ছবি : আপন দেশ
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার দর্জিপাড়া-ডাঙ্গাপাড়া এলাকায় গবরা নদীর ওপর বহুল কাঙ্ক্ষিত সেতু নির্মাণের লক্ষ্যে ‘পল্লী সড়কে গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ’ শীর্ষক সমীক্ষা প্রকল্পের (২য় পর্যায়) আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার সদর ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া এলাকায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আবু হানিফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এলজিইডির কনসালটেন্ট শাহরিয়ার হোসেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহাদত হোসেন রঞ্জু, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ মিয়া, তেঁতুলিয়া সদর ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদ করিম সিদ্দিকী, উপজেলা যুবদলের আহবায়ক খন্দকার আবু নোমান এনাম, জিয়া পরিষদের সভাপতি আব্দুল জব্বার, সাইদুর রহমান বাবলু মিয়া, ছাত্রদলের আহবায়ক নুরুজ্জামান দুলাল, সদস্য সচিব আবু বক্কর সিদ্দিক সবুজ, জামায়াত নেতা জাহাঙ্গীর আলম ও জয়নাল আবেদীন।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে সিনিয়র সাংবাদিক আশরাফুল ইসলাম, সোহরাব আলী এবং স্থানীয় ব্যক্তিত্ব শাহিনুর রহমান শাহিনসহ নদীর দুই তীরের কয়েক গ্রামের বিপুল সংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন তেঁতুলিয়া সদর ইউনিয়নে স্থানীয় সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি তাজ উদ্দিন আহম্মেদ।
আরও পড়ুন<<>>মাটি বিক্রি নিয়ে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ
সভায় বক্তারা বলেন, গবরা নদীর ওপর একটি সেতুর দাবি এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের। এ সমীক্ষা প্রকল্পের মাধ্যমে সেতু নির্মাণের কাজ দ্রুত শুরু হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, সেতুটি নির্মিত হলে দর্জিপাড়া, কানকাটা, শারিয়ালজোত, প্রেমচরণজোত, আজিজনগর, ডাঙ্গাপাড়া ও কলেজপাড়াসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। বিশেষ করে পর্যটন শিল্পের বিকাশে দর্জিপাড়া-শারিয়াল এলাকায় বেসরকারি সংস্থা ইএসডিও (ESDO) কর্তৃক গৃহীত ‘ইকো ট্যুরিজম’ প্রকল্প বাস্তবায়ন ও ফুল চাষের বিপণনে এ সেতুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
নদীর দুই তীরের বাসিন্দারা তাদের দীর্ঘদিনের কষ্টের কথা তুলে ধরে বলেন, বর্ষা মৌসুমে বুক সমান পানি সাঁতরিয়ে নদী পার হতে হয়। সেতুর অভাবে ৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৩টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং ৩টি মাদরাসার শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষকে কয়েক কিলোমিটার পথ ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে। অসুস্থ রোগী পরিবহন এবং কৃষিপণ্য বাজারে নিতে গিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয় তাদের। এ সেতুটি নির্মিত হলে ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা ও চিকিৎসাক্ষেত্রে এ অঞ্চলের মানুষের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত হবে।
উল্লেখ্য, গবরা নদী দ্বারা বিচ্ছিন্ন এ সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোর অর্থনৈতিক চাকা সচল করতে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সেতুটির নির্মাণ কাজ শুরু করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
আপন দেশ/জেডআই
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































