Apan Desh | আপন দেশ

বিএনপিপন্থি ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের নতুন কমিটি নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ  

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৬:০২, ৩১ আগস্ট ২০২৫

আপডেট: ১৬:৪৪, ৩১ আগস্ট ২০২৫

বিএনপিপন্থি ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের নতুন কমিটি নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ  

ডিইএব’র লোগো

বিএনপিপন্থি ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের সংগঠন ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিইএব) নবগঠিত কমিটি নিয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন সংগঠনটির পদবঞ্চিতরা। অবশ্য কমিটি ঘোষণার খবর জানতে পেরে তা স্থগিতের দাবিতে কিছুদিন আগে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তারা।

পদবঞ্চিতদের দাবি, ডিইএব’র নতুন কমিটির ৩৩ সদস্যের মধ্যে অন্তত ২৭ জন নেতা নতুন কমিটিকে ভালোভাবে নেননি। ৩১ নম্বর সদস্য কাজী মো. ইলিয়াছ ফেসবুকে লিখেছেন, তিনি কমিটি সম্পর্কে অবগত নন। এ বিষয়ে তাকে নিয়ে কেউ যাতে ফেসবুকে পোস্ট না করে। কয়েকজন পদত্যাগ করবেন বলে জানিয়েছেন।

পদবঞ্চিতরা বলেন, বিশেষ কয়েকজন নেতার অনুসারীদের সমন্বয়ে এ কমিটি করা হয়েছে। তারা বলেন, এ কমিটি যে কোনো সময় বাতিল হতে পারে। একদিনও নতুন কমিটির কার্যক্রম চলতে দেয়া হবে না। যাদের দিয়ে নতুন কমিটি করা হয়েছে তারা বিগত ১৫ বছরে রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় ছিলেন। বেশিরভাগই বিগত কমিটিতে ছিলেন না এবং বিগত কমিটির কয়েকজনকে পদাবনতি করা হয়েছে।

অন্যদিকে, ছাত্রদলের সাবেক নেতা এবং বিগত কমিটির সক্রিয় নেতাদের নতুন কমিটিতে কোনো পদ দেয়া হয়নি। এটি ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে প্রকৌশলীদের চলমান আন্দোলনে এ কমিটিতে আরও অস্থিরতা তৈরি করবে। কেননা ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের সংগঠনে ডিগ্রিধারীদেরও পদ দেয়া হয়েছে। সভাপতি নিজেই বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার।

আরওপড়ুন<<>>নুরের খোঁজ নিলেন খালেদা জিয়া

জানা গেছে, শনিবার (৩০ আগস্ট) রাতে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ডিইএব’র ৩৩ সদস্যের নতুন কমিটি গঠন করা হয়। এতে প্রকৌশলী মো. হানিফকে আহবায়ক এবং প্রকৌশলী কাজী সাখাওয়াত হোসেনকে সদস্য সচিব করা হয়েছে। এছাড়া ৮ জনকে যুগ্ম আহবায়ক এবং ২৩ জনকে সদস্য করা হয়েছে। কমিটি ঘোষণার পরপরই বিএনপিপন্থি ডিপ্লোমা প্রকৌশলী ও ডিইএব’র বিগত কমিটির নেতাদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়।

নতুন কমিটিতে পদবঞ্চিত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন নেতা অভিযোগ করে বলেন, তারা বিগত ১৫ বছরে আওয়ামী লীগের দুঃশাসনে হামলা-মামলা মোকাবিলা করে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন। ছাত্রজীবনে ছাত্রদল করেছেন। অথচ তাদের বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগের দোসরদের সমন্বয়ে ডিইএব’র নতুন কমিটি করা হয়েছে। যা ত্যাগী, কারা নির্যাতিত নেতাকর্মী এবং শহীদদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি।

নতুন ৮ জনকে ডিইএব’র কমিটিতে পদ দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তারা হলেন- যুগ্ম আহবায়ক মো. সাইফুল ইসলাম রনি, যুগ্ম আহবায়ক মো. সোহেল রানা স্বপন, সদস্য মো. হুমায়ুন কবির শামিম, সদস্য গাজী মো. সেলিম, সদস্য মো. আশরাফুল হোসেন শাকিল, সদস্য কাজী মো. ইলিয়াস, সদস্য মো. শফিউল আজম সোহেল এবং সদস্য মো. মিজানুজ্জামান রুবেল।

