Apan Desh | আপন দেশ

সর্বজনীন পেনশনে পরিবর্তনসহ শরিয়াহভিত্তিক স্কিমের অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ 

প্রকাশিত: ১৮:৩০, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপডেট: ১৮:৩৬, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সর্বজনীন পেনশনে পরিবর্তনসহ শরিয়াহভিত্তিক স্কিমের অনুমোদন

ফাইল ছবি, আপন দেশ

সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় একাধিক পরিবর্তন আনা হয়েছে। সে সঙ্গে ইসলামিক স্কিম চালুর অনুমোদন দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সচিবালয়ে সর্বজনীন পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. সুরাতুজ্জামান।

তিনি জানান, পেনশনারের মৃত্যুর পর তার স্পাউসের পেনশন পাওয়ার বয়সসীমা পাঁচ বছর বাড়ানো হয়েছে। আগে ৭৫ বছর বয়স পর্যন্ত এ সুবিধা পাওয়া যেত। এখন তা বাড়িয়ে ৮০ বছর করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সর্বজনীন পেনশন কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ অনুমোদন দেয়া হয়। সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান তিনি।

সভায় সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় কোনো পেনশনার মারা গেলে তার স্বামী বা স্ত্রী এখন থেকে ৮০ বছর বয়স পর্যন্ত পেনশন পাবেন। যা আগে ছিল ৭৫ বছর পর্যন্ত। এছাড়া পেনশন পাওয়ার বয়স ৬০ বছর থেকে কমিয়ে ৫৫ বছর করার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হলেও এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানান তিনি। ফলে আপাতত ৬০ বছর বয়সেই পেনশন পাওয়ার নিয়ম বহাল থাকছে।

ড. মো. সুরাতুজ্জামান বলেন, পেনশনার আজীবন পেনশন পাবেন। আর তার স্পাউস ৮০ বছর বয়স পর্যন্ত পেনশন পাবেন। সাধারণত স্ত্রী বা স্বামীকে স্পাউস হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
এছাড়াও সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় শরিয়াহভিত্তিক স্কিম চালুর অনুমোদন দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। প্রচলিত স্কিমের পাশাপাশি শরিয়াহভিত্তিক পদ্ধতিতে পেনশনের সুযোগ তৈরির প্রক্রিয়া এখন শুরু হবে।

নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন, সর্বজনীন পেনশন স্কিমের ইসলামিক ভার্সন অনুমোদন হয়েছে। এটি চালুর আগে কাঠামো ও পরিচালনপদ্ধতি চূড়ান্ত করতে হবে। এ জন্য এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও স্থানীয় পরামর্শকেরা কাজ করছেন। একচুয়ারিয়াল বিশ্লেষণসহ প্রয়োজনীয় কাজ শেষে বিধিমালা প্রণয়ন করা হবে।

৫৫ বছরে পেনশন নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি জানিয়ে ড. সুরাতুজ্জামান বলেন, ৫৫ বছর বয়সে পেনশন দেয়ার বিষয়টি আপাতত সিদ্ধান্ত হয়নি। একচুয়ারিয়াল সায়েন্সে নিয়োগ পাওয়া বিশেষজ্ঞের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী গভর্নিং বডির সভায় বিষয়টি আবার উপস্থাপন করা হতে পারে।

তিনি জানান, সর্বজনীন পেনশন কর্তৃপক্ষের তহবিল বিনিয়োগ করে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১১ দশমিক ৭২ শতাংশের বেশি মুনাফা হয়েছে। সভায় এ মুনাফা অনুমোদন করা হয়েছে। 

আরও পড়ুন<<>>নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: প্রতিমন্ত্রী টুকু

তবে মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পেনশনভোগীদের মুনাফা দেয়ার বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তহবিলের পরিধি আরও বাড়লে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানান নির্বাহী চেয়ারম্যান।

নিবন্ধনে প্রণোদনা বাড়ানো হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সর্বজনীন পেনশনে মানুষকে যুক্ত করতে নিবন্ধনের প্রণোদনা বাড়ানো হয়েছে। ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার (ইউডিসি), মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ও ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান একজন নতুন সদস্য নিবন্ধন করালে ২৫ টাকা পাবে। আগে এ প্রণোদনা ছিল ১৫ টাকা।

ড. সুরাতুজ্জামান বলেন, প্রণোদনা বাড়ানো হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো আরও বেশি মানুষকে নিবন্ধনের আওতায় আনার চেষ্টা করবে। ডাক বিভাগ ছাড়া যেসব সরকারি মালিকানাধীন কোম্পানির কর্মীরা বর্তমানে কোনো পেনশন স্কিমের আওতায় নেই, তাদের প্রগতি স্কিমে আনার উদ্যোগ নেয়া হবে।

এ ছাড়া বিদেশগামী কর্মীদের প্রবাস স্কিমে যুক্ত করতে বিদেশ যাওয়ার আগে ডিপার্চার ওরিয়েন্টেশনের সময় তাদের এ বিষয়ে জানানো হবে। হাতে তুলে দেয়া হবে লিফলেট ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র। সরকারি ব্যবস্থায় বিদেশ যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রবাস স্কিমে নিবন্ধনকে শর্ত করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

এছাড়াও পেনশন তহবিল থেকে ঋণ দেয়ার বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ঋণ দিলে কাঙ্ক্ষিত রিটার্ন নিশ্চিত করা যাবে কি না, সুদের হার ও অন্যান্য শর্ত পর্যালোচনার পর সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

একইভাবে সর্বজনীন পেনশনের আওতায় স্বাস্থ্যবীমা চালুর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে এখনই এটি চালু করা হচ্ছে না। আরও বিশ্লেষণের মাধ্যমে সম্ভাব্য আর্থিক চাপ ও ঝুঁকি যাচাই করে পরে মডেল চূড়ান্ত করা হবে।

ড. সুরাতুজ্জামান বলেন, সরকারি নিয়মে সাধারণ অডিটের পাশাপাশি নির্বাচিত একটি বেসরকারি সিএ ফার্ম দিয়ে অডিট করানো হবে। এতে কর্তৃপক্ষের হিসাব ও আর্থিক কার্যক্রম আরও স্বচ্ছ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আপন দেশ/এসআর

মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

সম্পর্কিত বিষয়:

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়