Apan Desh | আপন দেশ

বাংলাদেশি সন্দেহে কাউকে ফেরত পাঠানো যাবে না: কলকাতা হাইকোর্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১৪:২৩, ৯ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশি সন্দেহে কাউকে ফেরত পাঠানো যাবে না: কলকাতা হাইকোর্ট

ফাইল ছবি

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের পর বাংলাদেশি সন্দেহে সীমান্তে এপারে ঠেলে দেয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষা বাহিনী (বিএসএফ)। তাদের বেশিরভাগ প্রচেষ্টা রুখে দিয়েছে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি)। এমন পরিস্থিতির মধ্যে শুধু সন্দেহের ভিত্তিতে কাউকে বাংলাদেশি আখ্যা দিয়ে ফেরত পাঠানো যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন ভারতীয় এক বিচারপতি।

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য বলেন, কাউকে বাংলাদেশি হিসেবে চিহ্নিত করে ফেরত পাঠানোর আগে তার নাগরিকত্ব প্রমাণের যথেষ্ট সুযোগ দিতে হবে।

সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া বলছে, মুর্শিদাবাদের এক ব্যক্তিকে আটক ও বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগের বিরুদ্ধে করা একটি আবেদনের শুনানিতে কলকাতা হাইকোর্টের ওই বিচারপতি এ মন্তব্য করেন। ওই ব্যক্তির আইনজীবী আদালতকে জানান, কয়েকজন প্রতিবেশীর বক্তব্য থেকে তৈরি সন্দেহের ভিত্তিতে গত ০৮ আগস্ট থেকে তার মক্কেলকে আটক রাখা হয়েছে।

ওই ব্যক্তির স্ত্রী তার স্বামীকে আটক রাখা এবং দম্পতিকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর নির্দেশের বিরুদ্ধে আদালতে আবেদন করেন। বিদেশি আঞ্চলিক নিবন্ধন দফতর (এফআরআরও) ওই নির্দেশ দিয়েছিল। তবে ওই ব্যক্তির স্ত্রীকে আটক করা হয়নি।

বিচারপতি ভট্টাচার্য বলেন, বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর নির্দেশটি আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যথেষ্ট সুযোগ দেয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বিচারপতি বলেন, মনে হচ্ছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আবেদনকারীকে (আটক ব্যক্তি) নিজের বক্তব্য তুলে ধরার সুযোগ দেয়নি।’

কেন ওই ব্যক্তিকে দুই মাস ধরে আটক রাখা হয়েছে এবং তার জাতীয়তা নির্ধারণে কর্তৃপক্ষ কেন ‘স্পষ্ট ও যাচাইযোগ্য প্রক্রিয়া’ অনুসরণ করেনি, তা জানতে চান বিচারপতি। ওই ব্যক্তির আইনজীবী রবিউল ইসলাম বলেন, আমার মক্কেল দুই মাসের বেশি সময় ধরে আটক রয়েছেন। কয়েকজন প্রতিবেশীর বক্তব্য থেকে তৈরি সন্দেহই তাকে আটকের ভিত্তি।

বিচারপতি ভট্টাচার্য প্রশ্ন তোলেন, শুধু এ ধরনের বক্তব্যের ভিত্তিতে কীভাবে কারও জাতীয়তা নিশ্চিতভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব। যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে কাউকে আটক রাখা যায় না বলেও জোর দেন তিনি। তিনি প্রশ্ন করেন, ১৯৭০-এর দশক থেকে কত মানুষ সীমান্ত পার হয়েছেন? তাদের সবাইকে কি ফেরত পাঠানো সম্ভব?

এরপর বিষয়টি উপযুক্ত বেঞ্চে শুনানির জন্য হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠিয়ে দেন তিনি।

আরও পড়ুন<<>>মাইক্রোসফটসহ ৮ প্রতিষ্ঠানের গ্রিন কার্ড স্থগিত করল ট্রাম্প প্রশাসন

গত বছরের মাঝামাঝি সময় থেকে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) শাসিত একাধিক রাজ্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে তারা বাংলাভাষী মুসলিমদের অবৈধ বাংলাদেশি হিসেবে চিহ্নিত করছে। এরপর আদালত বা ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ ছাড়াই সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সহায়তায় তাদের বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানো হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া চলতি বছর পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় আসার কয়েক দিনের মধ্যেই নতুন সরকার ‘আটক, বাদ দেয়া, বহিষ্কার’ নীতি ঘোষণা করে। এ নীতির আওতায় বাংলাদেশি বলে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের পুলিশি হেফাজতে নিয়ে ‘হোল্ডিং সেন্টারে’ রাখার এবং সংক্ষিপ্ত প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়ার কথা বলা হয়।

এদিকে জোর করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়া চার ভারতীয় নাগরিককে গত জুলাইয়ে আদালতের নির্দেশে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। তাদের মধ্যে একজন নারী ও দুটি শিশু ছিল। প্রায় এক বছর বাংলাদেশে কাটানোর পর মালদার মহদীপুর স্থলবন্দর দিয়ে তাদের ভারতে ফিরিয়ে নেয়া হয়।

বিচারপতি ভট্টাচার্য বলেন, তাই কাউকে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে সরকারকে তার নথিপত্র যথাযথভাবে যাচাই করতে হবে। কয়েকজনের বক্তব্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে অনুপ্রবেশকারী বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।

রাজ্য সরকারের পক্ষে আদালতে উপস্থিত অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার বলেন, আটক ব্যক্তি জাল নথির ভিত্তিতে ভোটার কার্ড, আধার ও প্যান কার্ডের মতো পরিচয়পত্র সংগ্রহ করে থাকতে পারেন।

সংবাদমাধ্যম বলছে, এমন এক সময়ে কলকাতা হাইকোর্টের এ পর্যবেক্ষণ সামনে এলো, যখন জাতীয় পর্যায়েই ভারতে নথিপত্র, নাগরিকত্ব ও ভোটার পরিচয় নিয়ে তীব্র বিতর্ক চলছে। ভোটার তালিকার বিতর্কিত বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় ভারতজুড়ে প্রায় ১৩ কোটি ভোটারের নাম বাদ দেয়া হয়েছে।

বিরোধী দল ও নাগরিক সংগঠনগুলোর অভিযোগ, বিজেপিকে সুবিধা দিতে লাখ লাখ প্রকৃত ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। 

পশ্চিমবঙ্গেও তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া অনেক মানুষ সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। অবৈধ অভিবাসী হিসেবে চিহ্নিত হয়ে দেশ থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার আশঙ্কায় তাদের অনেকেই আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

এসআইআর প্রক্রিয়ার পরিকল্পনাকারী ও বাস্তবায়নকারী হিসেবে বিবেচিত প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ভারতজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।

আপন দেশ/জেডআই

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়