Apan Desh | আপন দেশ

রাজবাড়ীতে পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ কৃষি বিভাগের

রাজবাড়ী প্রতিনিধি, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১৯:১৬, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

রাজবাড়ীতে পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ কৃষি বিভাগের

ফাইল ছবি, আপন দেশ

পেঁয়াজের আমদানি নির্ভরতা কমাতে এবং ঘাটতি মেটাতে দেশে পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে কৃষি বিভাগ। এরই ধারাবাহিকতায় রাজবাড়ীতে চলতি মৌসুমে আবাদ সম্প্রসারণ ও উৎপাদন বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। জেলাটি পেঁয়াজ উৎপাদনে দেশের তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। 

জেলার পাঁচ উপজেলায় হালি, মুড়িকাটা ও কদম পেঁয়াজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০ হাজার ৯শ’ ৩২ হেক্টর জমি। কৃষকদের পেঁয়াজ চাষে উৎসাহিত করতে বিনামূল্যে বীজ, সার ও প্রণোদনা দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আগামী ফেব্রুয়ারি-মার্চে শুরু হবে হালি পেঁয়াজের চাষ। ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় আগাম মুড়িকাটা পেঁয়াজের আবাদ শুরু হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, গত বছর এ জেলায় ৪০ হাজার ৯শ’ ৩২ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছিল। চলতি মৌসুমে রাজবাড়ী সদর, গোয়ালন্দ, পাংশা, কালুখালী ও বালিয়াকান্দি উপজেলায় একই পরিমাণ জমিতে আবাদ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে হালি পেঁয়াজের লক্ষ্যমাত্রা ৩৪ হাজার ৭শ’ ৭৮ হেক্টর, মুড়িকাটা পেঁয়াজের ৬ হাজার ১৩ হেক্টর এবং কদম পেঁয়াজের ১শ’ ৪১ হেক্টর।

পাঁচ উপজেলায় এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৯ শ’ ৩৩ হেক্টর জমিতে মুড়িকাটা পেঁয়াজের আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে গোয়ালন্দ উপজেলায় ৯ শ’ ১১ হেক্টর, কালুখালীতে ৭ শ’ ৫০ হেক্টর, বালিয়াকান্দিতে ১ শ’ ৫০ হেক্টর, পাংশায় ৮০ হেক্টর এবং রাজবাড়ী সদরে ৪২ হেক্টর জমিতে এ পেঁয়াজের চাষ হয়েছে। আগাম পেঁয়াজ উৎপাদনে গোয়ালন্দ ও কালুখালী উপজেলা এগিয়ে রয়েছে। 

আরও পড়ুন<<>>সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে চেক বিতরণ

গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর এলাকার কৃষক হাবিল মণ্ডল বলেন, পেঁয়াজ আমাদের এলাকার অন্যতম প্রধান অর্থকরী ফসল। এ ফসলের আবাদ করে অনেক কৃষক তাদের সংসারের খরচ চালান। তবে বীজ, সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরিসহ উৎপাদন খরচ দিন দিন বাড়ছে। সময়মতো প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ ও সরকারি সহায়তা পেলে আমরা আরও বেশি জমিতে পেঁয়াজের আবাদ করতে পারব। উৎপাদিত পেঁয়াজের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে কৃষকরা পেঁয়াজ চাষে আরও উৎসাহিত হবেন বলে মনে করি।

রাজবাড়ী সদর উপজেলার বরাট ইউনিয়নের নয়নসুখ গ্রামের কৃষক গোলাম মোস্তফা বলেন, পেঁয়াজ চাষে ভালো ফলন পেতে সময়মতো জমি প্রস্তুত, উন্নতমানের বীজ ব্যবহার এবং সঠিক পরিচর্যা জরুরি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং রোগবালাই নিয়ন্ত্রণে রাখা গেলে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। তবে উৎপাদন খরচের সঙ্গে বাজারদরের সামঞ্জস্য না থাকলে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হন। কৃষকদের জন্য সহজ শর্তে কৃষি উপকরণ সরবরাহ এবং পেঁয়াজ সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা গেলে তারা আরও উপকৃত হবেন।

রাজবাড়ী দেশের অন্যতম প্রধান পেঁয়াজ উৎপাদনকারী জেলা হওয়ায় এ ফসল জেলার কৃষি অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। চলতি মৌসুমে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী আবাদ সম্পন্ন হলে উৎপাদনে জেলার অবস্থান ধরে রাখা ও আরও শক্তিশালী করার সুযোগ সৃষ্টি হবে। তবে কৃষকদের উৎপাদন খরচ কমানো, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং উৎপাদিত পেঁয়াজ সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণের সুযোগ বাড়ানোও গুরুত্বপূর্ণ।

কৃষি বিপণন কর্মকর্তা নাইম আহম্মেদ বলেন, পেঁয়াজের বাজার স্থিতিশীল রাখতে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি সারা বছর নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। উৎপাদন কমে যাওয়া, সংরক্ষণ ও পরিবহনে সমস্যা কিংবা বাজারে সরবরাহের ঘাটতি দেখা দিলে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যেতে পারে। এ কারণে আগাম মুড়িকাটা পেঁয়াজের আবাদ ও উৎপাদনের পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ে হালি পেঁয়াজের চাষ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন।

রাজবাড়ী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ পরিচালক মো. এনামুল হক বলেন, কৃষকদের পেঁয়াজ চাষে উদ্বুদ্ধ করতে মাঠপর্যায়ে কৃষি বিভাগের কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। পেঁয়াজের আবাদ সম্প্রসারণ ও উৎপাদন বাড়াতে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। বিনামূল্যে বীজ, সার ও প্রণোদনা দেয়ার উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে উৎপাদন কার্যক্রমে আরও গতি আসবে বলে আশা করছি।

আপন দেশ/এসআর

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়