Apan Desh | আপন দেশ

মন্দিরে যাওয়ার পথে ট্রাকচাপায় প্রাণ গেল ১২ জনের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ০৯:৫২, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

মন্দিরে যাওয়ার পথে ট্রাকচাপায় প্রাণ গেল ১২ জনের

ছবি : সংগৃহীত

ভারতের মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়রে শীতলা মাতা মন্দিরে যাওয়ার পথে ট্রাকের চাপায় অন্তত ১২ পুণ্যার্থীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অনেকে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) গভীর রাতে মন্দিরের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি ধানবোঝাই ট্রাক সড়কে থাকা পুণ্যার্থীদের ওপর উঠে যায়। পরে ট্রাকটি মন্দিরের প্রবেশপথের ফটক ও বাইরের দেয়ালে ধাক্কা দেয়।

গোয়ালিয়রের জ্যেষ্ঠ পুলিশ সুপার ধর্মবীর সিং জানান, রাত দেড়টার দিকে ছিনোরের দিক থেকে আসা ট্রাকটি ভারী যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকা একটি খাড়া ঢালু রাস্তায় নিয়ন্ত্রণ হারায়।

পুলিশ সুপার বলেন, এটি একটি মর্মান্তিক ঘটনা, বিপুলসংখ্যক তীর্থযাত্রী শীতলা মাতা মন্দিরে যাচ্ছিলেন। ছিনোরের দিক থেকে আসা সড়কটিতে একটি খাড়া ঢাল রয়েছে, যেখানে ভারী যান চলাচল নিষিদ্ধ। রাত দেড়টার দিকে ধানবোঝাই একটি ট্রাককে সেখানে থামানো হয়েছিল।

সেটি পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নিচে নেমে আসে এবং মন্দিরের বাইরের দেয়াল ও ফটকে ধাক্কা দেয়। সড়কে থাকা ভক্তরা ট্রাকটির নিচে চাপা পড়েন, যার ফলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

ধর্মবীর সিং জানান, দুর্ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালনরত দুই পুলিশ সদস্যও আহত হয়েছেন। তাদের চিকিৎসা চলছে।

পুলিশ সুপারের ভাষ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার পর ৩৯ জনকে হাসপাতালে নেয়া হয়। তাদের মধ্যে ১২ জন মারা গেছেন। পাঁচ থেকে ছয়জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। বাকিরা সামান্য আহত হয়েছেন।

আরও পড়ুন<<>>কলকাতায় পূজামণ্ডপে পদদলিত হয়ে ১৭ জনের মৃত্যু

গোয়ালিয়রের জেলা প্রশাসক রুচিকা চৌহান জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই অ্যাম্বুলেন্সসহ উদ্ধারকারী যানবাহন পাঠানো হয়। এ ঘটনায় ২৯ জন আহত হয়েছেন বলে জানান তিনি।

রুচিকা বলেন, নবরাত্রির সময় ওই সড়কে একটি প্রতিবন্ধক ও পুলিশের চেকপোস্ট ছিল। তাহলে গাড়িটি কীভাবে ভেতরে ঢুকল, তা তদন্তের বিষয়।

ট্রাকটি কীভাবে ব্যারিকেড পার হলো, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে। পাশাপাশি ট্রাকটির যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল কি না, তা পরীক্ষা করতে আঞ্চলিক পরিবহন দফতরের (আরটিও) একটি দল পাঠানো হয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক।

দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার বিষয়ে তিনি বলেন, চিকিৎসকরা তাদের সিটি স্ক্যান ও এক্সরে করছেন।

ঘটনাস্থলে থাকা এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, এ ঘটনা রাত ১টার দিকে ঘটেছে। আমি কয়েকজনকে ঘটনাস্থলেই মারা যেতে দেখেছি। ট্রাকটিতে অতিরিক্ত মালবোঝাই ছিল। সেটি হঠাৎ এসে কয়েকটি দোকান ও মানুষের ওপর উঠে যায়। আমার ভাইও আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনাস্থলে এখনো বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

গোয়ালিয়রের জেলা প্রশাসক রুচিকা চৌহানও দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই উদ্ধারকাজের জন্য অ্যাম্বুলেন্সসহ অন্যান্য যানবাহন পাঠানো হয়। 

আপন দেশ/জেডআই

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়