Apan Desh | আপন দেশ

খান ব্রাদার্সের চেয়ারম্যানসহ ৭ জনকে ১.৪০ কোটি টাকা জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১৪:০৯, ১০ জুলাই ২০২৬

আপডেট: ১৪:১৯, ১০ জুলাই ২০২৬

খান ব্রাদার্সের চেয়ারম্যানসহ ৭ জনকে ১.৪০ কোটি টাকা জরিমানা

ছবি : আপন দেশ

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। ২০২৩ সালের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে গুরুতর অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়। 

তাই কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের পাঁচ সদস্যসহ মোট সাতজনের বিরুদ্ধে ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। 

সম্প্রতি কমিশন এ-সংক্রান্ত আদেশ জারি করেছে।

বিএসইসির আদেশ অনুযায়ী, কোম্পানির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ এনামুল কবির খান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক তোফায়েল কবির খান এবং পরিচালক মো. রুহুল কবির খান, হযরত আলী ও জারিন কবির খানকে ২৫ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা (সিএফও) মো. আজিজুল জব্বারকে ১০ লাখ টাকা এবং কোম্পানি সচিব তপন কুমার সরকারকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

আদেশে বলা হয়, জরিমানার অর্থ আদেশ জারির ৩০ দিনের মধ্যে ব্যাংক ড্রাফট বা পে-অর্ডারের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ পরিশোধ না করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম জানান, কোম্পানিটির বিরুদ্ধে উত্থাপিত বিভিন্ন অভিযোগ তদন্ত করে আর্থিক প্রতিবেদনে একাধিক অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেছে। এর ভিত্তিতেই কমিশন সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে।

তদন্তে দেখা গেছে, ২০২৩ সালের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণীতে কোম্পানিটি মজুদ পণ্যের মূল্য প্রকৃত অবস্থার তুলনায় অনেক বেশি দেখিয়েছে। প্রতিবেদনে কাঁচামাল ও উৎপাদিত পণ্যের মজুদ প্রায় ৫৯ কোটি ৭৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা উল্লেখ করা হলেও নিরীক্ষকের যাচাইয়ে প্রায় ৪০ কোটি ৭০ লাখ ৩৮ হাজার টাকার ঘাটতি ধরা পড়ে।

এ ছাড়া কোম্পানির মালিকানাধীন ৪৬১ দশমিক ৫০ ডেসিমেল জমির একই সীমানার মধ্যে ‘খান ব্রাদার্স ব্যাগ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড’ ও ‘খান ব্রাদার্স মার্বেল অ্যান্ড গ্রানাইট লিমিটেড’ বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করলেও এ থেকে কোনো ভাড়া বা লিজ আয় আর্থিক প্রতিবেদনে দেখানো হয়নি।

তদন্তে আরও উঠে এসেছে, প্রায় ৬ কোটি ২২ লাখ টাকার রপ্তানি বিল দীর্ঘ সময় ধরে অনাদায়ী থাকলেও তার বিপরীতে কোনো প্রভিশন বা সঞ্চিতি রাখা হয়নি, যা আন্তর্জাতিক হিসাবমানের পরিপন্থী। একই সঙ্গে সাব-কনট্রাক্ট কাজ থেকে ১০ কোটি ৯ লাখ টাকার আয় দেখানো হলেও ওই আয়ের বিপরীতে ভ্যাট কিংবা অগ্রিম আয়কর (এআইটি) পরিশোধের তথ্য পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন : ফের বাড়ল স্বর্ণের দাম, আজ থেকে কার্যকর

বিএসইসির মতে, এসব অনিয়ম বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্ত করার পাশাপাশি আর্থিক প্রতিবেদনের স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। তাই বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা এবং বাজারে সুশাসন নিশ্চিত করতে কমিশন সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে।

আপন দেশ/এনএম

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

সম্পর্কিত বিষয়:

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়