Apan Desh | আপন দেশ

ঝুনকার চরে তালাবদ্ধ সরকারি স্কুল, ক্ষোভ শিক্ষার্থীদের ​

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি, আপন দেশ

প্রকাশিত: ২১:২০, ১৭ আগস্ট ২০২৬

ঝুনকার চরে তালাবদ্ধ সরকারি স্কুল, ক্ষোভ শিক্ষার্থীদের ​

ছবি: আপন দেশ

ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত কুড়িগ্রাম সদরের যাত্রাপুর ইউনিয়নের একটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপচর ‘ঝুনকার চর’। এ চরের শিক্ষার একমাত্র আলো ‘খেওয়ার আলগার চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকদের দায়িত্বে অবহেলা ও অনিয়মের কারণে স্কুলের পাঠদান প্রায় বন্ধ। 

সোমবার (১৭ আগস্ট) সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়টি দিনভর তালাবদ্ধ। খোলা হয়নি কোন শ্রেণিকক্ষের তালা, এমনকি উত্তোলন করা হয়নি জাতীয় পতাকাও।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) থেকে দ্বিতীয় প্রান্তিক মূল্যায়ন (২য় সাময়িকী) পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা। পরীক্ষার আগের দিন সকাল থেকে শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসতে শুরু করে। তবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রোদের মধ্যে অপেক্ষা করেও কোনো শিক্ষকের দেখা মেলেনি। বেলা গড়িয়ে দুপুর হলে বিদ্যালয়টি তালা না খোলায় ক্ষুব্ধ ও ধৈর্যহারা হয়ে পড়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে শ্রেণিকক্ষের তালা ভাঙার চেষ্টা করে অবুঝ শিশুরা এবং চিৎকার করে এর প্রতিবাদ জানায়। তালাবদ্ধ থাকায় সরকার নির্ধারিত 'মিড ডে মিল' খাদ্যসামগ্রী বিতরণ থেকেও বঞ্চিত হয় শিশুরা।

নদীবেষ্টিত চরের বুকে শিশুদের এমন বিক্ষোভ দেখে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। ​শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, প্রায় ৮০ জন শিক্ষার্থীর এ বিদ্যালয়ে মোট চারজন শিক্ষক থাকলেও তারা নিয়মিত স্কুলে উপস্থিত হয় না। শিক্ষকরা নিজেদের সুবিধামতো দিন ভাগ করে সপ্তাহে দু-এক দিন হাজিরা দেন। তাদের মধ্যে একজন সহকারী শিক্ষক একেবারেই স্কুলে আসেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি বিদ্যালয়ে কোন হাজিরা খাতাও রাখা হয় না। 

আরও পড়ুন<<>>দশানী-গিলাতলা সড়কের সংস্কার কাজের উদ্বোধন করলেন সেতুমন্ত্রী

​চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, মঙ্গলবার থেকে পরীক্ষা শুরু। নির্দেশনার জন্য স্কুলে এসেছি, অথচ আজ একজন শিক্ষকও আসলেন না। এভাবে অবহেলায় আমাদের পড়ালেখা আর ভবিষ্যৎ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

​স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও বর্তমানে অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্র আল-আমিন জানান, ২০১৬ সালে পুরোনো প্রধান শিক্ষক অবসরে যাওয়ার পর থেকেই বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হয়ে গেছে। 

তিনি আরও বলেন, অনিয়মের বিষয়ে ইউএনও বরাবর লিখিত অভিযোগ দেয়া হলেও কোনো প্রতিকার মেলেনি। দুই সপ্তাহ আগে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তদন্তে এসে অভিযোগের সত্যতা পেলেও অদৃশ্য কারণে কোনো ব্যবস্থা নেননি।

​অভিযোগের বিষয়ে খেওয়ার আলগার চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ইশরাত জাহানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

​এ ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক আখ্যা দিয়ে জেলা চর উন্নয়ন কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক সাইয়েদ আহমেদ বাবু বলেন, শিক্ষা ও শিক্ষার্থীদের প্রতি এমন অবহেলা খুবই দুঃখজনক। কিছু শিক্ষকের কতিপয় কর্মকাণ্ডে চরের শিশুদের ভবিষ্যতের সঙ্গে ছিনিমিনি খেলা বন্ধ করতে হবে। ঘটনায় জড়িত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি করছি। একই সঙ্গে সকল স্কুলে নজরদারি বাড়ানোর জন্য জেলা প্রশাসকের প্রতি অনুরোধ করছি।

​কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোবাশ্বের আলী বলেন, সোমবার কোনো শিক্ষক স্কুলে উপস্থিত ছিলেন না, ঘটনা সত্য। দায়িত্বে অবহেলার কারণে সব শিক্ষককে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেয়া হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার জোর সুপারিশ করা হচ্ছে।

​জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্বপন কুমার রায় চৌধুরী জানান, ঘটনা জানার পরপরই অভিযুক্ত সব শিক্ষককে শোকজের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বিধি অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এবিষয়ে জেলা প্রশাসক অর্ণপূর্ণা দেবনাথ বলেন, বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে অভিযুক্ত সব শিক্ষককে শোকজের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বিধি অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, শুধু ঐ স্কুল নয়, জেলার সকল উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দিয়েছি এরকমের অভিযোগ,অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য।

আপন দেশ/এসআর

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement