Apan Desh | আপন দেশ

‘ছাত্রীকে বিয়ে করা বিকৃত রুচির লক্ষণ’

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১০:৩৭, ১৫ আগস্ট ২০২৩

‘ছাত্রীকে বিয়ে করা বিকৃত রুচির লক্ষণ’

রাজধানীর মতিঝিলের আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বডির দাতা সদস্য খন্দকার মুশতাক আহমেদ ওই প্রতিষ্ঠানেরই একজন ছাত্রীকে বিয়ে করেছেন। এ ঘটনায় মুশতাকসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ ফাওজিয়া রাশেদীকে আসামি করে ধর্ষণ মামলা করেন ওই ছাত্রীর বাবা।

অধ্যক্ষের আগাম জামিন আবেদনের শুনানিতে হাইকোর্ট বলেন, সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি হয় মতিঝিলের আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিকে সরকারি খাতে নেয়া উচিত। আদালত বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা কমিটির দাতা সদস্য একজন ছাত্রীকে বিয়ে করেছেন, এটি তো বিকৃত রুচির লক্ষণ।

সোমবার (১৪ আগস্ট) বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেন ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ মন্তব্য করেন।

শুনানি শেষে হাইকোর্ট অধ্যক্ষ ফাওজিয়া রাশেদীকে ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন দেন। নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ধর্ষণে সহযোগিতার অভিযোগের মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে হাইকোর্ট এ আদেশ দেন।

গত ১ আগস্ট ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৮-এর বিচারক বেগম মাফরোজা পারভীনের আদালতে কলেজছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে এ মামলা করেন। মামলায় মতিঝিলের আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বডির দাতা সদস্য খন্দকার মুশতাক আহমেদকে প্রধান আসামি করা হয়। যিনি ওই ছাত্রীকে বিয়ে করেছেন।

শুনানির শুরুতে একটি হুইল চেয়ারে করে আদালতে হাজির হন অধ্যক্ষ। এ পর্যায়ে হাইকোর্ট বলেন, উনি কে? হুইল চেয়ারে কেন? জবাবে অধ্যক্ষের আইনজীবী রেদোয়ানুল করিম বলেন, উনি আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ। পা ভেঙে যাওয়ায় তিনি হুইল চেয়ারে এসেছেন।

আদালত বলেন, আমরা তো গণমাধ্যমে দেখেছি উনি ছাত্রীকে নিয়ে আসামির বাগান বাড়িতে প্লেজার ট্রিপে গিয়েছেন? এটি কীভাবে সম্ভব? রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মাহফুজুর রহমান লিখন বলেন, উনি পিকনিকে গিয়েছেন।

এ পর্যায়ে আইনজীবী রেদোয়ানুল করিম বলেন, আসামির সঙ্গে ওই ছাত্রীর বিয়ে হয়ে গেছে। আদালত বলেন, এ তো বিকৃত রুচির লক্ষণ। 

আদালত আরও বলেন, ওই ছাত্রী কোন ক্লাসে পড়ে? আইনজীবী বলেন, ইন্টারমিডিয়েটে। বয়স কত হয়েছে? আইনজীবী বলেন, ১৮ বছর ৬ মাস পূর্ণ হয়েছে। আদালত বলেন, ভিকটিম কোথায়? আইনজীবী বলেন, স্বামীর সঙ্গে আছে।

এ পর্যায়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মামলার অভিযোগের অংশ বিশেষ পড়ে শোনান। তিনি বলেন, আসামি মুশতাক বিভিন্ন অজুহাতে কলেজে আসতেন এবং ভিকটিমকে ক্লাস থেকে প্রিন্সিপালের কক্ষে ডেকে আনতেন। খোঁজ-খবর নেয়ার নামে আসামি ভিকটিমকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে প্রলুব্ধ করতেন। অর্থাৎ আসামি ওই ছাত্রীকে ব্ল্যাকমেইল করেছেন। আর অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আসামি মুশতাককে সহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে।

এ পর্যায়ে হাইকোর্ট বলেন, মেয়ের বয়স ১৮ বছরের উপরে। ব্ল্যাকমেইলের প্রশ্ন আসছে কেন? যখন ভিকটিম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে এসে বলে আমি স্বেচ্ছায় বিয়ে করেছি তখন কি মামলা থাকে? আমরা যদি ওই লাইভ না দেখতাম তাহলে বিষয়টি অন্যভাবে বিবেচনার সুযোগ ছিল। এ তো দেখি ‘প্রেমের মরা জলে ডোবে না’র মতো অবস্থা!

আপন দেশ/আরএ 

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়