ছবি : আপন দেশ
গাজীপুরের কালীগঞ্জে বেসরকারী হাসপাতালের ব্যবস্থাপক ও তার পরিবারকে চিরকুটের মাধ্যমে চাঁদা দাবী ও তার সন্তানদের হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে। মো. জাহাঙ্গির প্রধান উপজেলার বাহাদুরশাদী ইউনিয়নের ধোলাসাধুখা (কুহিনুর মার্কেট) এলাকার মৃত ছোবাহানের পূত্র। তিনি উপজেলার একটি বেসরকারী হাসপাতালে ব্যবস্থাপক পদে চাকুরী করেন।
চিরকুট ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ডিসেম্বর রাতে কে বা কাহারা জাহাঙ্গিরের ঘরের দরজার সামনে চিরকুট ফেলে রেখে যায়। পরের দিন অর্থাৎ ২৫ ডিসেম্বর সকালে ঘুম থেকে উঠে দরজার সামনে মাটিতে চিরকুটটি দেখতে পায়। চিরকুটের মাধ্যমে হুমকি দিলে জাহাঙ্গির বাদী হয়ে ওই দিন নিকটস্থ থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ২৪ তারিখের প্রথম চিরকুটে “জাহাঙ্গির আজকে তুই শেষ” রাত ১২ টার সময় লুট করবো, আগে থেকেই সতর্ক করলাম, চালাকী করলে তুই শেষ। চিরকুটে এসবই লেখা ছিল।
সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা যায়, পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করলে গত ২৯ ও ৩০ ডিসেম্বর রাতে পূনরায় ঘরের সামনে আরোও দুটি চিরকুট রেখে যায়। তাতে হত্যা, গুম, লুটপাট, চাঁদা দাবী ও সন্তানদের মেরে ফেলার হুমকি প্রদান করা হয়েছে। এঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
এবিষয়ে মো. জাহাঙ্গির প্রধান বলেন, পরের দুটি চিরকুটের কথা উল্লেখ করে বলেন, তুই নাকি থানায় জিডি করছছ, কাজটা ভাল করলি না। আমরা কিন্তু তোর সব খবরই জানি। এখন কিন্তু তোরে কেউ বাচাতে পারবে না। বাপ পুত তিন জনকেই মারবো। তোর পুলা ২টা ঝুঁকিতে আছে। ২০ হাজার টাকা বক্তারপুর নলী ব্রীজের কাছে নিয়ে আসবি। কোন ধরনের চালাকি করলে তোর ছেলে দুইটার ক্ষতি করতে বাধ্য হবো।
আরও পড়ুন<<>>বালুবোঝাই ট্রাক উল্টে নিহত চার
জাহাঙ্গির প্রধানের স্ত্রী লিজা আক্তার নিপা বলেন, চিরকুটের মাধ্যমে হুমকি দেয়ায় স্বামী-সন্তাদের নিয়ে জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। বাচ্চারা ঘরের বাইরে যেতে ভয় পাচ্ছে এবং তাদের লেখাপড়ার ব্যাঘাত ঘটছে। তাহারা স্কুল ও মাদ্রাসায় যেতে এবং খেলাধুলা করতে ভয় পাচ্ছে।
বাহাদুরশাদী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. শাহাবুদ্দিন আহমেদ মুঠোফোনে বলেন, জাহাঙ্গির অত্যন্ত ভাল ছেলে। যারাই এধরণের অপকর্মের সঙ্গে জড়িত তাদেরকে আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করার দাবী জানাচ্ছি।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে কালীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক মাসুদ রানা শামীম সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সন্ধায় বাদীর বাড়ি ও কুহিনুর মার্কেট এলাকা পরিদর্শন করেন। এসময় তিনি স্থানীয়দেরকে চিরকুটের বিষয়ে জিঙ্গাসাবাদ করেন এবং বিভিন্ন জনের হাতের লেখা সংগ্রহ করে চিরকুটের সঙ্গে মিলিয়ে দেখেন। তখন স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
কালীগঞ্জ থানার ওসি মো. জাকির হেসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন বলেন, চিরকুটের মাধ্যমে হত্যা, গুম, লুটপাট, চাঁদা দাবী ও সন্তানদের হত্যার হুমকি দেয়ার বিষয়ে জানতে পেরেছি। অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। স্থানীয়দের জিঙ্গাসাবাদ ও ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করতে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে।
আপন দেশ/জেডআই
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































