Apan Desh | আপন দেশ

ইউপি নির্বাচনে প্রার্থীদের জামানত বাড়লো

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ২০:৪৫, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপডেট: ২০:৪৬, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইউপি নির্বাচনে প্রার্থীদের জামানত বাড়লো

ফাইল ছবি

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে প্রার্থীদের জামানত বাড়িয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এছাড়া নির্বাচনে প্রদত্ত ভোটের ন্যূনতম ১৫ শতাংশ না পেলে প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হবে বলে জানানো হয়েছে।

একইসঙ্গে চেয়ারম্যান প্রার্থীকে হলফনামা দেয়ার বিধানও রেখেছে ইসি।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত ইউপি নির্বাচন বিধিমালা (সংশোধনী) প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

বিধিমালায় বলা হয়েছে, চেয়ারম্যান প্রার্থীর জামানত পাঁচ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ হাজার টাকা করা হয়েছে। এছাড়া সদস্য প্রার্থীর এক হাজার থেকে বাড়িয়ে পাঁচ হাজার টাকা নির্ধারণ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

একইসঙ্গে চেয়ারম্যান প্রার্থীর নির্বাচনি ব্যয়ের সর্বোচ্চ সীমা ১০ লাখ টাকা ও সদস্য প্রার্থীর দুই লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন বিধান অনুযায়ী, নির্বাচনে প্রদত্ত ভোটের ন্যূনতম ১৫ শতাংশ না পেলে প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। একইসঙ্গে চেয়ারম্যান প্রার্থীকে হলফনামা দেয়ার বিধানও রাখা হয়েছে।

এছাড়া প্রার্থীদের ট্রেজারি চালান, পে-অর্ডার বা ব্যাংক ড্রাফটের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার অনুকূলে জমা দিতে হবে। কোনো প্রার্থীর পক্ষে একাধিক মনোনয়নপত্র দাখিল করা হলেও একাধিক জামানত দিতে হবে না। অন্য দিকে এর আগে চেয়ারম্যান পদে পাঁচ হাজার ও সদস্যদের এক হাজার টাকা জামানত ছিল।

জামানত ফেরতের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, কোনো প্রার্থী সংশ্লিষ্ট নির্বাচনে প্রদত্ত মোট ভোটের অন্তত ১৫ শতাংশ পেলে তার জামানতের অর্থ ফেরত দেয়া হবে। ১৫ শতাংশের কম ভোট পেলে জামানত বাজেয়াপ্ত করে সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে।

এছাড়া জামানত ফেরত পাওয়ার যোগ্য কোনো প্রার্থী সরকারি গেজেটে নির্বাচনের ফল প্রকাশের ছয় মাসের মধ্যে তা না নিলে ওই অর্থ অফেরতযোগ্য হিসেবে সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে। এর আগে ১২.৫ শতাংশের কম ভোট পেলে জামানত বাজেয়াপ্ত করা হতো।

বিগত ইউপি নির্বাচনগুলোতে চেয়ারম্যান প্রার্থীর নির্বাচনি হলফনামা দাখিলের বিধান ছিল না। নতুন বিধিমালায় বিধানটি যুক্ত করা হয়েছে। তবে সদস্য প্রার্থীর ক্ষেত্রে বিধানটি রাখা হয়নি।

সংশোধিত বিধিমালায় নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কমিশনের ক্ষমতাও বাড়ানো হয়েছে। কোনো উৎস থেকে পাওয়া রেকর্ড বা লিখিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কোনো প্রার্থী বা তার নির্বাচনি এজেন্টের বিরুদ্ধে বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রতীয়মান হলে কমিশন তাৎক্ষণিক তদন্তের নির্দেশ দিতে পারবে।

আরও পড়ুন <<>> ইউপি নির্বাচনে যেসব প্রতীক পাবেন প্রার্থীরা

তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে কমিশন লিখিত আদেশে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করতে পারবে। এ আদেশ সংশ্লিষ্ট প্রার্থী, তার নির্বাচনি এজেন্ট ও রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানাতে হবে। সরকারি গেজেটে প্রকাশের ব্যবস্থা করতে হবে।

