Apan Desh | আপন দেশ

সিলেটে আ.লীগ নেতা আছান খাঁ গ্রেফতার

সিলেট প্রতিনিধি, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১৪:২১, ১৬ আগস্ট ২০২৬

আপডেট: ১৫:৩৮, ১৬ আগস্ট ২০২৬

সিলেটে আ.লীগ নেতা আছান খাঁ গ্রেফতার

ছবি : আপন দেশ

সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার উমরপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও প্রভাবশালী নেতা জরিফ হোসেন ওরফে আছান খাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

জানা গেছে, জরিফ হোসেন ওরফে আছান খাঁ এবং তার ভাই ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য হাজী নুর হোসেনের সঙ্গে স্থানীয় শফিকুল ইসলামসহ কয়েকজনের মধ্যে এ বিরোধ চলছে। 

এ বিরোধকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সময়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ এবং একাধিক বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিনের এ সংঘাতকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে প্রায় দুই ডজন মামলা হয়েছে। এসব ঘটনায় কেউ কারাভোগ করেছেন, আবার অনেকে আত্মগোপনে রয়েছেন। বিভিন্ন সময়ে প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন, গুলিবর্ষণ ও গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানকে কেন্দ্র করেও উত্তেজনা তৈরি হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। 

স্থানীয় সূত্রের দাবি, পুলিশের অভিযান প্রতিহত করতে আছান খাঁ তার অনুসারীদের গুলিবর্ষণের নির্দেশ দিয়েছিলেন। গত জুলাইয়ে লন্ডনে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী শফিকুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক শেষে আছান খাঁ দেশে ফেরার পর এলাকায় আবারও উত্তেজনা দেখা দেয়। এরপর তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া এবং বিভিন্ন বাড়িতে হামলা, লুটপাটের অভিযোগ ওঠে।

চলতি মাসেও আছান খাঁর নেতৃত্বাধীন সশস্ত্র ক্যাডার বাহিনীর বিরুদ্ধে একাধিক বাড়িতে হামলা, লুটপাট ও প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া দেওয়ার অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।

সবশেষ গত ১৪ আগস্ট রাতে র‌্যাব ও থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে আছান খাঁকে গ্রেফতার করা হয়। তবে অভিযানে তার কাছ থেকে কোনো আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি বলে জানা গেছে। 

এলাকাবাসীর দাবি, অস্ত্রের সন্ধান ও দীর্ঘদিনের সহিংসতার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে রিমান্ডে নেওয়া হোক। এতে এলাকায় কিছুটা স্বস্তি ফিরবে বলে মনে করছেন তারা।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আছান খাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। গ্রেফতারের পর শনিবার (১৫ আগস্ট) তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে গত ৯ জানুয়ারি সিকন্দরপুর পশ্চিম এলাকা থেকে আছান খাঁর পক্ষের দুই ব্যক্তিকে অস্ত্রসহ আটক করে যৌথ বাহিনী।

স্থানীয় সূত্র আরও জানায়, ২০১৩ সালে আছান খাঁর পক্ষের লোকজনের গুলিতে প্রতিপক্ষ শফিকুল ইসলামের চাচাতো ভাই গফফার নিহত হন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে শফিকুল ইসলামকে ফাঁসাতে তার পক্ষের লোক কুদ্দুসকে গুলি করে হত্যার অভিযোগও ওঠে।

এ বিষয়ে ওসমানীনগর থানার ওসি গোলাম মোস্তফা বলেন, আছান খাকে র‌্যাব ও পুলিশের যৌথ অভিযানে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। এরপর তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়।

আপন দেশ/এনএম

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

সম্পর্কিত বিষয়:

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়