Apan Desh | আপন দেশ

ঈদের ছুটি শেষে ঢাকায় ফিরছেন কর্মজীবীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ০৯:১৪, ৩১ মে ২০২৬

ঈদের ছুটি শেষে ঢাকায় ফিরছেন কর্মজীবীরা

ছবি: আপন দেশ

পবিত্র ঈদুল আজহার টানা ছুটি শেষে রাজধানী ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছেন কর্মজীবী মানুষ। এখন পর্যন্ত কোনো প্রকার ভোগান্তি ও ধকল ছাড়াই ফিরছেন তারা। রোববার (৩১ মে) সকাল থেকেই রাজধানীমুখী যাত্রীদের আনাগোনা শুরু হয়েছে। তবে গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার ফিরতি যাত্রায় এখনো বড় ধরনের ভিড় বা হুড়োহুড়ি দেখা যায়নি।

এদিন সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন প্রবেশপথ, গাবতলী, সায়েদাবাদ ও মহাখালী বাস টার্মিনাল, কমলাপুর রেলস্টেশন এবং সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে যাত্রীদের আনাগোনা দেখা যায়। তবে কোথাও অতিরিক্ত ভিড় বা যাত্রীদের দুর্ভোগের চিত্র চোখে পড়েনি। পরিবহন ব্যবস্থাও ছিল স্বাভাবিক।

দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে লঞ্চযোগে ঢাকায় ফিরেছেন অনেক যাত্রী। সদরঘাটে আসা যাত্রীরা জানান, নদীপথে যাত্রা ছিল নির্বিঘ্ন ও আরামদায়ক। লঞ্চে যাত্রী থাকলেও অতিরিক্ত ভিড় ছিল না এবং বেশিরভাগ নৌযান নির্ধারিত সময়েই গন্তব্যে পৌঁছেছে।

অন্যদিকে, ময়মনসিংহ, শেরপুর, জামালপুর, কিশোরগঞ্জ, গাজীপুরসহ বিভিন্ন জেলা থেকে আসা বাসগুলোতেও যাত্রীর চাপ ছিল স্বাভাবিক। বাস কাউন্টারগুলোতে দীর্ঘ লাইন দেখা যায়নি। যাত্রীরা সহজেই বাস থেকে নেমে নিজ নিজ গন্তব্যে যেতে পেরেছেন। যাত্রীচাপ কম থাকায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগও পাওয়া যায়নি।

পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘ ছুটির কারণে সবাই একদিনে রাজধানীতে ফিরছেন না। অনেকেই ধাপে ধাপে ফিরছেন, ফলে কয়েক দিনে যাত্রীচাপ ছড়িয়ে পড়েছে। শেরপুর থেকে আসা একটি বাসের হেলপার রবিউল ইসলাম বলেন, ফিরতি চাপ এখনও পুরোপুরি শুরু হয়নি। যাত্রী আছে, তবে আগের বছরের মতো হুড়োহুড়ি বা ভিড় নেই।

আরও পড়ুন<<>>জিয়াউর রহমানের আদর্শ নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে: রাষ্ট্রপতি

এদিকে ঈদের সময় বিভিন্ন কারণে বাড়ি যেতে না পারা অনেকে এখন পরিবার-পরিজন নিয়ে গ্রামের পথে রওনা হয়েছেন। ফলে রাজধানীর পরিবহন কেন্দ্রগুলোতে দেখা যাচ্ছে দুইমুখী যাত্রার চিত্র। একদিকে ঢাকামুখী যাত্রী, অন্যদিকে গ্রামমুখী যাত্রী- দুই পক্ষের চলাচলে কিছুটা ব্যস্ততা থাকলেও কোথাও বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়নি।

কমলাপুর রেলস্টেশন, বাস টার্মিনাল ও লঞ্চঘাটে দুই দিকের যাত্রীর উপস্থিতি থাকলেও পরিবহন ব্যবস্থাপনা স্বাভাবিক রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, যাত্রীদের চাপ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যাওয়ায় পরিবহন পরিচালনা সহজ হয়েছে এবং ভোগান্তিও কমেছে।

যাত্রীরা বলছেন, ফাঁকা সড়ক, স্বাভাবিক যান চলাচল এবং পর্যাপ্ত পরিবহন সুবিধার কারণে এবারের ঢাকা ফেরা অনেক বেশি স্বস্তিদায়ক। তবে ছুটি শেষে কর্মস্থলে যোগদানের আগে বিকেল ও সন্ধ্যার দিকে রাজধানীমুখী মানুষের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ঈদুল আজহা উপলক্ষে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত টানা সাত দিনের ছুটি উপভোগ করছেন। ছুটি শেষে সোমবার থেকে অফিস-আদালত, ব্যাংকসহ অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান খুলবে। ফলে দিনের শেষভাগে রাজধানীতে ফেরার চাপ বাড়তে পারে বলে মনে করছেন পরিবহন সংশ্লিষ্টরা।

আপন দেশ/জেডআই

মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়