Apan Desh | আপন দেশ

মেঘনার ভাঙনরোধে জিও ব্যাগ প্রকল্পে অনিয়ম, এলাকাবাসীর মানববন্ধন

নোয়াখালী প্রতিনিধি, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১৯:৪৬, ৬ আগস্ট ২০২৬

মেঘনার ভাঙনরোধে জিও ব্যাগ প্রকল্পে অনিয়ম, এলাকাবাসীর মানববন্ধন

ছবি: আপন দেশ

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার পূর্ব চরবাটা ইউনিয়নের সেলিম বাজার ও কালাদুর এলাকায় মেঘনা নদীর ভাঙনরোধে জিও ব্যাগ ডাম্পিং প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

বৃহস্পতিবার (০৬ আগস্ট) দুপুরে নদীর তীরে আয়োজিত মানববন্ধনে হাজারো মানুষ অংশ নেন। তারা অভিযোগ করেন, বরাদ্দ দেয়া হলেও দীর্ঘদিন কাজ শুরু হয়নি। পরে যথাযথ নকশা অনুসরণ না করে জিও ব্যাগ ফেলার চেষ্টা করা হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে এলাকাবাসী অনিয়মের প্রতিবাদ জানিয়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান।

মানববন্ধন থেকে দ্রুত জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু, প্রকল্পের অনিয়ম তদন্ত এবং ভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এবং নোয়াখালী-৪ আসনের এমপি মোহাম্মদ শাহজাহানের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

বক্তারা বলেন, ১৭ মে পানিসম্পদমন্ত্রী ও এমপি শাহজাহান এলাকা পরিদর্শন করে জিও ব্যাগ বরাদ্দ দেন। ভাঙন রোধে বরাদ্দ দেয়া হলেও কাজ বাস্তবায়ন না হওয়ায় প্রতিদিন নতুন নতুন এলাকা নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে বহু বসতভিটা, কৃষিজমি, গাছপালা ও স্থানীয় অবকাঠামো ভাঙনের শিকার হয়েছে।

পানিসম্পদ মন্ত্রী ও স্থানীয় এমপির উপস্থিতিতে নির্ধারিত জরুরি কাজ সঠিকভাবে ও যথাসময়ে বাস্তবায়ন না হওয়ায় নদীকূলে দাঁড়িয়ে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। অন্যদিকে, সঠিক নিয়ম না মেনে করা কাজ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড।

মানববন্ধন ও বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, পানিসম্পদ মন্ত্রী এবং স্থানীয় এমপি এলাকা পরিদর্শন করে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে প্রতিশ্রুতি দেয়ার পর কাজ শুরু হতে দীর্ঘ সময় গড়ালে ইতিমধ্যে আরও প্রায় দেড় থেকে দুই কিলোমিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ফলে হাজার হাজার একর ফসলি জমি, বসতবাড়ি ও সেলিম বাজার চরম ভাঙনঝুঁকিতে পড়েছে। 

আরও পড়ুন<<>>শিশু হত্যায় দুই কিশোরের কারাদণ্ড, পাবজি-ফ্রি ফায়ার সরাতে বিটিআরসিকে নির্দেশ

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, পূর্ণচর উপজেলার পূর্ব চর বাটা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সেলিম বাজার ও সৈয়দপুর এলাকার নদী ভাঙ্গন রোধে ৪০০ মিটার করে মোট ৮০০ মিটার এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলার কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মোস্তফা এন্ড সন্স। প্রতিষ্ঠানটির মালিক জেলা বিএনপি'র সাবেক সহ-সভাপতি শহীদুল ইসলাম কিরণ। তিনি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মালিক হলেও তার লাইসেন্স ব্যবহার করে কাজ দুটি করছেন জেলা বিএনপি'র অন্য দুই নেতা। তাদের পক্ষে কাজ পরিচালনা করছেন একই দলের সদস্য মো. ফরহাদ।‌

সূত্র জানায়, প্রতিষ্ঠানটিকে ঠিকাদারি কাজের কার্যাদেশ দেয়া হলেও নকশা সরবরাহ করা হয়নি। এরই মধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন পানি উন্নয়ন বোর্ডকে না জানিয়ে নিজেদের মতো করে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু করে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতিবাদ জানান এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত করেন। 

সরেজমিনে গিয়ে তাদের অনিয়ম প্রমাণ পাওয়ার পর কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। পরবর্তীতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে প্রকল্পের নকশা অনুযায়ী জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু হবে জানানো হয়েছে।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মো. ফরহাদ জিও ব্যাগ ফেলার কাজে ত্রুটির বিষয়টি স্বীকার করেন বলেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের আগ্রহের প্রেক্ষিতে তারা কাজটি শুরু করেছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা তাদের কাজ বুঝিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু তাদের মূল নকশার দেয়া হয়নি। এখন বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক উঠার পর তারা কাজ বন্ধ রেখেছেন। 

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম রেফাত জামিল বলেন, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোকজন প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী নকশা ছাড়াই তাদের খেয়ালখুশি মতো জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু করে।‌ স্থানীয় বাসিন্দাদের মাধ্যমে তারা বিষয়টি জানার পর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোকজনকে কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। শিগগিরই প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী সেখানে নতুন করে কাজ শুরু হবে।

আপন দেশ/এসআর

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement