Apan Desh | আপন দেশ

মাদকবিরোধী অভিযানে হামলার শিকার পুলিশ

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৬:৪৩, ১ জানুয়ারি ২০২৬

মাদকবিরোধী অভিযানে হামলার শিকার পুলিশ

ছবি: আপন দেশ

গাজীপুরের শ্রীপুরে মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছে পুলিশ। মাদক কারবারিদের হামলায় আহত হয়েছে চার পুলিশ।

হামলা চালিয়ে পুলিশের হাতে গ্রেফতার চিহ্নিত মাদক কারবারিকে ছিনিয়ে নেয় মাদকাসক্তরা। ভাংচুর চালানো হয় পুলিশের দুটি গাড়ি। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযান পরিচালনা করে হামলার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে দশজনকে আটক করেছে।

গতকাল বুধবার রাতে উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের মাওনা গ্রামের পিয়ার আলী ডিগ্রি কলেজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। 

আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন, শ্রীপুর থানার কর্মরত পুলিশের উপপরিদর্শক এসআই অরুপ কুমার বিশ্বাস (৩৫) সহকারী উপপরিদর্শক এএসআই মাসুদ রানা (৩৫), কনস্টেবল আজিজুল ইসলাম ও মোশাররফ হোসেন। তাদের মধ্যে কনস্টেবল মোশাররফের অবস্থা আশংকাজনক। 

আরও পড়ুন<<>>ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, জামাল উদ্দিন (৩৫), কামাল হোসেন (৪৩), আসিফ (২০), লিমন (১৮), আক্কাস (২৯), মোন্না (২০), ফইজুল্লাহ্ (২৬), আশিক (২৪), শিল্পী (৩০) ও লাকী আক্তার (২৮)। আটককৃতরা সবাই চিহ্নিত মাদক কারবারি জাহাঙ্গীর আলমের সহযোগী। 

মাদক অভিযানে নেতৃত্ব দেয়া আহত পুলিশের উপ-পরিদর্শক এসআই অরুপ কুমার বিশ্বাস বলেন, চিহ্নিত মাদককারবারি জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে মাদক, অস্ত্র, হত্যা চাঁদাবাজিসহ ডজন খানেক মামলা রয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাতে অভিযানে গেলে তার সহযোগিরা চারপাশ থেকে হামলা চালায়। হামলাকারীরা অনেক ইটপাটকেল ছুঁড়ে। এতে আমিসহ চারজন আহত হয়েছি। হামলাকারীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে মারধর করে আসামি ছিনিয়ে নেয়। 

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাছির আহমদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) রাত আনুমানিক ১০ টার দিকে চিহ্নিত মাদক কারবারি জাহাঙ্গীর আলমের বাড়িতে মাদক উদ্ধারে যায় শ্রীপুর থানা পুলিশ। এসময় পুলিশ চিহ্নিত মাদক কারবারি জাহাঙ্গীর আলমকে আটক করে। তার বাড়ি তল্লাশি করে ৩০ পিছ ইয়াবা উদ্ধার করে। খবর পেয়ে জাহাঙ্গীরের সহযোগিরা পুলিশকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে ৷ এরপর বেশকিছু মাদক কারবারি লাঠিসোঁটা নিয়ে এসে পুলিশের উপর হামলা চালায়। হামলার এক পর্যায়ে তারা চিহ্নিত মাদক কারবারি জাহাঙ্গীকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। 

হামলাকারীরা পুলিশের ব্যবহৃত দুটি গাড়ি ভাংচুর করে। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযান পরিচালনা করে হামলার সঙ্গে জরিত দশজনকে আটক করে। আহত পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। তিনি আরও জানান, অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে মাদক কারবারিরা তিনটি মোটরসাইকেল ফেলে যায়। মাদক কারবারিদের ব্যবহৃত তিনটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। হামলার ঘটনায় পুলিশ কনস্টেবল মোশাররফের অবস্থা আশংকাজনক। এঘটনায় পুলিশের কাজে বাঁধা ও মাদক আইনে পৃথক দুটি মামলা রুজু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (০১ ডিসেম্বর) আসামিদের আদালতে পাঠানো হবে। ছিনিয়ে নেয়া চিহ্নিত মাদক কারবারিকে গ্রেফতারে কাজ করছে পুলিশ।

আপন দেশ/এসআর

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

সম্পর্কিত বিষয়:

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়