ছবি : সংগৃহীত
শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত ছিল টানটান উত্তেজনা, মুহূর্তে মুহূর্তে বদলেছে ম্যাচের রং। আর সেই রোমাঞ্চকর লড়াইয়ের শেষ হাসি হেসেছে রিয়াল মাদ্রিদ। নাটকীয় জয় দিয়ে সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে ভাসিয়েছে গ্যালাকটিকোরা।
দুই গোলে এগিয়ে গিয়েও শেষ দিকে খেই হারিয়ে পয়েন্ট হারাতে বসে রিয়াল মাদ্রিদ। অসাধারণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে লড়াই জমিয়ে তোলে এলচে। তবে কিলিয়ান এমবাপে ও কার্লোস এস্পির বোঝাপড়ায় শেষ মুহূর্তের গোলে জয়ের স্বস্তিতেই মাঠ ছাড়ল জুজে মরিনিয়োর দল।
প্রতিপক্ষের মাঠে মঙ্গলবার রাতে লা লিগার ম্যাচটি ৩-২ গোলে জিতেছে রিয়াল মাদ্রিদ।
গত মৌসুমে লিগে ঘরের মাঠে রিয়ালকে ২-২ গোলে রুখে দিয়েছিল এলচে। এবারও তেমন সম্ভাবনা জাগায় দলটি, যদিও শেষ পর্যন্ত তেমন কিছু করতে পারল না তারা।
প্রতিপক্ষের আত্মঘাতী গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর, ব্যবধান বাড়ান কিলিয়ান এমবাপে। দ্বিতীয়ার্ধে ১২ মিনিটের ব্যবধানে আবিয়েল ওসোরিও ও ফের্নান্দো নিনোর গোলে সমতায় ফেরে এলচে। তাতে নাটকীয় মোড় নেওয়া লড়াইয়ে বদলি নামার কিছুক্ষণের মধ্যে ব্যবধান গড়ে দেন এস্পি।
ছয় ম্যাচে পাঁচ জয়ে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে আছে রিয়াল। তাদের সমান পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে বার্সেলোনা। একটি ম্যাচ কমও খেলেছে কাতালান ক্লাবটি।
ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই দারুণ একটা সুযোগ পেয়ে যান ভিনিসিউস। কিন্তু ছয় গজ বক্সে বাঁ দিকে আর্দা গুল্যারের থ্রু পাস পেয়ে শট লক্ষ্যে রাখতে পারেননি ব্রাজিলিয়ান তারকা। ছয় মিনিট পর অন্য পাশে ডি-বক্সে জায়গা বানিয়ে তেতে মরেন্তের শটও অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
আগের পাঁচ ম্যাচে একটিতেও জয় না পাওয়া এলচে ১৭তম মিনিটে আরেকটি গোছানো আক্রমণ শাণায়। কিন্তু ভালো পজিশন থেকে আবিয়েল ওসোরিওর শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে যায়।
২৫তম মিনিটে প্রতিপক্ষ গোলরক্ষকের অদ্ভূত আত্মঘাতী গোলে এগিয়ে যায় রিয়াল। প্রায় ২০ গজ দূর থেকে গুল্যারের দারুণ ফ্রি কিকে বল পোস্টের কিছুটা ভেতরের দিকে লেগে অন্যপাশ দিয়ে হয়তো বের হয়ে যেত, জায়গায় দাঁড়িয়ে দেখছিলেন আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক মাতিয়াস দিতুরো, দুর্ভাগ্যবশত বল তার হাতে লেগে গোললাইন পেরিয়ে যায়।
আট মিনিট পর দারুণ নৈপুণ্যে ব্যবধান বাড়ান এমবাপে। ইয়ান ডিওমান্ডের ডি-বক্সে বাড়ানো থ্রু বল ছুটে গিয়ে প্রথম ছোঁয়ায় শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন ফরাসি তারকা।
শট নেওয়ার পরমুহূর্তেই গোলরক্ষকের সঙ্গে সংঘর্ষে পায়ে কিছুটা আঘাত পান তিনি। প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে অবশ্য খেলা চালিয়ে যান এবারের লিগে এই নিয়ে সাতটি গোল করা এমবাপে।
দুই মিনিটের মধ্যে গতিময় আক্রমণে আরেকটি দারুণ সুযোগও তৈরি করেন আগের ম্যাচে জোড়া গোল করা এই ফরোয়ার্ড। তবে তার পাস পেয়ে ভিনিসিউসের নেওয়া শট ক্ষিপ্রতায় রুখে দেন ওসোরিও।
৬৫তম মিনিটে আবারও দলকে হতাশ করেন ভিনিসিউস। তড়িৎ শাণানো পাল্টা আক্রমণে গুল্যারের থ্রু পাস ডি-বক্সে ফাঁকায় পেয়ে শট নেন ব্রাজিলিয়ান তারকা, কিন্তু বল পোস্ট ঘেঁষে বেরিয়ে যায়।
এর পরপরই ভিনিসিউস ও গুল্যারকে তুলে নেন মরিনিয়ো এবং ব্রাহিম দিয়াস ও জুড বেলিংহ্যামকে বদলি নামান।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুর দিকে কয়েকটি ভালো আক্রমণ শাণানো এলচে ৭১তম মিনিটে গোলের দেখা পায় এবং লড়াই জমে ওঠে। বাঁ দিক থেকে সতীর্থের ক্রস ছয় গজ বক্সে পেয়ে জোরাল হেডে বল জালে পাঠান ওসোরিও।
টি-টোয়েন্টি নেতৃত্ব ছাড়লেন নিগার সুলতানা
গোল পেয়ে বেশ আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে এলচে এবং নির্ধারিত সময়ের সাত মিনিট বাকি থাকতে দারুণ এক গোলে ফেভারিটদের হতভম্ব করে দেয় তারা।
প্রতিপক্ষের দুর্বল একটি আক্রমণ রুখে দিয়ে, দারুণ পাসিং ফুটবলে শাণানো পাল্টা আক্রমণে ডি-বক্সে থেকে কোনাকুনি শট নেন নিনো, বল ভালভের্দের পায়ে লেগে দূরের পোস্ট দিয়ে জালে জড়ায়। জায়গায় দাঁড়িয়ে দেখেন তিবো কোর্তোয়া।
গোলের জন্য মরিয়া হয়ে এরপর একসঙ্গে দুটি পরিবর্তন আনেন মরিনিয়ো; মিডফিল্ডার অহেলিয়া চুয়ামেনি ও ডিফেন্ডার ট্রেন্ট অ্যালেকজ্যান্ডর-আর্নল্ডকে তুলে দুই তরুণ ফরোয়ার্ড এন্দ্রিক ও এস্পিকে নামান তিনি।
তাতেই সাফল্য ধরা দেয়। গোলের মূল কৃতিত্ব অবশ্য এমবাপের। বল পায়ে অনেকটা এগিয়ে ডি-বক্সে বাঁদিক থেকে গোলমুখে পাস দেন তিনি এবং বিনা বাধায় বল জালে পাঠান স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড এস্পি।
ছয় ম্যাচ খেলে জয়শূন্যই রইল এলচে। মাত্র ২ পয়েন্ট নিয়ে তলানিতে তারা।
আপন দেশ/এমটিআই
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।





































