Apan Desh | আপন দেশ

‘স্বৈরাচারী’ শাসনের অধীনে বিশ্বের ৭২ শতাংশ মানুষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ২০:১৩, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

‘স্বৈরাচারী’ শাসনের অধীনে বিশ্বের ৭২ শতাংশ মানুষ

সংগৃহীত ছবি

বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার পরিস্থিতি ‘সংকটাপন্ন অবস্থায়’ রয়েছে, যেখানে বিশ্বের ৭২ শতাংশ জনসংখ্যা এখন ‘স্বৈরাচার’-এর অধীনে বাস করছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের (এইচআরডব্লিউ) বার্ষিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) বার্ষিক প্রতিবেদন ২০২৬ প্রকাশ করেছে এইচআরডব্লিউ। প্রতিবেদনে সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়া ‘এমন নেতাদের দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে যারা নিয়মের প্রতি প্রকাশ্যে অবজ্ঞা প্রদর্শন করছেন। ‘যথেষ্ট অর্থনৈতিক, সামরিক ও কূটনৈতিক ক্ষমতার অধিকারী’।

এইচআরডব্লিউ তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে কর্তৃত্ববাদী দেশে পরিণত করছেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসে প্রত্যাবর্তনের পর মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতি আরও ত্বরান্বিত হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বিষয়ে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ট্রাম্প মানবাধিকারের প্রতি স্পষ্ট অবজ্ঞা দেখিয়েছেন ও চরমভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছেন। বিতর্কিত অভিবাসন পুলিশ ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইস) মুখোশধারী ও সশস্ত্র এজেন্টরা শত শত সহিংস ও নিপীড়নমূলক অভিযান চালিয়েছে, যা আগে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অকল্পনীয় ছিল।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্ণ ও জাতিগত দোষারোপ, ক্ষমতার অপব্যবহার করে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন, রাজনৈতিক শত্রু ও সমালোচকদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ গ্রহণ ও নির্বাহী ক্ষমতা বাড়িয়ে গণতান্ত্রিক ভারসাম্য নষ্ট করার চেষ্টা—এসব থেকে সুস্পষ্ট বোঝা যায় যুক্তরাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থা কর্তৃত্ববাদের দিকে মোড় নিচ্ছে।

এইচআরডাব্লিউ আবারও অভিযোগ করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র সরকার বলপূর্বক গুমের সঙ্গে জড়িত—যা আন্তর্জাতিক আইনে অপরাধ। ২৫২ জন ভেনেজুয়েলার অভিবাসীকে এল সালভাদরের কারাগারে পাঠানোকে এর উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এইচআরডাব্লিউর প্রতিবেদনে চীন ও রাশিয়ার ব্যাপারে বলা হয়েছে, রাশিয়া ও চীনের কারণে বিশ্বের মানবাধিকার পরিস্থিতি আগে থেকেই চাপের মুখে ছিল। প্রতিবেদন মতে, বৈশ্বিক গণতন্ত্রের সূচক এখন ১৯৮৫ সালের পর্যায়ে নেমে গেছে। সংস্থাটি বলেছে, ‘রাশিয়া ও চীনের নাগরিকরা ২০ বছর আগের চেয়ে এখন কম স্বাধীনতা ভোগ করে।’

সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ফিলিপ বোলোপিওন মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, গণতন্ত্র, আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের ভিত্তিতে জোট গঠন করা জরুরি, যাতে ট্রাম্পের মতো শুল্ক আরোপকারী নেতাদের মোকাবিলা করা যায়।

এইচআরডাব্লিউর ৫২৯ পৃষ্ঠার এই প্রতিবেদনটি মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের সম্পূর্ণ বিপরীত। পররাষ্ট্র দফতরের প্রতিবেদনে ট্রাম্পের মিত্র দেশগুলোর মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়গুলো এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, এল সালভাদরে ২০২৪ সালে কোনো বড় ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেনি, অপরাধ ‘ঐতিহাসিক পর্যায়ে’ নেমে এসেছে বলে দাবি করা হয়।

তবে এইচআরডাব্লিউর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এল সালভাদরে গ্যাং সহিংসতা কমলেও ২০২৫ সালে গণগ্রেপ্তার, গুম ও নির্যাতনের মতো ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে।

এছাড়া প্রতিবেদনে ইসরাইলকে গাজায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ, গণহত্যা ও জাতিগত নিধন’ চালানোর জন্য আবারও অভিযুক্ত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ হত্যা, অনাহার ও জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির মাধ্যমে তাদের নৃশংসতা আরও বাড়িয়েছে। যদিও ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে।

আপন দেশ/এমবি

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

সম্পর্কিত বিষয়:

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়