ইতালির নাগরিক তাবেলা সিজার হত্যা মামলার বিচার দীর্ঘ আট বছরেও শেষ হয়নি। রাষ্ট্রপক্ষ বলছে, আগামী বছর মামলার বিচার শেষ হবে। আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা হবে। এদিকে আসামিপক্ষ বলছে, রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি।
২০১৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর রাজধানীর গুলশান-২-এর ৯০ নম্বর সড়কে দুবৃর্ত্তদের গুলিতে নিহত হন নেদারল্যান্ডভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা আইসিসিওবিডির কর্মকর্তা তাবেলা সিজার। ওই দিনই তার সহযোগী আইসিসিও-এর কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভ হেলেন ভেন ডার বিক বাদী হয়ে গুলশান থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলাটি ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. আছাদুজ্জামানের আদালতে বিচারাধীন। বর্তমানে মামলাটি সাক্ষ্যগ্রহণের পর্যায়ে রয়েছে।
মামলা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর তাপস কুমার পাল বলেন, তাবেলা সিজার হত্যা মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ প্রায় শেষের দিকে। মামলাটিতে এখন দ্বিতীয় তদন্ত কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর জেহাদ হোসেনের জেরা চলছে। করোনাকালীন আমরা কোনো কাজ করতে পারেনি। এখন আবার বিচার শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, মামলাটির বিচারে আসামিপক্ষ কালক্ষেপণ করছে। তাদের কালক্ষেপণে বিচার শেষ হচ্ছে না। আশা করছি, এ বছর মামলার সাক্ষ্য শেষ হবে। আগামী বছরের শুরুর দিকে মামলাটির বিচার শেষ হবে। আলোচিত এ মামলায় দোষীদের যেন সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত হয় আমরা রাষ্ট্রপক্ষ থেকে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
মামলাটি তদন্ত করে ২০১৬ সালের ২২ জুন ডিবি পরিদর্শক গোলাম রাব্বানী আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। এতে বিএনপি নেতা এমএ কাইয়ুমসহ (কাইয়ুম কমিশনার) সাত জনকে অভিযুক্ত করা হয়। চার্জশিটে বলা হয়, হামলাকারীদের একমাত্র লক্ষ্য ছিল একজন শ্বেতাঙ্গকে হত্যা করে দেশ-বিদেশে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেওয়া। দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে এই পরিকল্পনা করা হয়।
আরও পড়ুন <> আজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)
২০১৬ সালের ২৫ অক্টোবর সাত আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেন আদালত। মামলাটিতে এখন পর্যন্ত চার্জশিটভূক্ত ৭০ জন সাক্ষীর মধ্যে ৪০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে।
মামলার অপর আসামিরা হলেন-কাইয়ুম কমিশনার, তার ভাই আবদুল মতিন, তামজিদ আহমেদ ওরফে রুবেল ওরফে শুটার রুবেল, রাসেল চৌধুরী ওরফে চাক্কি রাসেল, মিনহাজুল আরেফিন রাসেল ওরফে ভাগনে রাসেল, শাখাওয়াত হোসেন ওরফে শরিফ ও মো. সোহেল ওরফে ভাঙ্গারী সোহেল। আসামিদের মধ্যে কাইয়ুম কমিশনার ও ভাঙ্গারী সোহেল এখনো পলাতক রয়েছেন। এ ছাড়া গ্রেপ্তারকৃত পাঁচ জনের মধ্যে আবদুল মতিন ছাড়া বাকি চার আসামিই ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
আসামি কাইয়ুমের ভাই আবদুল মতিনের পক্ষের আইনজীবী ইনজামুল হক সুমন বলেন, বর্তমানে মামলাটি সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে। প্রতিনিয়ত রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আদালতে সাক্ষী হাজির হচ্ছে, আমারও এই সাক্ষীদের জেরা করছি।
আপন দেশ/আরএ
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।





































