Apan Desh | আপন দেশ

যে ভুলে অজান্তেই বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১২:০৫, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপডেট: ১২:৪৫, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যে ভুলে অজান্তেই বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি

ছবি: আপন দেশ

অজান্তেই প্রতিদিনের কিছু অভ্যাস ডেকে আনছে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি। 

সামান্য মনে হওয়া এসব ভুলই ধীরে ধীরে শরীরে তৈরি করতে পারে নানা জটিলতা, অথচ অনেকেই তা বুঝতে পারেন না সময়মতো। কোন ভুলগুলো নীরবে বাড়িয়ে দিচ্ছে অসুস্থতার ঝুঁকি, আর কীভাবে এড়িয়ে চলা সম্ভব।

বাসে বসে জানালা দিয়ে কিনে নিলেন আমড়া, শসা কিংবা পেয়ারা মাখা। পথে হাঁটতে হাঁটতে খেলেন ঝালমুড়ি, ছোলা বা ভাজাপোড়া। আবার অফিসের নিচে আড্ডার ফাঁকে গরম শিঙাড়া, পুরি কিংবা পিঠা খাওয়াও অনেকের নিত্যদিনের অভ্যাস। 

কিন্তু এসব খাবার যদি কাগজের ঠোঙা, পুরোনো পত্রিকা কিংবা সাধারণ ছাপানো কাগজে দেয়া হয়, তাহলে বিষয়টি নিয়ে সচেতন হওয়া জরুরি।

খাবার পরিবেশনে কাগজ ব্যবহার অনেকের কাছে সহজ ও সাশ্রয়ী মনে হলেও, এতে খাবারের সঙ্গে কাগজের কালি ও বিভিন্ন জীবাণু মিশে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। 

বিশেষ করে গরম, তেলযুক্ত বা ভেজা খাবারের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।

আরও < > সৌদি প্রবাসীদের জরুরি নির্দেশনা, মানতে হবে যেসব নিয়ম

কাগজের ঠোঙায় খাবার কতটা ঝুঁকিপূর্ণ : রাস্তার পাশে খাবারের দোকান বা ফেরিওয়ালাদের অনেক সময় পত্রিকার পাতা, সাধারণ কাগজ কিংবা কাগজের ঠোঙায় খাবার দিতে দেখা যায়। 

আচার, আমড়া, শসা, ঝালমুড়ি, ছোলা, পিঁয়াজু, বেগুনি, ফুচকা, শিঙাড়া, পুরি, জিলাপি, পরোটা কিংবা লুচির মতো খাবার এসব কাগজে পরিবেশন করা হয়।

অনেক সময় খাবারের বাড়তি তেল শুষে নেওয়া কিংবা চামচের বিকল্প হিসেবেও কাগজ ব্যবহার করা হয়। এতে কাগজের কালি খাবারের সংস্পর্শে আসার সুযোগ তৈরি হয়। 

বিশেষ করে কাগজে পানি বা তেল লাগলে কালির কিছু উপাদান খাবারের সঙ্গে মিশে যেতে পারে।

কালির ক্ষতিকর উপাদান খাবারে মিশতে পারে : কাগজের ছাপার কালিতে বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক উপাদান থাকতে পারে। এসব উপাদান খাবারের সঙ্গে শরীরে প্রবেশ করলে দীর্ঘমেয়াদে নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

এর মধ্যে কিডনি ও লিভারের প্রদাহ, হৃদ্‌রোগ, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, স্নায়ুতন্ত্রের সমস্যা এবং প্রজননসংক্রান্ত জটিলতার মতো বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। 

দীর্ঘদিন এসব রাসায়নিকের সংস্পর্শে থাকলে খাদ্যনালী, পাকস্থলী, বৃহদান্তর ও লিভারের মতো অঙ্গের ক্যানসারের ঝুঁকির সঙ্গেও এ সম্পর্ক থাকতে পারে।

গরম ও তেলযুক্ত খাবারে ঝুঁকি বেশি : শিঙাড়া, সমুচা, পুরি, পরোটা বা ভাজাপোড়ার মতো গরম ও তেলযুক্ত খাবার কাগজে রাখলে কাগজের কালি খাবারের সঙ্গে মিশে যাওয়ার সুযোগ বাড়ে। 

একইভাবে শসা, আমড়া বা আচারের মতো ভেজা খাবারও কাগজের কালি ও অন্যান্য উপাদানের সংস্পর্শে আসে।

তেল ও পানি কাগজের কিছু রাসায়নিক উপাদান খাবারের দিকে স্থানান্তরে সহায়তা করতে পারে। ফলে কাগজে রাখা খাবার খাওয়ার সময় অজান্তেই এসব উপাদান শরীরে ঢুকে যেতে পারে।

পুরোনো কাগজে থাকতে পারে জীবাণু : শুধু কালিই নয়, অপরিষ্কার বা পুরোনো কাগজেও বিভিন্ন রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণু থাকতে পারে। এমন কাগজ খাবারের সংস্পর্শে এলে জীবাণু খাবারে চলে আসার আশঙ্কা থাকে।

পরে সেই খাবার খেলে পাকস্থলী ও অন্ত্রে প্রদাহ, হজমের সমস্যা এবং অন্যান্য পেটের অসুস্থতা দেখা দিতে পারে। তাই খাবার পরিবেশনের ক্ষেত্রে কাগজের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।

কারা বেশি ঝুঁকিতে : যারা দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত কাগজের ঠোঙা বা পত্রিকার পাতায় দেওয়া খাবার খান, তাদের এ বিষয়ে বেশি সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। 

নিয়মিত এমন খাবার খাওয়ার অভ্যাসের কারণে দীর্ঘমেয়াদে কাগজের কালি ও অন্যান্য ক্ষতিকর উপাদানের সংস্পর্শে আসার সুযোগ বাড়ে।

চিকিৎসকের পরামর্শ : চিকিৎসকের পরামর্শ, কাগজের ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করার প্রয়োজন নেই; বরং খাবার রাখার ক্ষেত্রে নিরাপদ ও খাদ্য রাখার উপযোগী কাগজ ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। 

সাধারণ ছাপানো কাগজ, পত্রিকার পাতা কিংবা হাতে লেখা কাগজে খাবার দেওয়া এড়িয়ে চলতে হবে।

খাবার পরিবেশনের জন্য পরিষ্কার সাদা কাগজ, টিস্যু বা কাগজের তোয়ালে ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে রঙিন টিস্যু ব্যবহার না করাই ভালো। 

বিশেষ করে গরম, তেলযুক্ত বা ভেজা খাবার পত্রিকার পাতা কিংবা সাধারণ ছাপানো কাগজে না রাখাই নিরাপদ।

ক্রেতাদেরও এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে। কাগজের ঠোঙা বা পত্রিকার পাতায় দেয়া খাবার এড়িয়ে নিরাপদভাবে পরিবেশন করা খাবার বেছে নিলে বিক্রেতারাও ধীরে ধীরে এ ধরনের কাগজের ব্যবহার কমাতে উৎসাহিত হবেন।

তাই রাস্তার খাবার খাওয়ার সময় শুধু খাবারটি কী, সেটিই নয়—কোন পাত্র বা কাগজে খাবারটি দেয়া হচ্ছে, সেদিকেও নজর রাখা জরুরি।

 

আপন দেশ/এমটিআই

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়