এটি আমানত সুরক্ষা তহবিলের মূলধন বাড়িয়ে এর সক্ষমতা বাড়াবে।

পাশাপাশি জরুরি তারল্য সহায়তা কাঠামো প্রতিষ্ঠা, ব্যাংক পুনর্গঠন কৌশল তৈরি এবং রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর সংস্কারে সহায়তা করবে। 

আরও পড়ুন<<>>সঞ্চয়পত্র বিক্রি নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর নির্দেশ

বিশ্ব ব্যাংক জানায়, দেশের ব্যাংকিং খাত বর্তমানে দুর্বল করপোরেট গভর্নেন্স, নিয়ন্ত্রক সংস্থার দুর্বলতা এবং বেআইনি ঋণ প্রদানের কারণে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। ২০২৬ সালের মার্চ মাসের শেষ নাগাদ দেশে খেলাপি ঋণের  হার দাঁড়িয়েছে ৩২ দশমিক ৬ শতাংশে, যা দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য ব্যাংকের গড় হারের (৭ দশমিক ৯ শতাংশ) চেয়ে অনেক বেশি। 

এছাড়া ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ পুরো ব্যাংক খাতে ঝুঁকি-ভিত্তিক সম্পদের বিপরীতে মূলধনের অনুপাত ছিল ঋণাত্মক ২ দশমিক ৬ শতাংশ।

বাংলাদেশ ও ভুটানের জন্য নিযুক্ত বিশ্বব্যাংকের ডিভিশন ডিরেক্টর জঁ পেসমে বলেন, ‌বাংলাদেশ এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, তার জন্য একটি স্থিতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক আর্থিক খাত প্রয়োজন। কিন্তু ব্যাংক খাত—যা মোট আর্থিক খাতের সম্পদের প্রায় ৯০ শতাংশ—বর্তমানে তীব্র চাপের মুখোমুখি।

তিনি আরও বলেন, এ প্রকল্পটি ছোট আমানতকারীদের রক্ষা করতে এবং গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, ব্যবস্থা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করবে। এটি ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনবে, যা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বড় ভূমিকা রাখবে।

প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) অবকাঠামো আধুনিকায়ন করা হবে। এর ফলে ক্রমবর্ধমান সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবেলা এবং তথ্য-উপাত্তের ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব হবে। এটি বাংলাদেশ ব্যাংকের ঝুঁকি পর্যবেক্ষণ, ডেটা-চালিত ও ঝুঁকি-ভিত্তিক তদারকি সক্ষমতা বাড়াবে এবং আর্থিক খাতের সামগ্রিক স্থিতিস্থাপকতা উন্নত করবে।

আপন দেশ/এসআর

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়