Apan Desh | আপন দেশ

ঢাকা দ‌ক্ষিণ সি‌টি‌তে ট্রেড লাইসেন্স নবায়‌নে অতিরিক্ত ফি নি‌য়ে উদ্বেগ 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১৪:৩৯, ১৬ আগস্ট ২০২৬

আপডেট: ১৪:৪১, ১৬ আগস্ট ২০২৬

ঢাকা দ‌ক্ষিণ সি‌টি‌তে ট্রেড লাইসেন্স নবায়‌নে অতিরিক্ত ফি নি‌য়ে উদ্বেগ 

ছবি : আপন দেশ

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর‌পোরেশনের (ডিএসসিসি) ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন ফি অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যবসায়ীরা গভীর উদ্বেগ ও অসন্তোষ প্রকাশ ক‌রে‌ছে। 

রোববার (১৬ আগস্ট) রাজধানীর মতিঝিলের ডিসিসিআই অডিটোরিয়ামে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) এবং ডিএসসিসির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য, আইনশৃঙ্খলা, যানজট পরিস্থিতির উন্নয়ন ও ট্রেড লাইসেন্স সেবা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এ উদ্বেগ প্রকাশ ক‌রে‌ছেন তারা। 

ট্রেড লাইসেন্স ফি নিয়ে ব্যবসায়ীদের ক্ষোভ 

সভায় উপস্থিত ব্যবসায়ীরা ট্রেড লাইসেন্স ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ফি বৃদ্ধির বিষয়ে তীব্র আপত্তি জানান। 

জনৈক ব্যবসায়ী জানান, তার ব্যবসার শুরুতে লাইসেন্স ফি ছিল মাত্র ৪৫০ টাকা, যা ধাপে ধাপে বেড়ে বর্তমানে ৫০০০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। 

অপর এক ব্যবসায়ী জানান, তার প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স ফি ১০ হাজার ৮১১ টাকা থেকে একলাফে বে‌ড়ে ১২ হাজার ৮২৫ টাকায় দাঁড়িয়েছে। 

এ ছাড়া এক বছরের ব্যবধানে নবায়ন ফি ৭৮০০ টাকা থেকে ১০ হাজার টাকায় এবং সাইনবোর্ড ফি ৮০০ টাকা থেকে ২৫০০ টাকায় উন্নীত হয়েছে বলেও সভায় অভিযোগ করা হয়।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, করোনা মহামারি এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে তারা এমনিতেই ব্যবসা পরিচালনায় হিমশিম খাচ্ছেন। এ পরিস্থিতিতে ফির হার অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানো হলে নতুন উদ্যোক্তারা নিরুৎসাহিত হবেন। তাই ট্যাক্সের হার না বাড়িয়ে ট্যাক্সের পরিধি বাড়ানোর জন্য তারা ডিএসসিসি কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।

ডিজিটালাইজেশন ও রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা

ডিসিসিআই সভাপতি তাসকিন আহমেদ জানান, ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি কমাতে এবং সেবা প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও দ্রুত করতে ট্রেড লাইসেন্স সেবাকে সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজড করার লক্ষ্য নিয়ে তারা কাজ করছেন। 

তবে সভায় ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমান জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তাদের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৫০ কোটি টাকা, যার বিপরীতে তারা মাত্র ১১৫ কোটি টাকা আদায় করতে সক্ষম হয়েছেন। রাজস্ব আদায়ের এ ঘাটতি পূরণে প্রশাসক মো. আব্দুস সালামের নেতৃত্বে সিটি করপোরেশন কাজ করছে বলে জানানো হয়।

সভায় কেবল ফি বৃদ্ধি নয়, বরং ঢাকার ব্যবসা-বাণিজ্যের পথে আরও কিছু প্রতিবন্ধকতা নিয়ে আলোচনা হয়। 

যানজট ও অবৈধ রিকশা

ব্যবসায়ীরা জানান, রাজধানীতে অনিবন্ধিত অটো-রিকশার দাপটে যানজট চরম আকার ধারণ করেছে। এসব রিকশা থেকে সরকার কোনো ট্যাক্স পায় না, অথচ রাস্তার ৯০ শতাংশ জায়গা এরাই দখল করে রাখে।

অতিরিক্ত ছাড়পত্রের জটিলতা

ট্রেড লাইসেন্স নবায়নের ক্ষেত্রে সিটি কর্পোরেশন থেকে ফায়ার সার্ভিস ও পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র বাধ্যতামূলক করার ফলে ব্যবসায়ীরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন।

আইনশৃঙ্খলা ও চুরি

নিউ মার্কেট এলাকায় রাতের বেলা বৈদ্যুতিক তার চুরির ঘটনার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট থানাকে কঠোর নির্দেশনা দেয়ার অনুরোধ জানানো হয়।

রাস্তা ও অবকাঠামো

পুরান ঢাকার চকবাজার ও লালবাগ এলাকার রাস্তাঘাট উন্নয়ন এবং যানজট নিরসনে পর্যাপ্ত ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েনের দাবি জানান ব্যবসায়ীরা।

আলোচনা সভায় ব্যবসায়ীরা আশা প্রকাশ করেন যে, ডিএসসিসি কর্তৃপক্ষ তাদের দাবিগুলো বিবেচনা করবে এবং একটি ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। 

ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম ও ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মাসুদ ক‌রিমসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা সভায় উপস্থিত ছিলেন। 

ডিএস‌সি‌সি প্রশাসক ব‌্যবসায়ী‌দের সমস্যাগু‌লো সমাধা‌নের আশ্বাস দেন। তি‌নি ব‌লেন, দি‌নের ট্রেড লাইসেন্স দি‌নেই সম্পন্ন করা হ‌বে। 

ব্যবসায়ীদের অযথা হয়রা‌নি কর‌লে সং‌শ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরু‌দ্ধে ব‌্যবস্থা নেওয়া হ‌বে ব‌লে জানান তি‌নি। 

আপন‌ দেশ/মিম/এনএম

মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়