ফাইল ছবি
গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন সাভারের আশুলিয়ায় গুলি করে হত্যার পর ছয়জনের লাশ পোড়ানোর ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রাজসাক্ষী হয়ে জবানবন্দি দিয়েছেন পুলিশের এসআই শেখ আবজালুল হক। ০৫ আগস্ট আশুলিয়ায় পুড়িয়ে ফেলা শহীদদের জন্য কিছু করতে না পারায় তাদের পরিবারসহ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন এ রাজসাক্ষী।
বুধবার মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ রাজসাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেয় আবজালুল। ট্রাইব্যুনাল-২ এর সদস্য অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেলে তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।
আরও পড়ুন<<>>শেখ হাসিনা-কামালের রায়ের কপি মন্ত্রণালয়ে যাচ্ছে না আজ
জবানবন্দিতে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র জনতার আন্দোলন চলাকালীন আশুলিয়া থানার ওসি এএফএম সায়েদ স্যারকে মোবাইলে আন্দোলন দমনসহ বিরোধীদের গ্রেফতার করতে মাঝেমধ্যে নির্দেশনা দিতেন এমপি সাইফুল। এসব নির্দেশনা অধস্তন কর্মকর্তাদের দিয়ে বাস্তবায়ন করতেন ওসি স্যার।
গত ০৫ আগস্ট আশুলিয়া থানাধীন পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় ভাড়া বাসা থেকে আমি সকালে থানায় পৌঁছাই। এরপর অস্ত্রাগার থেকে আমার নামে ইস্যু করা পিস্তল ও গুলি নিয়ে থানার পশ্চিম পাশে দায়িত্বে নিয়োজিত হই। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হ্যান্ড মাইক দিয়ে থানার সব কর্মকর্তা ও অধস্তনদের নিচে ডাকেন ওসি স্যার। সবার উদ্দেশে তিনি জুলাই আন্দোলনে শক্তভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেন। এরপর অন্য ইউনিট থেকে আসা বেশিরভাগ কর্মকর্তা ও ফোর্সদের নিয়ে বাইপাইল কেন্দ্রীয় মসজিদের দিকে যান তিনি।
আমাদের দায়িত্ব ছিল থানার গেটে ও ভেতরে। একপর্যায়ে দুপুর আড়াইটায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ থেকে পালিয়ে গেলে ফোর্স নিয়ে থানায় চলে আসেন ওসি সায়েদ স্যার।
রাজসাক্ষী এসআই শেখ আবজালুল হক তার জবানবন্দিতে বলেন, ওসি স্যারের সঙ্গে থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মাসুদুর রহমান স্যার, পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) নির্মল কুমার স্যার, পুলিশ পরিদর্শক (ডিবি) আরাফাত হোসেন স্যার, এসআই আব্দুল মালেক, এসআই আরাফাত উদ্দিন, এএসআই বিশ্বজিৎ, এএসআই কামরুল হাসান, কনস্টেবল মুকুল চোকদারসহ অন্য ইউনিট থেকে আসা পুলিশ সদস্যদের নিয়ে থানার গেটে থাকেন। বিকেল ৪টায় ছাত্র-জনতার একটি অংশ থানার দিকে বিজয় মিছিল নিয়ে আসে। ওই সময় ওসি স্যারের সরাসরি নির্দেশে এএসআই বিশ্বজিৎ ও অন্য ইউনিট থেকে আসা কয়েকজন পুলিশ সদস্য মিছিলকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। তাৎক্ষণিক কয়েকজন গুলিবিদ্ধ ও রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে যান। ঠিক তখনই ওসি স্যার ফোনে ‘স্যার স্যার’ বলে পায়চারি করছিলেন। পরে ওসি স্যারের নির্দেশে কয়েকজন পুলিশ সদস্য পড়ে থাকা লাশগুলোকে তিন চাকার ভ্যানে তুলে পুলিশের আরেকটি পিকআপভ্যানে ওঠান। ওই সময় সঙ্গে থাকা এসআই আব্দুল মালেক ও এএসআই বিশ্বজিৎকে নিয়ে পরামর্শ করছিলেন ওসি স্যার। আমি তাদের কাছাকাছি গেলে কথা বলা বন্ধ করে দেন। তখন আমার মনে হলো তারা লাশগুলো নিয়ে অন্য পরিকল্পনা করছিলেন। আমি কিছুটা নার্ভাস বোধ করি। তখন সিদ্ধান্ত নিই এখানে থাকা আমার ঠিক হবে না। এরপর আমি থানায় ঢুকে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট খুলে সিভিল পোশাকে পিস্তলটি প্যান্টের সামনের দিক দিয়ে গুঁজে সাধারণ মানুষের মতো থানা থেকে বের হয়ে যাই। পরে ফল বিক্রেতা কামালের সঙ্গে তার ভাড়া বাসায় উঠি।
উল্লেখ্য, এ মামলায় ২৩ নম্বর সাক্ষী হিসেবে দেয়া জবানবন্দিতে গত বছরের ০৫ আগস্ট ঘটে যাওয়া ঘটনার পুরো বর্ণনা তুলে ধরেন রাজসাক্ষী আবজালুল। যদিও লাশ পোড়ানোর সময় তিনি ছিলেন না। তবে ১৫ আগস্ট নিজের ইস্যু করা অস্ত্র জমা দিতে এসে জানতে পারেন লাশ পুড়িয়ে দেয়ার কথা। আশুলিয়া থানার তৎকালীন ওসি সায়েদ ও এএসআই বিশ্বজিৎ মিলে ছয়টি লাশ পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে দেন বলে জানান তিনি। সবশেষ তিনি ট্রাইব্যুনালের কাছে ক্ষমা চান।
আপন দেশ/এসআর
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































