Apan Desh | আপন দেশ

কুমিল্লায় স্কুলশিক্ষার্থী তাজমিন হত্যাকাণ্ডে আটক ১

কুমিল্লা প্রতিনিধি, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১৫:৩৯, ৯ অক্টোবর ২০২৬

কুমিল্লায় স্কুলশিক্ষার্থী তাজমিন হত্যাকাণ্ডে আটক ১

ছবি: আপন দেশ

কুমিল্লার লালমাইয়ে ফসলি জমি থেকে উদ্ধার হওয়া জান্নাতুল তাজমিনের (১৫) মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় মূল আসামি সুমনকে চট্টগ্রাম থেকে আটক করেছে পুলিশ। 

কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সেই সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কিনা তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তবে এখন পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের শিকার সেই শিক্ষার্থীর মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।

শুক্রবার (০৯ অক্টোবর) সকালে চট্টগ্রাম নগরী থেকে তাকে আটক করা হয়।

এসপি আনিসুজ্জামান বলেন, আটক সুমন স্কুলছাত্রীকে বহনকারী সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান চালিয়ে তাকে চট্টগ্রাম নগরী থেকে আটক করা হয়। 

সুমনকে নিয়ে পুলিশ কুমিল্লায় রওয়ানা দিয়েছে। কুমিল্লায় পৌঁছলে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিস্তারিত জানানো হবে। তবে কখন সংবাদ সম্মেলন হতে পারে সেবিষয়ে নিশ্চিত কিছু বলেননি তিনি।

আরও পড়ুন <> তাজমিনের মৃত্যুর আগে কী ঘটেছিল, ধরা পড়ল সিসিটিভিতে

এদিকে তাজমিনের মৃত্যুর আগের রাতের চলাচলের একটি সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া গেছে। ফুটেজে দেখা গেছে, বুধবার (০৭ অক্টোবর) রাত পৌনে ১২টার দিকে পদুয়ার বাজারের নূরজাহান হোটেলের সামনে আইকনিক পরিবহনের একটি বাস থেকে নামে তাজমিন। এরপর হোটেলের পশ্চিম পাশে কয়েকটি স্টেশনারি দোকানের দিকে যায় সে। একটি দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে দোকানির সঙ্গে কথা বলে। এ সময় দোকানিকে তাকে কিছু একটা দেখাতে বা কোনো দিক নির্দেশ করতে দেখা যায়।

এতে আরও দেখা গেছে, দোকানের সামনে কিছু একটা দেখানোর পর তাজমিন সেখান থেকে সরে অন্য পাশে যায়। পরে রাত সোয়া ১২টার দিকে তাকে নূরজাহান হোটেল এলাকা ছেড়ে যেতে দেখা যায়। তবে এলাকা ছাড়ার পর তাজমীন কোন পথে গিয়েছিল, সে বিষয়ে এখনও কোনো সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া যায়নি। তার চলাচলের পথ এবং সম্ভাব্য যাতায়াতের মাধ্যম নিয়ে তদন্ত করছে পুলিশ।

এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ জানায়, চারদিন আগে বাড়ি থেকে বেরিয়ে তাজনিম প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যায়। পরদিন কুমিল্লায় ফিরে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হয়। ০৭ অক্টোবর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কক্সবাজার থেকে কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা হয় তাজমিন। রাতে পদুয়ার বাজারে পৌঁছে নূরজাহান হোটেলের সামনে নামে সে। সিসিটিভি ফুটেজে ওই এলাকায় তার অবস্থান ও দোকানির সঙ্গে কথা বলার দৃশ্য দেখা গেলেও সেখান থেকে চলে যাওয়ার পরদিন তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

উল্লেখ, বৃহস্পতিবার (০৮ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে লালমাই উপজেলার পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগতপুর উত্তরপাড়ার মানুমুড়া জঙ্গলসংলগ্ন ফসলি জমি থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার গলায় গামছা পেঁচানো ছিল।

আরও পড়ুন <> রাতে বাবাকে লাইভ লোকেশন, সকালে মিলল কিশোরীর মরদেহ

নিহত তাজমিন যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের ছাতিয়ানতলা এলাকার আবদুল আলীমের মেয়ে। পরিবারের সঙ্গে কুমিল্লা নগরের রেসকোর্স এলাকার একটি ভাড়া বাসায় থাকত সে।

বৃহস্পতিবার ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ বাড়ি নিয়ে যায় স্বজনরা। এর আগে রাতে লালমাই থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহতের বাবা আবদুল আলীম।

আপন দেশ/এমটিআই

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়