পদবঞ্চিত নেতা ও বিগত কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া রুবেল বলেন, নতুন কমিটিতে অনেক নতুন লোককে পদ দেয়া হয়েছে। এখানে একটি গ্রুপের লোকদের পদায়ন করা হয়েছে। অনেকেই বিগত দিনে আন্দোলনে নিষ্ক্রিয় ছিল। অথচ আমি আওয়ামী লীগ আমলে চাকরি হারিয়েছি, জেল খেটেছি, রাজপথের আন্দোলনে ছিলাম। তবুও আমাকে কমিটিতেই রাখা হয়নি। এসব ঘটনায় জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে।

আরওপড়ুন<<>>‘সবাইকে নিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক দেশ গড়তে চায় বিএনপি’

এদিকে ডিইএব’র কমিটি স্থগিত করার দাবিতে তারেক রহমানের কাছে অভিযোগপত্র দিয়েছেন জাতীয়তাবাদী আদর্শের ডিপ্লোমা প্রকৌশলীরা। অভিযোগে বলা হয়, প্রকৌশলী মো. হানিফ ও প্রকৌশলী কাজী সাখাওয়াত হোসেন সংগঠনের প্রাক্তন সদস্য হলেও তাদের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য তৃণমূলে তারা এখন যথেষ্ট বিতর্কিত। মোহাম্মদ হানিফ ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ছাত্রশিবিরের সভাপতি ছিলেন। ১৯৮০ সালে ছাত্রশিবির থেকে ভিপি নির্বাচন করেন তখন। বর্তমান ডিইএব কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি প্রকৌশলী ইবনে ফজল সাইফুজ্জামান সন্টু জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে সরাসরি ভোটে ভিপি নির্বাচিত হন। কাজী শাখাওয়াত হোসেন আইডিইবির সদস্য সচিব হয়ে আইডিইবিতে ব্যাপক লুটপাট ও অনিয়মের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে পড়েন। যা বাংলাদেশের সব ডিপ্লোমা প্রকৌশলী অবগত। ওই বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয় এবং তাকে আইডিবিতে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে একাধিক মামলা প্রক্রিয়াধীন।

আরও বলা হয়, সংগঠনটিকে একটি লিমিটেড কোম্পানির মতো ব্যবহার করার উদ্দেশ্যে ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট ৩০০ টাকার নন জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে কাজী সাখাওয়াত হোসেন এবং মোহাম্মদ হানিফ চুক্তিবদ্ধ হন। সে পরিকল্পনা অনুযায়ী ত্যাগী নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় মিথ্যা প্রোপাগান্ডা চালানো হয়। সংগঠনকে একাধিক গ্রুপে বিভক্ত করে একে অপরের পেছনে লাগিয়ে দেয়াই তাদের মূল কাজ। এর আগে কাজী সাখাওয়াত হোসেন বিভিন্ন জেলা কমিটি গঠনে বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়েন। প্রকৌশলী মোহাম্মদ হানিফ বিগত আট বছর এ সংগঠন থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলেন। তিনি ২০২৩ সাল থেকে বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামী অংশগ্রহণ করলেও ডিইএব এর ব্যানারে কখনও অংশগ্রহণ করেননি। এমনকি ডিইএব’র পরিচয় দিতেন না।

শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের কথিত শ্বশুর আজিজ খানের মালিকানাধীন সামিট টেলিকমের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা আবেদুর রহমানকে ৫ আগস্টের পর কাজী সাখাওয়াত হোসেন তার রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেন। আজিজ খান একটি গাড়িসহ সব সুযোগ-সুবিধা দেন। সে কর্মকর্তাকে নিয়ে কাজী শাখাওয়াত হোসেন ডিইএব’র বিভিন্ন জেলা কমিটিসহ কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। মো. হানিফ ও কাজী সাখাওয়াত হোসেনের নেতৃত্বে তথাকথিত কমিটি অনুমোদন হলে সারা জাতীয়তাবাদী আদর্শের ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ এবং বিদ্রোহ হবে। আপনি (তারেক রহমান) আমাদের অভিভাবক আপনার কাছে কমিটি স্থগিতের আবেদন করছি।

জানতে চাইলে ডিইএব’র নতুন কমিটির আহবায়ক আবু হানিফ বলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন ও ইঞ্জিনিয়ার শাহরিন ইসলাম তুহিন সমন্বয় করে নতুন কমিটি দিয়েছেন। তারাই ভালো জানেন। দুই-একজন কমিটিতে পদ পাওয়া প্রসঙ্গে অবগত নন বলে আমিও শুনেছি। তবে যারা আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে সেগুলো সঠিক নয়। আমি সামনের সারিতে থেকে আন্দোলন করেছি।

আপন দেশ/এমএইচ

মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

সম্পর্কিত বিষয়:

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

জনপ্রিয়