Apan Desh | আপন দেশ

ব্যানারে জিয়াউর রহমানের ছবি না থাকায় ক্ষোভ, তদন্তের নির্দেশ

জয়পুরহাট প্রতিনিধি, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১৭:৪১, ৭ নভেম্বর ২০২৬

ব্যানারে জিয়াউর রহমানের ছবি না থাকায় ক্ষোভ, তদন্তের নির্দেশ

ছবি: আপন দেশ

​জয়পুরহাটে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের আলোচনা সভার মূল ব্যানারে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ছবি না থাকায় তীব্র অসন্তোষ ও হট্টগোল হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা।

পরবর্তীতে কসটেপ দিয়ে ছবি সাঁটিয়ে অনুষ্ঠান শুরু করা হয়। এক বক্তার বক্তব্যে শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির পিতা ও বঙ্গবন্ধু হিসেবে সম্বোধন করায় আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। দুই দফায় হট্টগোলের মধ্য দিয়ে শেষ হয় এ সভা। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসক দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চেয়েছেন। প্রধান অতিথি এ ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

শনিবার (০৭ নভেম্বর) সকাল ১০টায় জেলা শিল্পকলা অ্যাকাডেমিতে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ আলোচনা সভা হওয়ার কথা ছিল। তবে মূল ব্যানারে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ছবি না থাকায় প্রধান অতিথি জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী মঞ্চে ওঠেননি। এতে অনুষ্ঠান শুরুতে বিঘ্ন ঘটে।

পরে জেলা প্রশাসকসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা মঞ্চে গিয়ে ব্যানার নামিয়ে জিয়াউর রহমানের ছবি-সংবলিত একটি পোস্টার কসটেপ দিয়ে ব্যানারে সাঁটান। এরপর প্রতিমন্ত্রী মঞ্চে ওঠেন। এর ফলে নির্ধারিত সময়ের প্রায় আধা ঘণ্টা পর অনুষ্ঠান শুরু হয়।


 আলোচনা সভা চলাকালে জিয়া পরিষদের জয়পুরহাট পৌর শাখার সাধারণ সম্পাদক মারুফ হাসান তার বক্তব্যে একাধিকবার শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির পিতা ও বঙ্গবন্ধু বলে সম্বোধন করলে সভাস্থলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এ সময় জেলা ছাত্রদলের সভাপতি একেএম গোলাম মাহফুজ শুভ উত্তেজিত হয়ে ডায়াসের দিকে তেড়ে যান। পরবর্তীতে ওই বক্তাকে ডায়াস থেকে সরিয়ে দেয়া হয়।
এ ঘটনায়  জেলা ছাত্রদল, জেলা যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষক দলের নেতাকর্মীরা প্রতিবাদ করেন। 

আরও পড়ুন<<>>টাঙ্গাইলে দেশীয় মাছের আকাল 

জেলা প্রশাসক আল-মামুন মিয়া জানান, ইন্টারনেট থেকে ছবি সংগ্রহ করে ব্যানারটি তৈরি করা হয়েছিল। তবে এ ত্রুটির জন্য তিনি অনুষ্ঠানে সবার সামনে দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী অনুষ্ঠানস্থলের বিভিন্ন ত্রুটি-বিচ্যুতির ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পুরো বিষয়টি ইচ্ছাকৃত কি না, তা খতিয়ে দেখে জেলা প্রশাসক ও জেলা পরিষদের প্রশাসককে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

 জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক এম এ ওহাব ও জেলা পরিষদের প্রশাসক তথা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মাসুদ রানা প্রধান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘ ১৯ বছর পর এ দিবস পালন করা হচ্ছে। অথচ শহীদ জিয়ার ছবি ছাড়াই ব্যানার তৈরি করা অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং প্রশাসনের ভেতরে থাকা ফ্যাসিবাদের দোসরদের চক্রান্তের বহিঃপ্রকাশ।

​উল্লেখ্য, অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে পুলিশ সুপার শাহনাজ বেগম, সিভিল সার্জন আল-মামুন, জেলা বিএনপির আহবায়ক গোলজার হোসেন প্রমুখ বক্তব্য দেন।

আপন দেশ/এসআর

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়