Apan Desh | আপন দেশ

বাবার শেষ বিদায়ে কেন নেই মোজতবা খামেনি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১৯:৫২, ৪ জুলাই ২০২৬

বাবার শেষ বিদায়ে কেন নেই মোজতবা খামেনি

ফাইল ছবি

দীর্ঘ ৩৭ বছরের নেতৃত্বের অবসান ঘটেছে। কিন্তু স্মৃতিতে এখনও অম্লান আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। তার শোকানুষ্ঠানে ইরানের সাধারণ জনগণ থেকে শুরু করে সকল পর্যায়ের নেতারা অংশ নিচ্ছেন। পাশাপাশি অর্ধশতাধিক দেশের প্রতিনিধি এখন তেহরানে অবস্থান করছেন।

কিন্তু রাষ্ট্রীয় এ অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন না ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতার ছেলে এবং বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি।

কাতারের জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক পল মাসগ্রেভ আল জাজিরাকে বলেছেন, ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতার তার বাবার জানাজায় উপস্থিত না থাকার বিষয়টি নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে খুব সহজেই বুঝা যায়।

তার ভাষায়, ইরান আশঙ্কা করছে, জানাজার সময় ইসরায়েল দ্বিতীয় দফায় নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে হামলা চালাতে পারে। অতীতেও রাজনৈতিক নেতাদের লক্ষ্য করে শেষকৃত্যের শোভাযাত্রায় হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে ইসরায়েল।

তবে তিনি মনে করেন, শেষ পর্যন্ত দেশের সর্বোচ্চ নেতাকে জনসমক্ষে দেখা যাওয়া প্রয়োজন। কারণ, কয়েক মাস ধরেই মোজতবা খামেনিকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি।

মাসগ্রেভ বলেন, শেষ পর্যন্ত ইরানকে এমন একটি উপায় বের করতেই হবে, যাতে বোঝানো যায় যে, তিনি কোনো আড়ালে থাকা সর্বোচ্চ নেতা নন; বরং বাস্তবেই দেশ পরিচালনার দায়িত্বে থাকা একজন নেতা। তেহরানের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্বেগ যথার্থ হলেও, একসময় তাদের সেটি নিশ্চিত করতেই হবে।

আরও পড়ুন <<>> খামেনির শেষকৃত্যে মার্কিন হস্তক্ষেপ, অংশ নেয়নি ১৩ দেশ

শনিবার (০৪ জুলাই) ভোর থেকে রাজধানী তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লার সামনে ঢল নামে মানুষের। ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রতি শোক ও শেষশ্রদ্ধা জানাতে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জড়ো হচ্ছেন ইরানিরা।

তেহরানে সাধারণ মানুষের জন্য দুই দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এসময় সর্বস্তরের মানুষ আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তার পরিবারের প্রয়াত কয়েকজন সদস্যের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন।

ইরান কর্তৃপক্ষ বলছে, সাড়ে তিন দশক ধরে ইরানের শাসনক্ষমতায় থাকা আয়াতুল্লাহ খামেনিকে শেষ বিদায় জানাতে শুধু তেহরানেই দেড় থেকে দুই কোটি মানুষের সমাগম হতে পারে।

সোমবার (০৬ জুলাই) আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শোকযাত্রা ইরানের দক্ষিণে কোম নগরীর উদ্দেশে যাত্রা করবে। এরপর ইরাকের পবিত্র শহর নাজাফ ও কারবালা হয়ে শেষ গন্তব্য হবে মাশহাদ। শিয়া ইসলামের অষ্টম ইমামের মাজার এবং খামেনির জন্মস্থান হওয়ায় সেখানে প্রায় ৪০ লাখ মানুষের অংশগ্রহণের আশা করছে ইরান।

ইরান কর্তৃপক্ষ বলছে, ১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির পূর্বসুরি ও ইরানের ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির জানাজার পর ইরানে এটাই সবচেয়ে বড় জনসমাগম হতে চলেছে। খোমেনির শোক ও দাফন অনুষ্ঠানে প্রায় এক কোটি মানুষ অংশ নিয়েছিলেন।

এর আগে শুক্রবার তেহরানের বিশাল প্রার্থনা হলে শায়িত ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতাকে শ্রদ্ধা জানান প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিসহ শীর্ষ নেতারা।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি, ধর্মীয় নেতা এবং ইরানের মিত্রদের পরিবারও শেষ শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত হন। তবে এবার ইউরোপীয় দেশগুলোকে আমন্ত্রণ জানায়নি তেহরান।

আয়াতুল্লাহ খামেনিকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে কোটি কোটি মানুষ অংশ নিলেও নিরাপত্তার কারণে বাবার শোক অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকছেন না ছেলে মোজতবা খামেনি। সম্প্রতি তাকে হত্যার হুমকি দিয়েছে ইসরায়েল।

আপন দেশ/এসএস

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়