Apan Desh | আপন দেশ

সিসি ক্যামেরার নজরদারিতে টাঙ্গাইলের ১০৬৩ কেন্দ্র

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১৪:৪৭, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

সিসি ক্যামেরার নজরদারিতে টাঙ্গাইলের ১০৬৩ কেন্দ্র

ছবি: আপন দেশ

আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে টাঙ্গাইলের নির্বাচনী জনপদে এখন উৎসবের আমেজ। ৮টি সংসদীয় আসনেই বইছে ভোটের হাওয়া। তবে এবারের নির্বাচনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে প্রযুক্তির ব্যবহার। বিশেষ করে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতে জেলাজুড়ে সিসি (ক্লোজ সার্কিট) ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এ উদ্যোগকে সাধারণ ভোটাররা ডিজিটাল নিরাপত্তা বলয় হিসেবে দেখছেন।

জেলা নির্বাচন অফিস থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, টাঙ্গাইলে এবার ১ হাজার ৬৩টি ভোটকেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে মোট বুথ বা ভোটকক্ষ রয়েছে ৬ হাজার ৩৪১টি। পুরো জেলায় মোট ২ হাজার ৩৬০টি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রের প্রবেশপথ ও প্রতিটি বুথ এ ক্যামেরার আওতায় থাকবে।

নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ প্রযুক্তি ভোট জালিয়াতি ও কেন্দ্র দখল রোধে ‘ওষুধের’ মতো কাজ করবে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে এটিই হবে প্রশাসনের প্রধান অস্ত্র।

টাঙ্গাইলের ৮টি আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩৩ লাখ ৩৪ হাজার ৪২৭ জন। এ বিশাল সংখ্যক মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। প্রশাসন কেন্দ্রগুলোকে দুটি ভাগে ভাগ করেছে- ঝুঁকিপূর্ণ বা গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র; ১৬০টি। সাধারণ কেন্দ্র; ৯০৩টি।

ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোকে বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয়েছে। সেখানে অতিরিক্ত ক্যামেরার পাশাপাশি বাড়তি নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন থাকবে।

রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে একটি অত্যাধুনিক কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে। এখান থেকে ১ হাজার ৬৩টি কেন্দ্রের ফুটেজ সরাসরি দেখা যাবে। কোনো কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা বা পেশিশক্তির ব্যবহার দেখা গেলেই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ ডিজিটাল প্রমাণ হিসেবে গণ্য হবে। প্রয়োজনে ভোট গ্রহণ স্থগিত করার মতো কঠোর সিদ্ধান্তও নেয়া হতে পারে।

টাঙ্গাইলের ৮টি আসনে ভোটারদের একটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান দেখা গেছে- মোট ভোটার: ৩৩,৩৪,৪২৭ জন। পুরুষ ভোটার: ১৬,৭১,৬৩০ জন। নারী ভোটার: ১৬,৬২,৭৭২ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার: ২৫ জন।

বিপুল সংখ্যক এ ভোটারদের মধ্যে নারী ও নতুন ভোটাররা সিসি ক্যামেরার উপস্থিতিতে বেশ আশাবাদী। তারা মনে করছেন, এতে করে কোনো ভয়ভীতি ছাড়াই তারা পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবেন।

টাঙ্গাইলের রিটার্নিং অফিসার শরীফা হকের পক্ষে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সঞ্জয় কুমার মহন্ত এ উদ্যোগের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি বলেন, আমরা প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করছি। প্রতিটি কেন্দ্রের প্রতিটি বুথ আমাদের নজরদারিতে থাকবে। ডিজিটাল এ পাহারায় ভোটাররা নির্ভয়ে কেন্দ্রে আসতে পারবেন।

তিনি আরও জানান, সিসি টিভির ফুটেজ দেখে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে কোনো ছাড় দেয়া হবে না। এ প্রযুক্তি ব্যবহারের মূল লক্ষ্য হলো নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা ও স্বচ্ছতা আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা।

স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অতীতে কেন্দ্র দখল বা জাল ভোটের যে আতঙ্ক ছিল, সিসি ক্যামেরা আসায় তা অনেকটাই কমেছে। 

আপন দেশ/এমবি

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়