ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আমির নাসিরজাদেহ।
মধ্যপ্রাচ্যে পরিস্থিতি এখন চরম উত্তেজনাকর। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ভোরে ইরানজুড়ে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক অভিযানের পর পুরো অঞ্চলে যুদ্ধের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এ হামলায় ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের সামরিক নেতারা নিহত হয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ইসরায়েলি হামলায় ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আমির নাসিরজাদেহ নিহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, রেভল্যুশনারি গার্ডের (আইআরজিসি) গুরুত্বপূর্ণ কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুরও এ হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্র দাবি করেছে। যদিও ইরান এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এ মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেনি।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, ইসরায়েলি হামলায় ইরান ‘হয়তো এক বা দুইজন কমান্ডারকে হারিয়েছে’। তবে তিনি নিশ্চিত করেছেন যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এখনো পর্যন্ত ‘জীবিত’ ও সুস্থ আছেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি জানিয়েছেন, ইরান উত্তেজনা কমাতে আগ্রহী ও তারা আলোচনার জন্য প্রস্তুত। তবে তার জন্য প্রধান শর্ত হলো—যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে তাদের আক্রমণ বন্ধ করতে হবে। বর্তমানে সরাসরি কোনো যোগাযোগ না থাকলেও আমেরিকানরা চাইলে কীভাবে যোগাযোগ করতে হয় তা তারা জানে।
হামলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, আমি একটি নিরাপদ জাতি চাই, সেটাই আমরা পেতে যাচ্ছি। আমি শুধু জনগণের স্বাধীনতা চাই।
এদিকে ইরানে এ সামরিক পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন মার্কিন সিনেটর এডওয়ার্ড জে. মার্কি। তিনি এ হামলাকে ‘অবৈধ ও অসাংবিধানিক’ বলে অভিহিত করেছেন। মার্কি বলেন, এ হামলা কংগ্রেস অনুমোদিত নয়। এটি সমস্ত আমেরিকানদের জন্য বিপদ বয়ে আনবে।
তিনি আরও বলেন, ট্রাম্পের অবৈধ কর্মকাণ্ড একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধের উত্তেজনা বৃদ্ধির ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে। যা ওই অঞ্চলে থাকা মার্কিন সেনা ও বেসামরিক নাগরিকদের জন্য মারাত্মক হুমকি। ট্রাম্প ধারাবাহিকভাবে ইরানের পারমাণবিক হুমকি অতি আসন্ন উল্লেখ করে তা অতিরঞ্জিত করে দেখিয়েছেন। এমনকি (গত জুনে) তার অবৈধ ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’ হামলার সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ‘বিধ্বস্ত’ করা হয়েছে বলে দাবি করার পরও ইরানের হুমকি আসন্ন—এটা বলেই যাচ্ছেন ট্রাম্প।
হামলার জবাবে ইরান চুপ করে বসে নেই। তারা ইতিমধ্যে ইসরায়েলে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এছাড়া ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, ইসরায়েলে হামলা চালিয়ে যাওয়া হবে। একই সঙ্গে উপসাগরীয় বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনায় লক্ষ্য করে হামলা চলবে।
আজ সকাল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালায়। জবাবে ইরান ইসরায়েলে হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি কাতার, বাহরাইন, আমিরাত, কুয়েত ও জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছে ইরান।
আপন দেশ/এমবি
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































