ছবি : সংগৃহীত
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস । বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গণতন্ত্রের অবস্থা পর্যালোচনা, মানুষের মতপ্রকাশের অধিকার এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরতে প্রতিবছর এ দিনটি পালন করা হয়।
২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবসের জাতিসংঘের মূল বার্তা হলো—প্রত্যেকের কণ্ঠস্বর গুরুত্বপূর্ণ, আর সবার অংশগ্রহণেই গণতন্ত্র কার্যকর হয়।
জাতিসংঘের মতে, এমন শাসনব্যবস্থা প্রয়োজন যেখানে মানুষ নিজের জীবনে প্রভাব ফেলে এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণে অর্থবহভাবে অংশ নিতে পারে। আলোচনা, সহযোগিতা এবং ভিন্ন মত বোঝার মাধ্যমে এমন একটি সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব, যেখানে কেউ পিছিয়ে থাকবে না।
দিবসটি উপলক্ষে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি ও মানুষের কণ্ঠস্বরকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
তার মতে, এতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ আরও সমৃদ্ধ হবে, মানুষের মধ্যে আস্থা বাড়বে এবং আরও শান্তিপূর্ণ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সংকট মোকাবিলায় সক্ষম সমাজ গড়ে উঠবে।
আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস উপলক্ষে জাতিসংঘের গণতন্ত্র তহবিল ও অংশীদারত্ব বিষয়ক কার্যালয় আজ জাতিসংঘের সদর দফতরে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে। সেখানে বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের অংশগ্রহণমূলক সভার অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হবে। পাশাপাশি সিদ্ধান্ত গ্রহণে মানুষের অংশগ্রহণ, আলোচনা ও অন্তর্ভুক্তি কীভাবে আস্থা বাড়াতে পারে এবং আরও জবাবদিহিমূলক ও কার্যকর শাসনব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা হবে।
গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা : আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস বিশ্বের গণতন্ত্রের বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনারও একটি সুযোগ। জাতিসংঘ বলছে, গণতন্ত্র শুধু একটি লক্ষ্য নয়, এটি একটি চলমান প্রক্রিয়াও। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, সরকার, নাগরিক সমাজ ও সাধারণ মানুষের পূর্ণ অংশগ্রহণ ও সমর্থনের মাধ্যমেই গণতন্ত্র বাস্তব রূপ পেতে পারে।
মতপ্রকাশের স্বাধীনতা গণতন্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণার ১৯ নম্বর অনুচ্ছেদে প্রত্যেক মানুষের মতামত ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অধিকার স্বীকৃত হয়েছে। এতে কোনো ধরনের বাধা ছাড়াই মতামত রাখা এবং বিভিন্ন মাধ্যমে তথ্য ও ধারণা খোঁজা, গ্রহণ ও প্রকাশের অধিকার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
গণতন্ত্রের সঙ্গে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতারও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। বিভিন্ন দেশে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও জবাবদিহি শক্তিশালী করতে জাতিসংঘ সুশাসন প্রতিষ্ঠা, নির্বাচন পর্যবেক্ষণ, নাগরিক সমাজকে সহায়তা এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংবিধান প্রণয়নে সহযোগিতা করে থাকে।
সৌদিতে হুতির মুহুর্মুহু হামলা, জেদ্দাসহ বিভিন্ন শহরে সতর্কতা
২০ বছর ধরে গণতন্ত্রে জাতিসংঘের সহায়তা : জাতিসংঘের গণতন্ত্র তহবিল দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এগিয়ে নিতে কাজ করছে। নাগরিক সমাজ, মানুষের অংশগ্রহণ এবং মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়তা দিয়ে আসছে এই তহবিল।
তহবিলটির বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কণ্ঠস্বর তুলে ধরা, নারী-পুরুষের সমতা, স্বচ্ছ শাসনব্যবস্থা এবং নাগরিক অংশগ্রহণ উৎসাহিত করা হয়েছে। এক হাজারের বেশি উদ্যোগে সহায়তা দিয়েছে সংস্থাটি।
বিশেষ করে যেসব দেশে গণতন্ত্র দুর্বল বা হুমকির মুখে, সেখানে নাগরিক সমাজ, স্বাধীন সংবাদমাধ্যম ও তরুণদের নেতৃত্বাধীন উদ্যোগে সহায়তা দিয়ে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখছে জাতিসংঘের এই তহবিল।
যেভাবে শুরু আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস : জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ২০০৭ সালে একটি প্রস্তাব গ্রহণের মাধ্যমে ১৫ সেপ্টেম্বরকে আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস হিসেবে পালনের উদ্যোগ নেয়। ২০০৮ সাল থেকে বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।
প্রতিবছর দিবসটি পালনের জন্য একটি নির্দিষ্ট বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিভিন্ন দেশের সংসদ ও প্রতিষ্ঠান দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা, কর্মশালা, বিতর্ক, শিশুদের জন্য বিভিন্ন আয়োজন এবং নাগরিক সমাজের সঙ্গে মতবিনিময়সহ নানা কর্মসূচি পালন করে।
আন্তঃসংসদীয় ইউনিয়নের মতে, গণতন্ত্রে সব নাগরিকের অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে ন্যায়বিচার, শান্তি, উন্নয়ন ও মানবাধিকারের নিশ্চয়তায় সংসদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা তুলে ধরার সুযোগও তৈরি করে এই দিবস।
গণতন্ত্র নিয়ে বিখ্যাত উক্তি : গণতন্ত্রের ধারণা ও গুরুত্ব নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন মনীষী ও রাষ্ট্রনায়ক বিভিন্ন সময়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো—
আব্রাহাম লিংকন : গণতন্ত্র হলো জনগণের সরকার, জনগণের দ্বারা পরিচালিত সরকার এবং জনগণের জন্য সরকার।
উইনস্টন চার্চিল : এ পর্যন্ত চেষ্টা করা অন্য সব শাসনব্যবস্থার তুলনায় গণতন্ত্র সবচেয়ে খারাপ—তবে অন্য সব ব্যবস্থাই আরও খারাপ।
বি আর আম্বেদকর : গণতন্ত্র শুধু ভোট দেওয়ার বিষয় নয়; মানুষের দেওয়া ভোটের কণ্ঠস্বর শোনা নিশ্চিত করাও গণতন্ত্রের অংশ।
ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্ট : যারা নিজেদের পছন্দ প্রকাশ করেন, তারা যদি বিচক্ষণতার সঙ্গে নির্বাচন করতে প্রস্তুত না থাকেন, তাহলে গণতন্ত্র সফল হতে পারে না। তাই গণতন্ত্রের প্রকৃত সুরক্ষা হলো শিক্ষা।
আপন দেশ/এমটিআই
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।





































