ছবি: সংগৃহীত
চলতি মৌসুমে ঠাকুরগাঁওয়ে আলুর বাম্পার ফলন হলেও কৃষকদের মুখে হাসি নেই। উৎপাদন বাড়লেও বাজারে দাম ধসে পড়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন জেলার আলুচাষিরা। অনেক এলাকায় উৎপাদন খরচ তো দূরের কথা, মাঠ থেকে আলু উত্তোলনের খরচও তুলতে পারছেন না কৃষকরা।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে সদর উপজেলার বেগুনবাড়ি ইউনিয়নের নতুনপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, জমি থেকে আলু তোলা হলেও ক্রেতার অভাবে বস্তাভর্তি আলু মাঠেই পড়ে রয়েছে। পাইকার না থাকায় কৃষকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও হতাশা বাড়ছে।
স্থানীয় কৃষক মনসুর আলী জানান, তিনি ১০ বিঘা জমিতে গ্রানুলা জাতের আলু চাষ করেছেন। সার, বীজ, কীটনাশক ও সেচসহ বিঘাপ্রতি প্রায় ৪০ হাজার টাকা খরচ হলেও বর্তমান বাজারদরে সে খরচের সামান্য অংশও উঠছে না। বর্তমানে ৬০ কেজির একটি বস্তা আলু ২০০ টাকায়ও বিক্রি হচ্ছে না, যা কেজিপ্রতি তিন টাকার সামান্য বেশি। এমনকি পাইকাররা অতিরিক্ত আলু দাবি করায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
একই এলাকার কৃষক নুরুল আলম বলেন, এ মৌসুমে পচন রোগে গাছ আগেই নষ্ট হওয়ায় আলুর আকার ছোট হয়েছে। ফলে কম দামে বিক্রির চেষ্টা করলেও ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না। এতে উৎপাদন ব্যয়ের অর্ধেকও তুলতে পারছেন না চাষিরা।
ব্যবসায়ীরা জানান, বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক বেশি হওয়ায় দাম কমে গেছে। পৌর শহরের ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, রমজান সামনে থাকলেও বাজারে লেনদেন কম। রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাবেও পাইকারি বাজার স্থবির হয়ে আছে। পর্যাপ্ত মজুদ থাকায় নতুন করে আলু কেনার ঝুঁকি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা।
আরও পড়ুন <<>> বজ্রসহ বৃষ্টির আভাস
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় আলু আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৮ হাজার হেক্টর হলেও আবাদ হয়েছে ২৮ হাজার ২৮৫ হেক্টর জমিতে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ৭ লাখ টন। অথচ জেলার ১৭টি হিমাগারে সংরক্ষণ সক্ষমতা মাত্র ১ লাখ ৪৫ হাজার ৫৩২ টন। সংরক্ষণ সংকটের কারণে বিপুল পরিমাণ আলু কৃষকদের বাধ্য হয়ে কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মাজেদুল ইসলাম জানান, আগের মৌসুমে লোকসানের পর কৃষকদের কম জমিতে আলু চাষের পরামর্শ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু লাভের আশায় অনেক কৃষক আবাদ বাড়িয়েছেন। সারা দেশেই উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় অন্যান্য জেলায় চাহিদা কমে গেছে। ভবিষ্যতে ক্ষতি এড়াতে পরিকল্পিতভাবে বিকল্প ফসল চাষের পরামর্শ দেন তিনি।
বাম্পার উৎপাদন সত্ত্বেও ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় এখন ঠাকুরগাঁওয়ের আলুচাষিদের প্রধান প্রশ্ন—ফসল ঘরে তুলবেন, নাকি লোকসান মেনে মাঠেই বিক্রি করে দেবেন।
আপন দেশ/এসএস
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































