ছবি: আপন দেশ
রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগের মধ্যে বিএনপির সংরক্ষিত নারী এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে পদত্যাগের নির্দেশ দেয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে জামায়াতের সাবেক এমপি গাজী নজরুল ইসলাম ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর প্রসঙ্গ টেনে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে নিজের ফেসবুক পেজে দেয়া এক পোস্টে রাশেদ খাঁন বিএনপির অবস্থান তুলে ধরেন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়ন নিয়ে এমপি হওয়া গাজী নজরুল ইসলামকে যদি দলটির আমীর ডা. শফিকুর রহমান পদত্যাগে বাধ্য করতেন, তাহলে মাত্র ১৯ বছর বয়সে মরিয়ম খাতুনকে দুনিয়া ছাড়া লাগতো না
মূলত, মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার (মা ও শিশুস্বাস্থ্য কেন্দ্র) গুঁড়িয়ে দেয়ার ঘটনায় নাম জড়ানোয় ফেরদৌস আহমেদ মিষ্টিকে সংসদ সদস্য (এমপি) পদ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেই বিষয়টি তুলে ধরতে গিয়েই বিতর্কিত এমপি গাজী নজরুলের প্রসঙ্গটি টেনে আনেন রাশেদ খাঁন।
আরও পড়ুন <> মিষ্টি দিয়েই কড়া বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রীর এই রাজনৈতিক সহকারী তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় সংরক্ষিত নারী এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন। বিএনপি কোনো অপরাধীকে প্রশ্রয় দেয় না এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এটি আবারও প্রমাণিত হলো।
এরপরই রাশেদ খাঁন লিখেন, জামায়াত এমপি গাজী নজরুল ইসলামকেও যদি জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান পদত্যাগ করতে বাধ্য করতেন, তাহলে হয়তো ছোট্ট মেয়ে মরিয়মের দুনিয়া ছাড়া লাগতো না।
পোস্টে তিনি আরও লিখেন, প্রধানমন্ত্রীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে যারা অপচেষ্টা করবে এবং যারা নিজের স্বার্থের জন্য দলের নাম ভাঙিয়ে অপকর্মে লিপ্ত হবে, তাদের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর একটি সিদ্ধান্তই যথেষ্ট হবে।
রাশেদ খাঁন লিখেন, দেশ ও জনগণের কথা চিন্তা করে প্রধানমন্ত্রী যে পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন, সেটি বাস্তবায়নে সহযোগিতা করুন। তার উদ্যোগ ও ভালো কাজ কোনো ব্যক্তির অপরাধে মলিন হওয়ার সুযোগ নেই; তিনি সুযোগ দেবেন না, ইনশাআল্লাহ।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর দিনগত রাতে মিরপুর-১ নম্বরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। পরে ভারী যন্ত্র দিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির স্থাপনাও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠে।
এ নিয়ে বুধবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভাঙচুরের ঘটনায় সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির বিষয়টি তদন্তাধীন। তদন্তে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।
ফেরদৌস আহমেদ মিষ্টি ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক পদেও দায়িত্ব পালন করছিলেন। বুধবার রাতে মহানগর উত্তরের ওই কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। এরপর তার সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের বিষয়টি স্পষ্ট হয়।
ফেরদৌস আহমেদ মিষ্টির অতীত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়েও বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ ও বিতর্ক ছিল। তিনি ওয়ার্ড কাউন্সিলর থাকাকালে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও জমি দখলসহ বিভিন্ন অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের কারণে তার রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়েও বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল।
দলীয় সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে এমপি পদ ছাড়ার পাশাপাশি তাকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদ থেকেও পদত্যাগ করতে হতে পারে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
আপন দেশ/এমটিআই
মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।





































