ঢাকা: একাত্তর ও পঁচাত্তরের খুনিরা এখনো দেশে আছে এবং তারাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিঃশেষ করতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম।
তিনি বলেন, 'তারা (খুনিরা) সরকারকে উৎখাত করে গণতন্ত্রকে পদদলিত করতে চায়। এরা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে স্বৈরাচারী কায়দায় ক্ষমতায় যেতে চায়। এই অপশক্তির বিরুদ্ধে আমাদের পুনরায় যুদ্ধ করতে হবে।'
মঙ্গলবার (৮ আগস্ট) সকালে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে স্বেচ্ছাসেবক লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানেএর সহধর্মিণী বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, পাকিস্তানের প্রেতাত্মারা ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু, বঙ্গমাতাসহ তার পরিবারের ১৮ জন সদস্যকে নির্মমভাবে হত্যা করে। সেই খুনীদের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ১৯৮১ সালে দেশে ফিরে এসে আন্দোলন শুরু করেন। তিনি স্বৈরাচার বিরোধী ও গণতন্ত্র হরণকারীদের বিরুদ্ধে সারাদেশের মানুষকে নিয়ে আন্দোলন করেন। দেশরত্ন শেখ হাসিনা আলোর মশাল হয়ে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। দীর্ঘ ২১ বছর তিনি লড়াই সংগ্রাম করে বাংলাদেশকে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠা করেছেন।
তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত সব সময় বাংলাদেশের সম্প্রীতি নষ্ট করতে চায়। এরা দেশকে দ্বিখণ্ডিত করে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়। এরা সাম্প্রদায়িক শক্তির জাগরণ ঘটিয়ে দেশের উন্নয়ন-অগ্রগতিকে নষ্ট করতে চায়। এদের বিরুদ্ধে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এদের সব ষড়যন্ত্র আমরা মোকাবিলা করব।
বঙ্গমাতার কথা স্মরণ করে বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে ১৩ টি বছর কারাগারে ছিলেন। বিশেষ করে ছয় দফা ঘোষণা করার পর পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর চোখে রক্ত চক্ষুশূলে পরিণত হন বঙ্গবন্ধু। যে কারণে বারবার তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। সে সময় জাতির পিতার একজন দক্ষ অনুসারী হিসেবে, জাতির পিতার যে মূল লক্ষ্য ছিল একটি স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা, সে লড়াইয়ে বঙ্গবন্ধুর সৈনিকদের ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের যিনি দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করেছেন এবং মাতৃস্নেহে আগলে রেখেছেন তিনি হলেন বঙ্গমাতা।
তিনিও আরও বলেন, পাকিস্তানের সামরিক জান্তা বিরোধী আন্দোলনের মূল শক্তি ছিল ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। তিনি ছাত্রলীগের নেতাদের সবসময় পরামর্শ দিতেন এবং জাতিরপিতার নির্দেশ ও পরামর্শ তাদের সুন্দরভাবে বুঝিয়ে দিতেন। সে অনুযায়ী ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাদের আন্দোলন সংগ্রাম পরিচালনা করতেন। জাতির পিতার অবর্তমানে তিনি শুধু তার পরিবারের দায়িত্ব পালন করেননি, একজন সফল মা হিসেবে তিনি যেমন পরিবারের সন্তানদের দায়িত্ব পালন করেছেন, তেমনি কোটি মানুষের মুক্তির লক্ষ্যে জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়নে তিনি কাজ করেছেন।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি গাজী মেজবাউল হোসেন সাচ্চু, পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান বাবু।
সভায় আরও বক্তব্য দেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্ত, দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নঈম নিজাম, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ সভাপতি ম. আব্দুর রাজ্জাক ও তানভীর শাকিল জয়।
অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় এবং ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণের বিভিন্ন স্তরের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
আপন দেশ/এবি/এমএমজেড
মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।





































