ছবি : সংগৃহীত
বিশ্বব্যাপী থাইরয়েড ক্যান্সার একটি ক্রমবর্ধমান ঘটনা। যদিও এটি নিয়ন্ত্রণযোগ্য ক্যান্সারের মধ্যে পড়ে। প্রাথমিক অবস্থায় শনাক্ত হলে এর থেকে মুক্তিও পাওয়া যায়।
চিকিৎসকরা সতর্ক করে বলছেন প্রাথমিক উপসর্গগুলো প্রায়শই ব্যথাহীন হওয়ায় রোগটি প্রাথমিক পর্যায়ে সহজে শনাক্ত হয় না। এর ফলে পরে রোগ সনাক্ত হয় এবং চিকিৎসা জটিল হয়ে পড়ে।
গত দুই দশকে বৈশ্বিক ক্যান্সার ডেটা অনুযায়ী থাইরয়েড ক্যান্সারের হার ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে মহিলাদের এবং তরুণদের মধ্যে।
চিকিৎসকরা বলেন, থাইরয়েড হলো একটি ছোট প্রজাপতির আকৃতির গ্রন্থি যা গলার সামনে অবস্থান করে। এটি বিপাক, হার্ট রেট এবং শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রাথমিক থাইরয়েড ক্যান্সার প্রায়শই ব্যথাহীন হওয়ায় অনেক রোগী উপসর্গ লক্ষ্য করেন না।
প্রাথমিক শনাক্তকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রাথমিক অবস্থায় ক্যান্সার ধরা পড়লে সহজে চিকিৎসা করা যায় এবং দীর্ঘমেয়াদী ফলাফলও ভালো থাকে।
থাইরয়েড ক্যান্সারের ৭টি প্রাথমিক লক্ষণ
১. গলায় ব্যথাহীন ফোলা বা গাঁট: গলায় নতুন, বড় বা শক্ত কোনো গাঁট অবশ্যই ডাক্তার দ্বারা পরীক্ষা করানো উচিত। অধিকাংশ গাঁট ভালো কোষের হলেও প্রাথমিক সতর্কতা জরুরি।
২. দীর্ঘস্থায়ী কণ্ঠহ্রাস বা ভয়েস পরিবর্তন:সপ্তাহের পরেও ঠিক না হওয়া কণ্ঠহ্রাস হলে তা নার্ভের প্রভাব নির্দেশ করতে পারে।
৩. গিলে খাওয়ার অসুবিধা (ডিসফ্যাজিয়া): থাইরয়েড গ্রন্থি বড় হলে খাদ্যনালীতে চাপ দিয়ে গিলে খাওয়া অসুবিধা সৃষ্টি করতে পারে।
আরও পড়ুন <<>> ঢাকায় চালু পূর্ণাঙ্গ ডেন্টাল হাসপাতাল ‘এডিএ’
৪. শ্বাসকষ্ট বা গলার আঁটসাঁট ভাব: বড় টিউমার ট্র্যাখিয়াকে চাপ দিলে বিশেষ করে শোয়ার সময় শ্বাসকষ্ট হতে পারে।
৫. কানের দিকে ব্যথা ছড়ানো গলা বা গলার ব্যথা: সংক্রমণ বা আঘাত ছাড়া গলায় ব্যথা হলে তা গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা। কখনও কখনও ব্যথা কানে ছড়িয়ে যেতে পারে।
৬. গলায় লিম্ফ নোডের ফোলা: শক্ত, ব্যথাহীন এবং সময়ের সঙ্গে কমে না যাওয়া লিম্ফ নোড ক্যান্সার ছড়ানোর ইঙ্গিত দিতে পারে।
৭. দীর্ঘস্থায়ী, অজানা কাশি: শুকনো, দীর্ঘস্থায়ী কাশি যা অ্যালার্জি বা সংক্রমণের কারণে নয়, থাইরয়েড ক্যান্সারের লক্ষণ হতে পারে।
প্রাথমিক শনাক্তকরণের গুরুত্ব
উপসর্গগুলোর মধ্যে এক বা একাধিক থাকা মানে ক্যান্সার নিশ্চিত নয়, তবে দীর্ঘস্থায়ী উপেক্ষা রোগকে পরবর্তী পর্যায়ে ঠেলে দিতে পারে। প্রাথমিক অবস্থায় শনাক্ত হলে থাইরয়েড ক্যান্সার নিরাময় করা সহজ।
রোগনির্ণয় সাধারণত গলা আল্ট্রাসাউন্ড, রক্ত পরীক্ষা এবং ফাইন-নিডল অ্যাস্পিরেশন বায়োপসি-এর মাধ্যমে করা হয়। প্রাথমিক ধাপের চিকিৎসায় সার্জারি, রেডিওএক্টিভ আয়োডিন থেরাপি বা টার্গেটেড ট্রিটমেন্ট অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গলার দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন, কণ্ঠের পরিবর্তন, গিলে খাওয়ার অসুবিধা বা অজানা কাশি লক্ষ্য করলে দ্রুত পরীক্ষা করানো নিরাপদ এবং কার্যকর। প্রাথমিক সতর্কতা রক্ষা করলে রোগের দীর্ঘমেয়াদী ফলাফল ভালো হতে পারে।
আপন দেশ/এসএস




































