ছবি: আপন দেশ
শরীর সুস্থ রাখতে ব্যায়ামের জুড়ি নেই এ কথা সবারই জানা। তবে নিয়মিত শরীরচর্চা যে মস্তিষ্ককেও আরও সক্রিয় করে তুলতে পারে, সেটি হয়তো অনেকেরই অজানা।
স্মৃতি ধরে রাখা থেকে শুরু করে চিন্তাশক্তি বাড়ানো, নিয়মিত ব্যায়াম হতে পারে মস্তিষ্কের সুস্থতারও গুরুত্বপূর্ণ চাবিকাঠি।
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন, তাঁদের মস্তিষ্কের চিন্তা ও স্মৃতিনিয়ন্ত্রণকারী কিছু অংশের আয়তন ব্যায়াম না করা মানুষের তুলনায় বেশি হতে পারে।
বিশেষ করে ছয় মাস থেকে এক বছর নিয়মিত মাঝারি মাত্রার ব্যায়াম করলে মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট কিছু অংশের আয়তন বাড়ার সঙ্গে এর সম্পর্ক পাওয়া গেছে।
ব্যায়াম কীভাবে মস্তিষ্কের উপকার করে?
ব্যায়াম সরাসরি মস্তিষ্কের ওপর প্রভাব ফেলার পাশাপাশি পরোক্ষভাবেও স্মৃতি ও চিন্তাশক্তি ভালো রাখতে পারে।
নিয়মিত শরীরচর্চা মন ভালো রাখতে এবং ঘুমের মান উন্নত করতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে মানসিক চাপ ও উদ্বেগ কমাতেও ভূমিকা রাখতে পারে।
আর মন খারাপ, ঘুমের সমস্যা, মানসিক চাপ ও উদ্বেগ—এসব বিষয় অনেক সময় চিন্তাশক্তি ও স্মৃতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ফলে এসব সমস্যা কমাতে পারলে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতাও ভালো থাকতে পারে।
দোষ চাপানো সঙ্গীকে মোকাবিলা করবেন যেভাবে
মস্তিষ্কের জন্য কোন ব্যায়াম সবচেয়ে ভালো?
মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের জন্য একটি নির্দিষ্ট ব্যায়াম অন্যগুলোর চেয়ে বেশি কার্যকর কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি।
এখন পর্যন্ত হওয়া বেশির ভাগ গবেষণায় হাঁটার মতো ব্যায়াম নিয়েই বেশি পরীক্ষা করা হয়েছে।
হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের স্নায়ুরোগ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক স্কট ম্যাকগিনিসের মতে, হৃদ্স্পন্দন বাড়ায় এমন অন্যান্য বায়বীয় ব্যায়ামেও একই ধরনের উপকার পাওয়া যেতে পারে।
অর্থাৎ দ্রুত হাঁটার পাশাপাশি এমন অন্যান্য ব্যায়ামও মস্তিষ্কের জন্য উপকারী হতে পারে, যেগুলো করলে হৃদ্স্পন্দন বাড়ে।
বয়স্কদের জন্য তাই চি কতটা উপকারী?
বয়স্কদের মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা নিয়ে করা একটি গবেষণায় তাই চি ব্যায়ামেরও সম্ভাব্য উপকারের কথা উঠে এসেছে।
গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছিল বয়স্কদের চিকিৎসাবিষয়ক একটি সাময়িকীতে। এতে দেখা যায়, তাই চি বয়স্কদের চিন্তাশক্তি বাড়াতে সহায়তা করতে পারে। বিশেষ করে পরিকল্পনা করা, কাজের বিষয় মনে রাখা, মনোযোগ দেওয়া, সমস্যা সমাধান এবং কথার মাধ্যমে যুক্তি দেওয়ার মতো মানসিক কাজ নিয়ন্ত্রণে এর উপকার থাকতে পারে।
তাই চি ধীর ও মনোযোগীভাবে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ সঞ্চালনের একটি পদ্ধতি। এতে নতুন কিছু কৌশল ও শরীরের নড়াচড়ার ধরন শেখা এবং মনে রাখার প্রয়োজন হয়। এ কারণেও এটি মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতার জন্য উপকারী হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সপ্তাহে কতক্ষণ ব্যায়াম করবেন?
হার্ভার্ডের বিশেষজ্ঞ স্কট ম্যাকগিনিস ব্যায়ামকে নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত করার পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর মতে, এটি এমনভাবে করতে হবে যেন দৈনন্দিন জীবনের একটি অপরিহার্য কাজ হয়ে ওঠে।
মাঝারি মাত্রার ব্যায়াম, যেমন দ্রুত হাঁটা, সপ্তাহে মোট ১৫০ মিনিট করার লক্ষ্য রাখা যেতে পারে।
তবে শুরুতেই দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করার প্রয়োজন নেই। প্রতিদিন কয়েক মিনিট দিয়ে শুরু করে প্রতি সপ্তাহে সময় ৫ থেকে ১০ মিনিট করে বাড়ানো যেতে পারে। এভাবে ধীরে ধীরে সপ্তাহে ১৫০ মিনিটের লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব।
ফল পেতে সময় লাগতে পারে : ব্যায়াম শুরু করার পরপরই স্মৃতি বা চিন্তাশক্তিতে বড় পরিবর্তন দেখা যাবে—এমনটা আশা না করাই ভালো।
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, ব্যায়ামের মাধ্যমে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতার উপকার পেতে প্রায় ছয় মাস সময় লাগতে পারে।
তাই কয়েক সপ্তাহ ব্যায়াম করার পর কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন না দেখলেও হতাশ হওয়ার কারণ নেই। নিয়মিত ব্যায়ামের অভ্যাস ধরে রাখাই গুরুত্বপূর্ণ।
শরীরের পাশাপাশি মস্তিষ্ককেও সুস্থ রাখতে ব্যায়াম তাই দীর্ঘমেয়াদি অভ্যাস হিসেবে চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সূত্র: হার্ভার্ড
আপন দেশ/এমটিআই





































