Apan Desh | আপন দেশ

ভোরের আলো ফুটতেই শহীদ মিনারে জনতার ঢল

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১০:০৬, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ভোরের আলো ফুটতেই শহীদ মিনারে জনতার ঢল

ছবি : আপন দেশ

অমর একুশে ফেব্রুয়ারি মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়েছেন সর্বস্তরের মানুষ। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) ভোরের আলো ফুটতেই ফুলে ফুলে ভরে উঠেছে কেন্দীয় শহীদ মিনারের বেদি। ভাষা শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এ যেন জনস্রোত।  নানা সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শ্রেণি-পেশার মানুষ এসেছেন শ্রদ্ধা জানাতে। 

এর আগে শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) প্রথম প্রহরে রাত ১২টা ১ মিনিটে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন প্রথম শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। রাত ১২টা ৮ মিনিটে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় মন্ত্রিসভার সদস্যরা তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর পর বিএনপি ও জিয়া পরিবারের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।

এরপরই সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে ১১-দলীয় জোটের নেতারা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ জোটের সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। প্রথমবারের মতো শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে যাওয়া জামায়াতের আমিরকে ঘিরে সেখানে কিছুটা উত্তেজনা তৈরি হয়। 

এরপর পর্যায়ক্রমে শ্রদ্ধা জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি, বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও আপিল বিভাগের বিচারপতিরা। তিন বাহিনীর পক্ষে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন শ্রদ্ধা জানান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

আরও পড়ুন<<>>ভাষা শহীদদের প্রতি রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

সরেজমিনে দেখা গেছে, ভাষা শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে লম্বা লাইন। সারিবদ্ধ হয়ে সবাই ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন।  বিএনসিসি ও স্কাউটস সদস্যরা শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করছেন। 

শ্রদ্ধা জানাতে দেখা যায় ইডেন মহিলা কলেজ, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, ছায়ানট, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, হিন্দু বোদ্ধ খ্রীস্টান ঐক্য পরিষদ, টিআইবি, বাংলাদেশ স্কাউটস, উদিচি, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নসহ নানা সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানকে। 

সংগঠন কিংবা প্রতিষ্ঠান ছাড়াও ব্যক্তিগতভাবেও অনেকে এসেছেন শ্রদ্ধা জানাতে। অনেকে শিশুদের নিয়েও এসেছেন শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে।

শ্রদ্ধা জানাতে আসা মাহমুদুল ইসলাম বলেন, এদিন আমাদের প্রেরণার। এ প্রেরণা থেকেই আমাদের স্বাধীনতা। পশ্চিমারা আমাদের মুখের ভাষা যখন কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করে আমাদের ছাত্ররা যে আত্মত্যাগের মাধ্যমে মায়ের ভাষাকে প্রতিষ্ঠিত করে তা ইতিহাসে বিরল। আমরাই একমাত্র জাতি যারা মায়ের ভাষার জন্য লড়াই করে জীবন দিতে হয়েছে।  

এদিকে সময় যত বাড়ছে শ্রদ্ধা জানাতে আসা মানুষের ভীড় বাড়ছে। 

আপন দেশ/জেডআই

মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়