ফাইল ছবি, আপন দেশ
২০২৬-২৭ অর্থবছরে রবি মৌসুমে দেশের ১৪ লাখ ৬০ হাজার কৃষককে প্রণোদনা দেবে সরকার। সাতটি ফসলের উৎপাদন বাড়াতে এ প্রণোদনা দেয়া হবে।
ফসলগুলো মধ্যে রয়েছে সরিষা, চিনাবাদাম, সয়াবিন, মুগ, মসুর, খেসারি ও অড়হ। এসব চাষের জন্য কৃষকদের বিনামূল্যে বীজ ও রাসায়নিক সার দেয়া হবে। এ জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ১৯৮ কোটি ৮৯ লাখ ৪২ হাজার ৫০০ টাকা।
এ সংক্রান্ত সরকারি আদেশ (জিও) জারি করেছে কৃষি মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের উপকরণ-২ শাখার উপসচিব মোহাম্মদ সুহেল মাহমুদ স্বাক্ষরিত আদেশে প্রণোদনা কর্মসূচির অর্থ বরাদ্দ, উপকারভোগী নির্বাচন, উপকরণ বিতরণ ও বাস্তবায়নের বিভিন্ন শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
সরকারি আদেশ অনুযায়ী, সাতটি ফসলের মধ্যে সরিষা চাষে সবচেয়ে বেশি কৃষককে সহায়তা দেয়া হবে। এ খাতে ১২ লাখ ৯০ হাজার কৃষকের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৬ কোটি ৪২ লাখ ২৪ হাজার টাকা।
এছাড়াও চিনাবাদাম চাষে ৩৫ হাজার কৃষকের জন্য ৩ কোটি ১ লাখ ৩২ হাজার টাকা, সয়াবিনে ৩০ হাজার কৃষকের জন্য ৯৮ লাখ টাকা, মুগে ৩০ হাজার কৃষকের জন্য ২ কোটি ৩৭ লাখ টাকা, মসুরে ২০ হাজার কৃষকের জন্য ২ কোটি ৯৮ লাখ টাকা, খেসারিতে ২০ হাজার কৃষকের জন্য ৩ কোটি ১৭ লাখ ২৫ হাজার টাকা ও অড়হরে পাঁচ হাজার কৃষকের জন্য ৩৭ লাখ ৪৫ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
আদেশে বলা হয়েছে, কৃষি পুনর্বাসন সহায়তা খাত থেকে এ অর্থ ব্যয় করা হবে। জেলা কৃষি পুনর্বাসন বাস্তবায়ন কমিটি বরাদ্দ অনুযায়ী উপজেলা পর্যায়ে অর্থ বণ্টন করবে।
পরে উপজেলা কৃষি পুনর্বাসন বাস্তবায়ন কমিটি স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তাদের মাধ্যমে প্রকৃত ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক নির্বাচন করে উপকারভোগীদের তালিকা চূড়ান্ত করবে।
একজন কৃষক পরিবারকে সাতটি ফসলের মধ্যে যেকোনো একটির জন্য প্রণোদনা দেয়া যাবে। একই কৃষক পরিবারকে একাধিক ফসলের জন্য এ সহায়তা দেয়া যাবে না।
একজন কৃষক এক বিঘা জমির জন্য সরিষার এক কেজি, চিনাবাদামের ১০ কেজি, সয়াবিনের চার কেজি, মুগের দুই কেজি, মসুরের তিন কেজি, খেসারির আট কেজি অথবা অড়হরের দুই কেজি বীজ পাবেন।
আরও পড়ুন<<>>সামিটের এলএনজি টার্মিনালে গ্যাস সরবরাহ শুরু
সার বিতরণের ক্ষেত্রেও ফসলভিত্তিক পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে। সরিষা ও সয়াবিনের ক্ষেত্রে ১০ জন কৃষকের একটি পুলের জন্য ১০ কেজির এক বস্তা ডিএপি ও ১০ কেজির এক বস্তা এমওপি সার দেয়া হবে।
চিনাবাদাম, মুগ, মসুর ও খেসারি চাষের ক্ষেত্রে ১০ জনের একটি পুলে ২০ কেজির দুই বস্তা ডিএপি ও ১০ কেজির এক বস্তা এমওপি সার বরাদ্দ থাকবে। অড়হর চাষের ক্ষেত্রেও ১০ জনের একটি পুলের জন্য একই পরিমাণ সার দেয়ার নির্দেশনা রয়েছে।
কর্মসূচির আওতায় ১০ জন কৃষককে নিয়ে পুল গঠন করে পাশাপাশি ১০ বিঘা বা তার বেশি জমিতে একটি ব্লকভিত্তিক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে হবে। কৃষক নির্বাচন ও উপকরণ বিতরণের ক্ষেত্রে নতুন আবাদ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা রয়েছে, এমন এলাকাকে অগ্রাধিকার দিতে বলা হয়েছে।
উপকরণ বিতরণের সময় কৃষকের জাতীয় পরিচয়পত্র ও মোবাইল ফোনের নম্বর সংরক্ষণ করতে হবে। কৃষি কার্ডে সহায়তার বিবরণ লিখতে হবে। উপকরণ গ্রহণের প্রমাণ হিসেবে কৃষকের স্বাক্ষর বা টিপসই নিতে হবে।
তালিকাভুক্ত কৃষক ছাড়া অন্য কাউকে এসব উপকরণ দেয়া যাবে না। কৃষককে নিজে উপস্থিত হয়ে উপকরণ গ্রহণ করতে হবে।
সরকারি আদেশে আরও বলা হয়েছে, উপকারভোগী কৃষকদের তালিকা জেলা ও উপজেলা কার্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে। উপকরণ বিতরণ শেষ হওয়ার ১০ কর্মদিবসের মধ্যে এবং ফসল কর্তন শেষ হওয়ার ১০ কর্মদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরে পাঠাতে হবে।
কর্মসূচির অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সরকারি ক্রয় আইন ২০০৬ (পিপিএ) ও সরকারি ক্রয় বিধিমালা ২০২৫ (পিপিআর) অনুসরণসহ প্রচলিত আর্থিক বিধিবিধান প্রতিপালন করতে হবে। বরাদ্দের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করা যাবে না।
প্রণোদনা কার্যক্রমের অর্থ ব্যয়ের বিস্তারিত হিসাব ও অব্যয়িত অর্থ ফেরতের চালানের অনুলিপি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পাঠাতে হবে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের এ কর্মসূচিতে অগ্রিম উত্তোলিত অর্থ আগামী ৩০ জুন ২০২৭-এর মধ্যে সমন্বয় করতে হবে।
এ ছাড়া কর্মসূচির আওতায় বিতরণ করা বীজ ও সারের মান নিশ্চিত করা, উপকরণ বিতরণ ও অর্থ ব্যয়ের পুরো প্রক্রিয়া নিয়মিত পরিবীক্ষণ এবং চলমান অন্যান্য পুনর্বাসন কর্মসূচির সঙ্গে যাতে দ্বৈততা সৃষ্টি না হয়, তা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
আপন দেশ/এসআর
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।





































