ঢাকা: বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিরোধী দলকে দমনে গায়েবি মামলা দেয়া হচ্ছে। ভয় দেখিয়ে তারা (সরকার) বিরোধী দলকে দূরে রেখে নির্বাচন করার অপকৌশল করছে। এটা নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করার আলামত। এগুলো কোনো ভালো আলমত না।
তিনি বলেন, তারা (সরকার) বিএনপির জনপ্রিয় নেতাদের নামে করা মিথ্যা মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পিত্তির কৌশল নিয়েছে। যাতে তাদের ফরমায়েশি রায়ে বিএনপি নেতারা নির্বাচনে অংশ নিতে না পারে।
কিন্তু আওয়ামী লীগ সেই সুযোগ পাবে না। এবার নির্দলীয় সরকার ছাড়া এবার কোনো নির্বাচন হবে না। আমাদের দাবি একটাই, সেটা হলো শেখ হাসিনার পদত্যাগ। ফয়সালা রাজপথেই হবে।
শনিবার (২৩ জুলাই) রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ‘তারুণ্যের সমাবেশে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বিএনপির তিন অঙ্গ সংগঠন জাতীয়তাবাদী যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদল যৌথভাবে এ সমাবেশের আয়োজন করে।
এর আগে দুপুর ২টা ১৮ মিনিটে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে এই সমাবেশ শুরু হয়। যুবদল সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন। সমাবেশে প্রধান বক্তা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানী এবং বিশেষ বক্তা ছাত্রদলের সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম।
>>> আরও পড়ুন: ২৭ জুলাই ঢাকায় মহাসমাবেশ করবে বিএনপি
মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমান সরকারকে নিশি রাতের সরকার মন্তব্য করে বলেছেন, এই সরকার অবৈধ সরকার। কারণ তারা (আওয়ামী লীগ) নির্বাচনের আগের রাতে ভোট করেছে। মার্কিন স্যাংশনের পরও তারা থামছে না, ভয় দেখিয়ে জনগণকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে চায়। তবে, এবার সেই খায়েশ পূর্ণ হবে না।
তিনি বলেন, আমাদের একদফা, একদাবি- শেখ হাসিনা ওতার সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে। আওয়ামী রীগ নির্বাচনকে ভয় পায়, তাই তারা ক্ষমতা ছাড়তে চায় না।
বিএনপি মহাসচিব অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার বিচারপতি এ. বি. এম. খায়রুল হকের সহযোগিতায় আদালতের ঘাড়ে বন্দুক রেখে রাতারাতি তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রথা বাতিল করেছে, দেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছে। ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখতে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন পদ্ধতি চালু করেছে। যাতে তারা ভোট চুরি করে সহজেই ক্ষমতা ধরে রাখতে পারে। এভাবে তারা বিগত দুটি সংসদ নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করেছে।
তিনি বলেন, কিন্তু এবার আর সেই সুযোগ আওয়ামী লীগ পাবে না, তাদেরকে সেই সুযোগ দেওয়া হবে না। এবার তরুণ সমাজ জেগে উঠেছে। তরুণ সমাজ দেশ রক্ষায় আবারও এগিয়ে আসায় আমি তাদের ধন্যবাদ জানাই।
>>> আরও পড়ুন: তারুণ্যের সমাবেশের মঞ্চ ভেঙে সাংবাদিকসহ আহত ২
তিনি আরও বলেন, শুধু আমরা বলি না, জাতীয় পার্টি (জাপা), যারা এখন সংসদে তারাও বলেছে এই সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন, কমিউনিস্ট পার্টি সবাই একই কথা বলছে। তারাও একই কথা বলছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, তিনি (শেখ হাসিনা) তসবিহ হাতে নিয়ে ভোট ভিক্ষা করে বলেছিলেন আমাদের আরেকবার সুযোগ দেন। আমারা সরকার গঠন করতে পারলে ১০ টাকা কেজিতে চাল খাওয়াব, ঘরে ঘরে চাকরির ব্যবস্থা করব। সব মিথ্যা আশ্বাস, কেউ ঘরে ঘরে চাকরি পায়নি। কারো চাকরি হয না। শুধু তাদের দলের লোকজনের ছাড়া।
সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, তারা হিরো আলমকেও ছাড় দেয়নি। ছেলেটা আশা করে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল। মনে করেছিল অন্তত তাকে ভোট করতে দেবে। কিন্তু আওয়ামী লীগকে সে চেনে নাই। আওয়ামী লীগ ভোটে বিশ্বাস করে না। তাদের সুষ্ঠু ভোট করার সাহস নেই।

সমাবেশে তিনি চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে আগামী বৃহস্পতিবার (২৭ জুলাই) ঢাকায় শান্তিপূর্ণ মহাসমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
>>> আরও পড়ুন: তারুণ্যের সমাবেশ শুরুর আগেই ভেঙে পড়লো মঞ্চ
সমাবেশে সাবেক ডাকসু ভিপি ও ঢাকা উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান বলেন, আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় পাবেন না। শেখ হাসিনাকে বিদায় নিতেই হবে। যদি আপনাদের কাউকে প্রেফতার করা হয় তাহলে পরিবারের সদস্যদের থানার সামনে পাঠায়ে দেবেন, তারা থানার সামনে বসে পড়বে।
যুবদলের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, আমরা ৪ কোটি ২০ লাখ তরণকে তাদের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিতে চাই। সরকার হিরো আলমকে কুকুরের মতো পিটিয়ে ‘কুত্তা মার্কা’ নির্বাচন করেছে।
সরকার প্রধানকে ভোট চোর আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, আমরা এই ভোট চোরকে তাড়িয়ে দেশে ভোটধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করব। দেম এবং দেশের মানুষ এই সরকারের কাছে নিরাপদ নয়। আমাদের এ পর্যন্ত ১৮ জন শহীদ হয়েছেন। তাদের রক্তের কসম খেয়ে বলছি, এই সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত, খালেদা জিয়াকে মুক্ত না করা পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছেড়ে যাব না।
ছাত্রদল সভাপতি কাজী রওনুকুল ইসলাম শ্রাবন বলেন, আমরা যে লক্ষ্যে দুই মাস আগে এই তারুণ্যের সমাবেশ শুরু করেছিলাম আজকের এই সমাবেশের মাধ্যমে সেই লক্ষ্যের কাছকাছি পৌঁছে গেছি। আমরা কথা দিয়েছিলাম বর্তমান ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন না পর্যন্ত, গণত্রন্ত্র ও দেশের মানুষের ভোটাধিকার না ফিরিয়ে দেয়া পর্যন্ত মাঠে থাকব। আমরা আবারও একই ওয়াদা করছি।
তিনি বলেন, আমরা খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি জানাতে চাই না। আমরা শেখ হাসিনার পতন চাই। এই ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ঘটিয়ে আমাদের প্রিয় নেত্রী দেশমাতা খালেদা জিয়াকে আমাদের মাঝে ফিরিয়ে আনব। তারেক রহমানকে বীরের বেশে দেশে ফিরিয়ে আনব। এজন্য যদি শহীদ হতে হয় তার জন্যও আমরা প্রস্তুত আছি।
যুবদলের সাবেক সভাপতি সাইফুল আলম নীরব বলেন, আমরা বিগত ১৫ বছরে দুটি সংসদ নির্বাচনসহ কোনো স্থানীয় নির্বাচনে ভোট দিতে পারিনি। আমরা সেই অধিকার দেশের মানুষকে ফিরিয়ে দিতে চাই। আমরা আওয়ামী সন্ত্রাসীদের দেশের প্রচলিত আইনে বিচার চাই।
তিনি বলেন, আমরা শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারি, ব্যাংকের অর্থ পাচারকারীদের আইনের আওতায় আনতে তরুণদের সহযোগিতা চাই। আমাদের হাত শক্তিশারী হলে খালেদা জিয়া-তারেক রহমানের হাত শক্তিশালি হবে। মানুষের বাকস্বাধীনতা ফিরে আসবে।
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এসএম জিলানী, বিএনপির ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, ফরিদপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, সহ-প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক মো. মোর্শেদ হাসান খান প্রমুখ।
যৌথভাবে সভা পরিচালনা করেন যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম মিল্টন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান ও ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল।
আপন দেশ/এমএমজেড/এবি
মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।





































