Apan Desh | আপন দেশ

রাতে বাবাকে লাইভ লোকেশন, সকালে মিলল কিশোরীর মরদেহ

কুমিল্লা প্রতিনিধি, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১২:৫৫, ৯ অক্টোবর ২০২৬

রাতে বাবাকে লাইভ লোকেশন, সকালে মিলল কিশোরীর মরদেহ

ছবি: আপন দেশ

কুমিল্লা-নোয়াখালী মহাসড়ক সংলগ্ন লালমাই উপজেলার জগৎপুর মাইনি মুড়া জঙ্গল এলাকার ধানক্ষেত থেকে বৃহস্পতিবার (০৮ অক্টোবর) ভোরে পনের বছর বয়সি এক কিশোরীর লাশ উদ্ধার হয়।

সরেজমিনে গিয়ে সেখানে দেখা গেছে, ঘটনাস্থলের আশেপাশের ক্ষেতজুড়ে যেন ধস্তাধস্তির চিহ্ন। চার-পাচটি ক্ষেতে উঠতি ধানের চারাগুলোকে এমনভাবে মাড়িয়ে দেয়া হয়েছে যেন কেউ বা কারা এর উপর দিয়ে ছোটাছুটি করেছে।

স্থানীয়দের ধারণা, ঘাতকের হাত থেকে প্রাণ বাঁচাতে গিয়ে ওই কিশোরী ক্ষেত জুড়ে ছোটাছুটি করেছে। বিধ্বস্ত ক্ষেতে যেন ফুটে উঠেছে কিশোরীর প্রাণে বাঁচার শেষ লড়াইটুকু।

জগৎপুর গ্রামের ওই সড়কের যেখান থেকে কিশোরীর লাশ পাওয়া যায় সেখান থেকে কিছুটা দূরে রাস্তার পাশেই ধানক্ষেত থেকে জব্দ করা হয় একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশাও। 

উদ্ধার করা হয় একটি ভ্যানিটি ব্যাগ, বাসের টিকেট। এছাড়া উদ্ধার হওয়ার জামার দেখেই কিশোরীকে সনাক্ত করেন তার বাবা।

বৃহস্পতিবার (০৮ অক্টোবর) বিকালে ওই এলাকায় গিয়ে কথা হয় স্থানীয় বাসিন্দা মনির হোসেনের সঙ্গে।

তিনি বলেন, সকালবেলা ধানক্ষেত দেখে মনে হয়েছে সেখানে কেউ ধস্তাধস্তি করেছে। আমরা এসে দেখলাম মেয়েটার মাথা ও শরীরটা কাদার নিচে ছিল। শুধু পিঠটুকু দেখা গেছে। মুরুব্বিরা ধরতে নিষেধ করেছে তাই আমরা কাছে যাইনি। একটু দূরেই সিএনজিটা পড়েছিল।

ভোরবেলা যখন লাশ উদ্ধার হয় তখন সেখানে ছিলেন একই এলাকার মো. হাসান। তিনি বলেন, এসে দেখি যে সিএনজিটা উল্টে আছে রাস্তার পাশে। তারপর আমরা কয়েকজন এটাকে উঠাই। ঘণ্টা খানেকপর আমরা বুঝতে পারলাম পাশের ক্ষেতে একটি মেয়ে পড়ে আছে।

এরপর আমরা ৯৯৯ কল দেই। এরপর পুলিশ আসে লাশ উদ্ধার করে নিয়ে যায়। মেয়েটির গলায় দড়ির মত কিছু দিয়ে বাধা ছিল। আর তার শরীরটা উপুড় করা ছিল।

লালমাই থানার ওসি মিজানুর রহমান বৃহস্পতিবার (০৮ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে বলেন, মরদেহটি প্রথমে অজ্ঞাত ছিল। পরে পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে।

নিহতের বয়স আনুমানিক ১৫ বছর। তার গলায় গামছা পেচানো ছিল। ধারণা করা হচ্ছে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছিলেন ওসি।