এছাড়া কোনো ভোটকেন্দ্রের ফলাফল বলপ্রয়োগ, ভীতি প্রদর্শন, কারসাজি বা অন্য কোনো অপকর্মের কারণে চরমভাবে পক্ষপাতদুষ্ট হলে কমিশন ওই কেন্দ্রের ফলাফল স্থগিত করতে পারবে। অনুসন্ধানের পর প্রয়োজন মনে করলে ওই কেন্দ্রের নির্বাচন বাতিল করে পুনরায় ভোটগ্রহণের নির্দেশও দিতে পারবে।

সংশোধিত বিধিমালায় চেয়ারম্যান প্রার্থীর নির্বাচনি ব্যয়ের সর্বোচ্চ সীমা ১০ লাখ টাকা। সদস্য প্রার্থীর জন্য দুই লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্বাচন-পূর্ব সময়ে নির্বাচনি প্রচারণার ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদ (নির্বাচন আচরণ) বিধিমালা, ২০২৬-এর বিধান প্রযোজ্য হবে।

ওই বিধিমালার পরিপন্থী কোনো কার্যক্রমে অর্থ ব্যয় করা যাবে না। চেয়ারম্যান প্রার্থীর নির্বাচনি ব্যয়ের হিসাব পরিচালনার জন্য তফসিলি ব্যাংকে আলাদা হিসাব খোলার বিধানও রাখা হয়েছে। নির্বাচনি ব্যয়ের সব অর্থ ওই হিসাব থেকে ব্যয় করতে হবে।

কোনো খাতে ২০ হাজার টাকা বা তার বেশি ব্যয় হলে তা চেকের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে। এর আগে চেয়ারম্যান প্রার্থীর সর্বোচ্চ ব্যয়সীমা ছিল পাঁচ লাখ ও সদস্য প্রার্থীর এক লাখ টাকা।

দুই বা ততোধিক প্রার্থী সর্বোচ্চ সমান ভোট পেলে লটারির পরিবর্তে পুনঃভোটের বিধান করা হয়েছে। সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী, এ ধরনের পরিস্থিতিতে সর্বোচ্চ সমভোট পাওয়া প্রার্থীদের মধ্যে পুনরায় ভোট গ্রহণের জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেবে কমিশন।

দৃষ্টি বা শারীরিক প্রতিবন্ধী কিংবা অন্য কোনো কারণে সহায়তা প্রয়োজন- এমন ভোটারকে ভোটদানে সহায়তার জন্য কমপক্ষে ২১ বছর বয়সী একজন ব্যক্তিকে সঙ্গে নেয়ার অনুমতি দিতে পারবেন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা। ভোটার নিজে ব্যালট পেপারে চিহ্ন দিতে না পারলে তার নির্দেশনা অনুযায়ী সহায়তাকারী চিহ্ন দিতে পারবেন।

তবে সহায়তাকারী কোনো প্রার্থী, প্রার্থীর এজেন্ট, ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য হতে পারবেন না। সহায়তাকারীকে ভোটারের পছন্দ গোপন রাখার নির্দেশনা দিতে হবে। এ ধরনের ভোটারের তালিকাও সংরক্ষণ করবেন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা।

নির্বাচনি দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি, কমিশন অনুমোদিত গণমাধ্যমকর্মী বা পর্যবেক্ষককে হুমকি, ভয়ভীতি, আঘাত বা বল প্রয়োগ করে বাধা দেয়া কিংবা তাদের ব্যবহৃত সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত করা অপরাধ। একইভাবে ভোটারকে ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দেয়া, প্রার্থীকে মনোনয়নপত্র দাখিল থেকে বিরত রাখা বা প্রত্যাহারে বাধ্য করাও অপরাধ। এসব অপরাধে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।

ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচনি অপরাধ ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়গুলো মনিটরিং করতে প্রয়োজনীয়সংখ্যক মনিটরিং কমিটি গঠন করতে পারবে কমিশন।

কোনো প্রার্থী, নির্বাচনি এজেন্ট বা পোলিং এজেন্ট নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত না থাকলেও তাদের অনুপস্থিতির কারণে আইনানুগভাবে সম্পন্ন কোনো কার্যক্রম অবৈধ হবে না। তবে রিটার্নিং বা প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে তাদের উপস্থিতি নিশ্চিতের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করতে হবে। অনুপস্থিতির কারণ লিখিতভাবে কমিশনকে জানাতে হবে।

আপন দেশ/এসএস

মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়