Apan Desh | আপন দেশ

আর্থিক অনিয়ম-শিক্ষাসনদ জালিয়াতির অভিযোগ: ডব্লিউএইচও ছাড়লেন সায়মা

আপন দেশ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:২৩, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপডেট: ১৪:২৭, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আর্থিক অনিয়ম-শিক্ষাসনদ জালিয়াতির অভিযোগ: ডব্লিউএইচও ছাড়লেন সায়মা

ফাইল ছবি

অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগের তদন্তের মধ্যেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের পরিচালকের পদ ছেড়েছেন সায়মা ওয়াজেদ। বুধবার (০৯ সেপ্টেম্বর) ডব্লিউএইচওর প্রধান তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুসের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি।

সায়মা ওয়াজেদের বিরুদ্ধে মূলত তিনটি অভিযোগ তদন্ত করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-ডব্লিউএইচও। এর মধ্যে রয়েছে চীন সফরের ভ্রমণ ব্যয়ে আর্থিক অনিয়ম, শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে ভুল তথ্য দেয়া এবং বাংলাদেশে একটি জমির প্লট অবৈধভাবে অধিগ্রহণের অভিযোগ। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সায়মা ওয়াজেদ।

২০২৪ সালের শুরুতে পাঁচ বছরের মেয়াদে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেন পুতুল। 

গত বছরের শেষ দিকে তাকে বিনা বেতনে প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠায় সংস্থাটি। এর আগে মার্চে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগ দায়ের করে।

রয়টার্সের হাতে আসা ০৩ জুলাই, ২০২৬ তারিখের একটি চিঠিতে দেখা যায়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ডব্লিউএইচও পুতুলের বিরুদ্ধে চীন সফরে আর্থিক জালিয়াতি এবং নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতার মিথ্যা তথ্য দেয়ার অভিযোগ এনেছে। তবে পুতুল এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

আইনজীবীদের মাধ্যমে দেয়া ওই চিঠিতে পুতুল দাবি করেন, নিয়মিত ভ্রমণ খরচ ফেরত পাওয়ার আবেদনপ্রক্রিয়ায় একজন সহকারীর প্রশাসনিক ভুলের কারণে বিষয়টি ঘটেছে। অর্থের পরিমাণ ছিল ৯০১ ডলার।

এ ছাড়া নিজের যোগ্যতার বিষয়ে ওঠা অভিযোগের জবাবে তিনি জানান, বাংলাদেশে অটিজম নিয়ে কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি একটি সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি পেয়েছেন। বিষয়টি তিনি মহাপরিচালককে শুরু থেকেই পরিষ্কারভাবে জানিয়ে রেখেছিলেন।

অভিযোগ অস্বীকার 
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান তেদরোস আধানম গেব্রেয়াসুসের কাছে জমা দেওয়া পদত্যাগপত্রে পুতুল উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে একটি প্লট অবৈধভাবে অধিগ্রহণের অভিযোগ করেছে ডব্লিউএইচও।

তবে পুতুল এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তিনি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় যোগদানের আগেই ওই জমির মালিকানা লাভ করেছিলেন। তার দাবি, শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রযোজ্য একটি আইনের আওতায় তিনি তিনি সেই জমির অধিকারী ছিলেন।

আরও পড়ুন<<>>জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব নিলেন খলিলুর রহমান

পদত্যাগপত্রে পুতুল আরও লেখেন, আমি আমার অঞ্চলের দেশগুলোর সেবা করার জন্য আঞ্চলিক পরিচালক পদে নির্বাচিত হয়েছিলাম। আমি আন্তরিকভাবেই তা করেছি।

তিনি লেখেন, যেহেতু আপনি আমাকে আমার দায়িত্ব কার্যকরভাবে পালন করতে বাধা দিচ্ছেন। তাই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় আপনার নেতৃত্বের ওপর থেকে আমার সব ধরনের আস্থা ও বিশ্বাস উঠে গেছে।

তিনি আরও লেখেন, আমাকে বিনা বেতনে ছুটিতে পাঠানোর সিদ্ধান্তের কারণে গত প্রায় এক বছর কোনো বেতন না পাওয়ায় আমার আর্থিক অবস্থা শোচনীয় হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে, আমি পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

পুতুল এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি। গত মাসে সংস্থাটি জানিয়েছিল, পুতুল ছুটিতে আছেন। তবে গোপনীয়তা বজায় রাখার স্বার্থে তার বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল সংস্থাটি।

জানুয়ারিতে নতুন নির্বাচনের পরিকল্পনা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার
নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুটি সূত্র জানিয়েছে, সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদ থেকে সরিয়ে দেয়ার পরিকল্পনা আগেই করেছিল জাতিসংঘের এ সংস্থা।

একটি সূত্র জানায়, ডব্লিউএইচও আগামী ১২ অক্টোবর এই পদের জন্য মনোনয়ন আহবান করবে, ডিসেম্বরে আবেদনপত্র যাচাই-বাছাই করবে এবং ২৪ জানুয়ারি নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আঞ্চলিক পরিচালকরা বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্যনীতি নির্ধারণে অত্যন্ত প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করেন। বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলা, জরুরি স্বাস্থ্য সংকট সামাল দেয়া এবং স্থানীয় পরিস্থিতির সঙ্গে মিলিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নীতিগুলো কার্যকর করাই তাদের প্রধান কাজ।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সদস্য দেশগুলো (বাংলাদেশ ও ভারতসহ) প্রতি পাঁচ বছর অন্তর ভোট দিয়ে এ পরিচালক বেছে নেয়।

আপন দেশ/জেডআই/এবি

মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়