Apan Desh | আপন দেশ

আফগানিস্তানে ফের বিমান হামলা পাকিস্তানের 

আন্তজাতিক ডেস্ক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ০৮:৩৯, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আপডেট: ০৮:৪২, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আফগানিস্তানে ফের বিমান হামলা পাকিস্তানের 

ছবি: সংগৃহীত

সাম্প্রতিক আত্মঘাতী ও সন্ত্রাসী হামলার পর আফগানিস্তানের ভেতরে বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী জানায়, সীমান্তবর্তী এলাকায় সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর ‘ক্যাম্প ও আস্তানা’ লক্ষ্য করেই এ হামলা চালানো হয়েছে। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) চালানো এসব হামলায় আফগানিস্তানের অন্তত দুটি সীমান্ত প্রদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানিয়েছে আল জাজিরা। 

সূত্রগুলো জানায়, পাকতিকা প্রদেশে একটি ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ড্রোন হামলা চালানো হয়। পাশাপাশি নানগারহার প্রদেশেও হামলার ঘটনা ঘটে।

পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এক্সে (সাবেক টুইটার) দেয়া এক বিবৃতিতে জানায়, দেশটির সামরিক বাহিনী ‘গোয়েন্দাভিত্তিক ও লক্ষ্যভিত্তিক অভিযান’ চালিয়ে সাতটি ক্যাম্প ও আস্তানা ধ্বংস করেছে। এসব স্থাপনা নিষিদ্ধ ঘোষিত পাকিস্তানি তালেবান বা তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) এবং তাদের সহযোগী সংগঠনগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে দাবি করা হয়। একই সঙ্গে সীমান্ত অঞ্চলে আইএস-এর একটি সহযোগী শাখাকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, ইসলামাবাদসহ উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বাজাউর ও বান্নু জেলায় সাম্প্রতিক হামলাগুলোর পেছনে আফগানিস্তানভিত্তিক নেতৃত্ব ও পরিকল্পনাকারীদের ‘সুনির্দিষ্ট প্রমাণ’ রয়েছে। পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধে ব্যবস্থা নিতে কাবুলকে আহবান জানালেও তালেবান সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ করা হয়।

পাকিস্তানের এ বিমান হামলা চালানো হয় এমন এক সময়, যখন রোববারই উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় বান্নু জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর একটি বহরে আত্মঘাতী হামলায় একজন লেফটেন্যান্ট কর্নেলসহ দুই সেনা নিহত হন। এর পরদিন সোমবার বাজাউরে বিস্ফোরকভর্তি গাড়ি নিয়ে একটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলায় ১১ জন সেনা ও এক শিশু নিহত হয়। কর্তৃপক্ষ জানায়, ওই হামলাকারী একজন আফগান নাগরিক।

আরও পড়ুন<<>>সংঘাতের দিকেই এগোচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান

এর আগে ৬ ফেব্রুয়ারি ইসলামাবাদের তাড়লাই কালান এলাকায় অবস্থিত খাদিজাতুল কুবরা মসজিদে জুমার নামাজ চলাকালে আত্মঘাতী বোমা হামলায় অন্তত ৩১ জন মুসল্লি নিহত এবং প্রায় ১৭০ জন আহত হন। এ হামলার দায় স্বীকার করে ইসলামিক স্টেট (আইএস)।

পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর দাবি, ওই হামলার পরিকল্পনা, প্রশিক্ষণ ও আদর্শিক প্রস্তুতি আফগানিস্তানেই সম্পন্ন হয়। তথ্য মন্ত্রণালয় আরও জানায়, ২০২০ সালে কাতারের রাজধানী দোহাতে যুক্তরাষ্ট্র-এর সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী আফগান ভূখণ্ড অন্য দেশের বিরুদ্ধে ব্যবহার না করার যে প্রতিশ্রুতি তালেবান দিয়েছিল, তা বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে চাপ প্রয়োগের আহবান জানায় ইসলামাবাদ।

পাকিস্তানে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যার বেশিরভাগের জন্য টিটিপি ও নিষিদ্ধ বেলুচ বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করছে দেশটি। যদিও তালেবান সরকার বরাবরের মতোই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

গত অক্টোবর থেকে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সম্পর্ক আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সীমান্ত সংঘর্ষে উভয় পক্ষের সেনা, বেসামরিক মানুষ ও সন্দেহভাজন যোদ্ধাসহ বহু প্রাণহানি ঘটে। কাতারের মধ্যস্থতায় ১৯ অক্টোবর একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও পরে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত আলোচনা কোনো চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়।

আপন দেশ/জেডআই

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়