লাইভ লোকেশন পাঠিয়েছিলেন বাবাকে : ওই কিশোরী কুমিল্লার একটি বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। যদিও তিনি ক্লাসে অনিয়মিত ছিল। তাদের গ্রামের বাড়ি যশোরে হলেও বাবার চাকরির সুবাদে পরিবারের সঙ্গে কুমিল্লা শহরেই থাকতেন।

কিশোরীর বাবা বলেন, তার মেয়ে রোববার কুমিল্লা শহরেই তার বান্ধবীর বাসায় যাবে বলে বাসা থেকে বের হয়েছিল। এর মধ্যে বিভিন্ন সময় তার মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে সে বান্ধবী বাসাতেই আছে বলে জানিয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, বুধবার রাত আনুমানিক পৌনে ২টার দিকে তার মেয়ে মেসেজ এবং লাইভ লোকেশন পাঠায়। সেখানে সে জানায় তাকে এসে নিয়ে যাবার জন্য।

তবে তখন তিনি ঘুমন্ত থাকায় মেসেজটি দেখতে পাননি। পরে ভোরবেলা যখন মেসেজ দেখেন, তখন লাইভ লোকেশনে এসে মেয়ের মরদেহ উদ্ধার হচ্ছে দেখতে পান।

তবে সদর দক্ষিণ সার্কেল সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তাইন বিল্লা ফেরদৌস বলেন, পরিবার জানিয়েছে শহরে বান্ধবীর বাসায় যাবার কথা বলে ওই কিশোরী বের হয়। কিন্তু পুলিশের তদন্তে এসেছে, সেদিন সে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যায়, পরদিন কুমিল্লা ফেরে আবার ভোররাতে কক্সবাজার যায়।

পরে বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টায় সেখান থেকে রওনা হয়ে রাতে কুমিল্লা পদুয়ার বাজার নূরজাহান হোটেলের সামনে নামে। এরপর থেকে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায় বলে জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।

সর্বশেষ দেখা যায় নুরজাহান হোটেলের সামনে : এদিকে সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, বুধবার রাত আনুমানিক বারোটায় ঢাকামুখী একটি বাস থেকে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার নুরজাহান হোটেলের সামনে নামেন ওই কিশোরী।

এ সময় তার পরনে একটি গোলাপি রঙের জামা ছিল। কাঁধের একপাশে ব্যাগ ঝুলানো অবস্থায় দেখা যায় তাকে। বাস থেকে নেমে তিনি হোটেলের পশ্চিম পাশের স্টেশনারি দোকানগুলোর দিকে যান।

ভিডিওতে আরও দেখা যায়, হোটেলের সামনের একটি দোকানে গিয়ে হাত থেকে কোনো একটি জিনিস দোকানদারকে দেখিয়ে কিছু জানতে চান। পরে ওই দোকানদারকে অন্য দিকে নির্দেশ করতে দেখা যায়। পরে কিশোরী ওই দোকান থেকে সরে অন্য পাশে যান।

আরও পড়ুন <> মাছ-মাংসের বাজার স্থিতিশীল, টমেটোর দাম দ্বিগুণ

এর আধা ঘণ্টা পরের আরেক সিসিটিভির ভিডিওতে আনুমানিক সোয়া ১২টায় ওই কিশোরীকে নূরজাহান হোটেলের এলাকা ত্যাগ করতে দেখা গেছে।

এরপর তাকে দেখা গিয়েছে এমন কোনো সিসিটিভি ফুটেজ পায়নি পুলিশ।

সদর দক্ষিণ সার্কেল সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তাইন বিল্লা ফেরদৌস বলেন, যেহেতু কিশোরীর মরদেহের কিছুটা দূরেই একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা জব্দ করা হয়, ধারণা করা হচ্ছে হোটেল নূরজাহানের সামনে থেকেই তিনি সিএনজি ভাড়া করে গন্তব্যে রওনা হয়েছিলেন।

সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ ও সিএনজি অটোরিকশাকে কেন্দ্র করে পুলিশ তদন্ত করছে বলে জানান তিনি।

এছাড়া ময়নাতদন্তের পর কিশোরী লাশ দাফনের জন্য রাতে যশোর নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

 

আপন দেশ/এমটিআই

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়