ছবি : সংগৃহীত
ইউরোপ ভ্রমণের স্বপ্ন অনেকেরই। তবে জার্মানির মাটিতে পা রাখতে সব দেশের নাগরিককেই ভিসার ঝামেলায় পড়তে হয় না।
বিশ্বের এমন ৮টি দেশের নাগরিক রয়েছেন, যারা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে আগাম ভিসা ছাড়াই জার্মানিতে প্রবেশ করতে পারেন। কোন কোন দেশের নাগরিকরা পাচ্ছেন এই সুবিধা, আর কী কী শর্ত মানতে হয়—জেনে নিন।
জার্মানিতে গিয়ে চাকরি খোঁজার সুযোগ তৈরি করা ‘অপরচুনিটি কার্ড’-এর ক্ষেত্রে আট দেশের নাগরিকদের জন্য রয়েছে বিশেষ সুবিধা। এসব দেশের নাগরিকদের জার্মানিতে যাওয়ার আগে অপরচুনিটি কার্ডের আলাদা ভিসা নিতে হয় না। দেশটিতে প্রবেশের পর স্থানীয় অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করে বসবাসের অনুমতি নেয়ার সুযোগ রয়েছে।
তবে এই সুবিধা বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য প্রযোজ্য নয়। বাংলাদেশসহ তালিকার বাইরে থাকা দেশগুলোর নাগরিকদের জার্মানিতে যাওয়ার আগেই অপরচুনিটি কার্ডের ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে।
জার্মানির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুক্তরাজ্যস্থ দূতাবাসের নির্দেশনা অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের নাগরিকদের পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ইসরায়েল, জাপান, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকেরা এই সুবিধার আওতায় রয়েছেন।
ভিসামুক্ত প্রবেশের অর্থ এই নয় যে জার্মানিতে পৌঁছানোর পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে অপরচুনিটি কার্ড পাওয়া যাবে। কার্ড পেতে হলে আবেদনকারীকে জার্মান সরকারের নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করতে হবে।
দেশটিতে পৌঁছানোর পর প্রথমে বাসস্থানের ঠিকানা নিবন্ধন করতে হবে। জার্মান কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী, বাসস্থানে ওঠার দুই সপ্তাহের মধ্যে ঠিকানা নিবন্ধনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। এরপর জার্মানিতে প্রবেশের ৯০ দিনের মধ্যে স্থানীয় বিদেশি নাগরিকবিষয়ক দপ্তরে বসবাসের অনুমতির জন্য আবেদন করতে হবে।
তবে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা না করে দ্রুত সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছে জার্মান কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে বড় শহরগুলোর অভিবাসন দফতরে সাক্ষাতের সময় পেতে দেরি হতে পারে।
বাংলাদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে নিয়মটি আলাদা। জার্মানিতে যাওয়ার আগেই অপরচুনিটি কার্ডের ভিসার আবেদন করতে হবে তাদের। অর্থাৎ ভিসা ছাড়া জার্মানিতে গিয়ে পরে দেশটিতে বসে অপরচুনিটি কার্ডের জন্য আবেদন করার সুযোগ বাংলাদেশিদের নেই।
তাই জার্মানিতে গিয়ে চাকরি খোঁজার পরিকল্পনা করা বাংলাদেশিদের ভ্রমণের আগে ভিসাসহ প্রয়োজনীয় সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দক্ষ ও যোগ্য কর্মীদের জার্মানিতে এসে চাকরি খোঁজার সুযোগ দেয়াই অপরচুনিটি কার্ডের মূল উদ্দেশ্য। আগে থেকেই চাকরির চুক্তি না থাকলেও নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলে যোগ্য ব্যক্তিরা জার্মানিতে গিয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ খুঁজতে পারেন।
সাধারণভাবে অপরচুনিটি কার্ড সর্বোচ্চ এক বছরের জন্য দেয়া হয়। যোগ্যতা অর্জনের জন্য রয়েছে দুটি প্রধান পথ। একটি হলো জার্মানিতে স্বীকৃত বিদেশি পেশাগত বা একাডেমিক যোগ্যতা থাকা। অন্যটি পয়েন্টভিত্তিক ব্যবস্থা, যেখানে আবেদনকারীকে অন্তত ছয় পয়েন্ট অর্জন করতে হয়।
সৌদিতে হুতির মুহুর্মুহু হামলা, জেদ্দাসহ বিভিন্ন শহরে সতর্কতা
পয়েন্ট নির্ধারণের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত ও পেশাগত যোগ্যতা, জার্মান বা অন্য ভাষায় দক্ষতা, বয়স এবং কাজের অভিজ্ঞতাসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করা হয়।
অপরচুনিটি কার্ডের জন্য শুধু শিক্ষাগত বা পেশাগত যোগ্যতা থাকলেই হবে না। জার্মানিতে অবস্থানের সময় নিজের খরচ চালানোর সক্ষমতার প্রমাণও দিতে হবে আবেদনকারীকে।
২০২৬ সালের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মাসে ন্যূনতম ১ হাজার ৯১ ইউরোর সমপরিমাণ অর্থের ব্যবস্থা থাকার প্রমাণ প্রয়োজন হতে পারে।
জার্মানিতে পৌঁছানোর পর অপরচুনিটি কার্ডধারীরা নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে কাজও করতে পারবেন। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২০ ঘণ্টা খণ্ডকালীন কাজের সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি সম্ভাব্য চাকরির উপযুক্ততা যাচাইয়ের জন্য পরীক্ষামূলক কাজের সুযোগও রয়েছে।
আট দেশের নাগরিকদের জন্য প্রক্রিয়াটি তুলনামূলক সহজ হলেও ভিসামুক্ত প্রবেশের ক্ষেত্রে কিছু সতর্কতা রয়েছে। স্থানীয় অভিবাসন দপ্তরের নিয়ম ও আবেদন গ্রহণের প্রক্রিয়ায় পার্থক্য থাকতে পারে।
জার্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুক্তরাজ্যস্থ দূতাবাসের নির্দেশনায় বার্লিনের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতার কথা বলা হয়েছে। নির্দিষ্ট ধরনের ভিসা ছাড়া জার্মানিতে গিয়ে স্থানীয়ভাবে অপরচুনিটি কার্ডের আবেদন করতে গিয়ে সমস্যার মুখে পড়তে পারেন আবেদনকারীরা।
এ কারণে ভ্রমণের আগে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় বিদেশি নাগরিকবিষয়ক দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ করে সেখানে আবেদন গ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
জার্মানিতে দক্ষ কর্মীর ঘাটতি পূরণে বিদেশি কর্মীদের আকৃষ্ট করার অন্যতম উদ্যোগ হিসেবে অপরচুনিটি কার্ড চালু করেছে দেশটি। এর মাধ্যমে যোগ্য চাকরিপ্রার্থীরা জার্মানিতে গিয়ে নিয়োগদাতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে কর্মসংস্থানের সুযোগ খুঁজতে পারেন।
তবে ভিসামুক্ত প্রবেশের এই সুবিধা সীমিত কয়েকটি দেশের নাগরিকদের জন্যই প্রযোজ্য; বাংলাদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে জার্মানিতে যাওয়ার আগে অপরচুনিটি কার্ডের ভিসা নেয়ার নিয়ম বহাল রয়েছে।
আপন দেশ/এমটিআই
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।





































