ফাইল ছবি
আজ ২৮ জুন (রোববার) আন্তর্জাতিক বজ্রপাত নিরাপত্তা দিবস। বজ্রপাতের ঝুঁকি সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করা এবং নিরাপদ আচরণ সম্পর্কে শিক্ষা দেয়ার লক্ষ্যে প্রতি বছর এ দিনে দিবসটি উদযাপন করা হয়। ‘শুনলে বজ্রধ্বনি, ঘরে যাই তখনই’ এ স্লোগানে নানা আয়োজনে দেশে পালিত হচ্ছে দিবসটি।
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিশ্বের অনেক অঞ্চলে বজ্রঝড়ের প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে বজ্রপাতজনিত দুর্ঘটনাও বাড়ছে। এ বাস্তবতায় দিবসটি মানুষের মাঝে সতর্কতা ও প্রস্তুতির গুরুত্ব তুলে ধরে। বিশেষ করে কৃষক, জেলে, নির্মাণশ্রমিক এবং খোলা আকাশের নিচে কাজ করা মানুষেরা বজ্রপাতের ঝুঁকিতে বেশি থাকেন। তাদের জন্য সচেতনতামূলক কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আবহাওয়া দফতরের পক্ষ থেকে বলা হয়, বজ্রপাতে মৃত্যুর সংখ্যা কমাতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় প্রচার প্রচারণা বাড়াতে হবে। এতে মিডিয়ার পাশাপাশি মোবাইল অপারেটরদের এগিয়ে আসতে হবে। আর্লি ওয়ার্নিংয়ের একাধিক মাধ্যম করা যায় কিনা সে বিষয়ে কাজ চলছে।
এছাড়া প্রথম বজ্রপাত শোনার পর অন্তত ৩০ মিনিট বাসায় অবস্থানের পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। কর্মকর্তারা জানান, অধিক বজ্রপাত প্রবণ ১৫টি জেলায় প্রায় ৭ হাজারের মতো বর্জ্যনিরোধ ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপনের কথাও জানান তারা।
এদিকে বিশ্বের সর্বাধিক বজ্রপাত প্রবণ দেশ হিসেবে ব্রাজিল পরিচিত। অন্যদিকে, ভেনেজুয়েলার লেক মারাকাইবো অঞ্চল পৃথিবীর সবচেয়ে বজ্রপাত-প্রবণ এলাকা হিসেবে স্বীকৃত। বাংলাদেশ আয়তনে ছোট হলেও দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বজ্রপাত-ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। বিভিন্ন গবেষণা অনুযায়ী, এ দেশে প্রতি বছর গড়ে ২০০ থেকে ২৫০ জনেরও বেশি মানুষ বজ্রপাতে প্রাণ হারান, সে সঙ্গে আহত হন অনেকে। হতাহতদের একটি বড় অংশই কৃষক, জেলে এবং মাঠে কর্মরত শ্রমজীবী মানুষ। আর পশু পাখি তো অগুনিত।
আরও পড়ুন<<>>আজ আন্তর্জাতিক বন দিবস, বনভূমি ধ্বংস নিয়ে শঙ্কা
বিজ্ঞানীদের মতে, বজ্রপাত সাধারণত ভূমির সবচেয়ে উঁচু ও বিদ্যুৎ পরিবাহী বস্তুকে আঘাত করে। এ কারণে তালগাছকে প্রাকৃতিক বজ্রনিরোধক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর দীর্ঘ, সোজা ও দৃঢ় কাঠামো বজ্রপাতকে আকর্ষণ করে এবং বিদ্যুৎকে দ্রুত মাটিতে পৌঁছে দিতে সহায়তা করে। ফলে উন্মুক্ত মাঠে মানুষ ও গবাদিপশুর ঝুঁকি অনেকটা কমে যায়। তাই পরিবেশ সংরক্ষণ ও দুর্যোগ প্রশমনে তালগাছ রোপণ একটি কার্যকর ও টেকসই উদ্যোগ হতে পারে।
বাংলাদেশ সরকার বজ্রপাতকে ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগ’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে আগাম সতর্কবার্তা প্রদান, জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এছাড়া বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও বিত্তবান ব্যক্তিরাও এ কাজে সম্পৃক্ত হচ্ছেন। গবেষণা, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ভবিষ্যতের ঝুঁকি মোকাবিলায় বিজ্ঞানভিত্তিক জ্ঞানই আমাদের সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার। তাই বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আবহাওয়াবিজ্ঞান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার পরিধি আরও বিস্তৃত করতে হবে।
পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেছেন, আর তার নিদর্শনাবলির মধ্যে রয়েছে বিদ্যুতের ঝলক, যা তোমাদের ভয় ও আশার সঞ্চার করে (সূরা আর-রূম: ২৪)। এ বাণী আমাদের সতর্কতা, জ্ঞানার্জন ও দায়িত্বশীল আচরণের শিক্ষা দেয়।
বজ্রপাত সম্পূর্ণরূপে রোধ করা সম্ভব না হলেও সচেতনতা, বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি, পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ এবং সম্মিলিত সামাজিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে প্রাণহানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব। একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গঠনে এ বিষয়ে সমন্বিত উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই।
আপন দেশ/জেডআই
মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































