Apan Desh | আপন দেশ

চাকরির ফাঁকে টিআই সাইফ উদ্দিনের শখের বাগান

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১১:৪০, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপডেট: ১১:৪২, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চাকরির ফাঁকে টিআই সাইফ উদ্দিনের শখের বাগান

ছবি: আপন দেশ

শখ থেকেই করেছেন বাগান, লাগিয়েছেন বিভিন্ন প্রজাতির শতাধিক গাছ, চাকরির পাশাপাশি দিনে ও রাতে বাগানে নিয়মিত পরিচর্যা করেন তিনি।  শখের এ বাগানে দেখতে দুর দুরান্ত থেকে আসছে অনেকে। লক্ষ্মীপুর শহরের চকবাজার মসজিদের পাশ্বে এ বাগানটি তৈরি করেছেন পুলিশের টিআই মো. সাইফ উদ্দিন।

তিনি ট্রাফিক আইন প্রয়োগ, যানজট নিরসনের পাশাপাশি বাগান করে ব্যাপক সুনাম কুড়িয়েছে জেলা সর্বত্র। ভোর বেলায় ও রাতের বেলায় বাগান পরিচর্যা ও দেখাশুনা করছে প্রতিদিন। চকবাজারের মসজিদের পাশ্বের এ স্থানটি হকারদের দখলে ছিল। পরে তিনি দখলমুক্ত করে বাগান করা শুরু করে। ব্যক্তিগত অর্থায়নে করা বাগানটিতে ইতিমধ্যে সহযোগীতরা হাত বাড়িয়েছেন অনেকে।

কেউ গাছ দিয়ে কেউ বা টব দিয়ে সহযোগীতা করছেন। স্থানীয় সাংবাদিকেরা বাগানটি নিয়ে ইতিমধ্যে বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করেছে। 

মো. সাইফ উদ্দিন চাঁদপুর সদর উপজেলার ওয়ালেস বাজার সংলগ্ন হাজী সিদ্দিকুর রহমানের পুত্র। ১৯৯৩ সালে ট্রাফিক পুলিশ যোগদান করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া,চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায় কাজের পর ২০২১ সালে ডিসেম্বর লক্ষ্মীপুরে যোগদান করেন। 

এর পর থেকে তিনি চকবাজার মসজিদের পূর্ব পাশ ও দক্ষিণ পাশ্বের হকারের কাছ থেকে স্থানটি দখল থেকে উদ্ধার করে বাগান করা শুরু করে। ইতিমধ্যে যানজট নিরসন ও ট্রাফিক আইন বাস্তবায়নে স্বীকৃতি হিসেবে বিভিন্ন জেলার পাশাপাশি লক্ষ্মীপুর জেলা পুলিশের কাছ থেকে একাধিক সম্মাননা অর্জন করে।

আরও পড়ুন<<>>নতুন স্বপ্নে বি.জে.এস.এম মডেল কলেজে একাদশ শ্রেণির পথচলা 

পরিবেশবাদী সংগঠন সবুজ বাংলাদেশ জেলা শাখার আহবায়ক একে এম মাহবুবুর রশিদ জানান, টিআই সাইফ উদ্দিনের বাগানটি দেখে খুব ভাল লেগেছে। একজন পুলিশের লোক হয়ে তিনি মানুষের জন্য একটি বাগান করে ব্যাপক সুনাম অর্জন করেছে। আমরা আমাদের সংগঠন থেকে ইতিমধ্যে এ বাগানের জন্য কয়েকটা টব গাছ ও টব দিয়ে সহযোগীতা করেছি ভবিষ্যতে আমাদের সহযোগীতা অব্যাহত থাকবে।

টিআই সাইফ উদ্দিন জানান, আমার পিতা ছিদ্দিকুর রহমান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ছিলেন। আমার খুব ইচ্ছা ছিল কৃষি বিভাগের চাকরি করবো। কিন্তু পিতার ইচ্ছা কারণে ট্রাফিক পুলিশে যোগদান করেছি। তবে কৃষি বিভাগের চাকরি না করলেও বৃক্ষ, বাগান ও গাছের প্রতি আমার দুর্বলতা আছে । চাকরির বাইরে যেটুকু অবসর পাই, তার বেশির ভাগ সময় এ বাগানেই ব্যয় করে থাকি। এটি কোনো বাণিজ্যিক উদ্যোগ নয়, এটি তার শখের, ভালো লাগার, ভালোবাসার একটি উদ্যান। যখনই গাছে ফল ও ফুল দেখি তখন আমার মন ভরে যায়।

শুরুতেই আমার ব্যক্তিগত টাকায় বাগানটি করিয়েছি। বিগত ০৫ আগষ্ট ছাত্র আন্দোলনের সময় উত্তর তেমুহনী বাগানটি দৃর্বৃত্তরা ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে। চকবাজার এলাকায় বাগান থেকে আমসহ একটি গাছ ৫ হাজার টাকা বিক্রি করি। পরে তার সঙ্গে আমি আরও ৫ হাজার টাকা দিয়ে কিছু গাছ ও উপকরণ ক্রয় করি। আমার ইচ্ছা লক্ষ্মীপুর যতদিন আছি বাগানের সঙ্গে থাকবো রায়পুরের শাহী মসজিদ, লেংড়া বাজার বড় মসজিদে এলাকায় বাগান করার মাধ্যমে সৌন্দর্যবর্ধন করার ইচ্ছা আছে সংশ্লিষ্টদের সহযোগীতা পেলে সেটা বাস্তবায়ন করতে পারবো।

আপন দেশ/জেডআই

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়