Apan Desh | আপন দেশ

তিস্তার ভাঙনে অপরিপক্ব ধান কেটে খাওয়ানো হচ্ছে গরুকে

রংপুর প্রতিনিধি, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১৮:১৫, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

তিস্তার ভাঙনে অপরিপক্ব ধান কেটে খাওয়ানো হচ্ছে গরুকে

ছবি: আপন দেশ

তিস্তার তীব্র ভাঙনের মুখে পড়ে রংপুরের গঙ্গাচড়া ও আশেপাশের অঞ্চল। ফরে কৃষকেরা বাধ্য হয়ে তাদের অপরিপক্ব বা কাঁচা স্বপ্নের আমন ধান কেটে গবাদিপশুকে খাওয়াচ্ছেন।

ভাঙনে বিলীন হচ্ছে একের পর এক এলাকা। নদী গর্ভে বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাটসহ বিভিন্ন অবকাঠামো। ভেঙে যাচ্ছে ফসলি জমি। কৃষক বাধ্য হয়ে স্বপ্নের আমন ধান কেটে খাওয়াচ্ছেন গবাদি পশুকে। এমনটাই বলেছেন পানি উন্নয়ন বোর্ড লালমনিরহাটের নিবার্হী প্রকৌশলী সুনীল রায়।

তিনি বলেন, পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙন তীব্র আকার ধারন করেছে। এ সময় কোনো বরাদ্দ না থাকায় আমরা ব্যবস্থা নিতে পারছি না।

সরেজমিনে দেখা গেছে, তীব্র স্রোতে নদীর পাড় ভেঙে পড়ছে। ভাঙনের মুখে থাকা পরিবারগুলোর কেউ ঘর বাড়ি সরিয়ে নিচ্ছেন, আবার কেউ শেষ মুহূর্তে ঘর রক্ষার চেষ্টা করছেন। কোথাও নদী গর্ভে চলে গেছে বসতভিটা, কোথাও রয়েছে ভাঙনের মুখে। অব্যাহত ভাঙনে ফসলি জমি বিলীন হচ্ছে প্রতিনিয়তই। 

ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, সম্প্রতি তিস্তার পানি বাড়ার পর স্রোতের তীব্রতা বেড়ে যায়। পরে পানি কমতে শুরু করলে স্রোতের গতিপথ জয়রামওঝা চল্লিশসাল চরের দিকে ধাবিত হয়।

স্থানীয়রা জানান, গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চরের ২৭টি পরিবার। ক্ষতিগ্রস্তরা হয়েছেন অনেকে।

ক্ষতিগ্রস্ত জাহেদুল ইসলাম জানিয়েছেন, কয়েক বছর ধরে জয়রামওঝা চল্লিশসাল চরে বসবাস করে চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন তারা। হঠাৎ তিস্তার স্রোতের গতি পথ চরের দিকে গেলে ভাঙন ব্যাপক আকার ধারণ করে। 

আরও পড়ুন<<>>মেহেরপুরে শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত কৃষক

লক্ষ্মীটারী ইউপি’র চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী বলেছেন, কয়েক দিন ধরে চল্লিশসাল এলাকায় ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। বেশ কয়েকটি পরিবারের বাড়িঘর ও আবাদি জমি বিলীন হয়ে গেছে। 

বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। তারা ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।

গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার জেসমিন আক্তার জানান, তিস্তার ভাঙনে বেশ কিছু পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের সহায়তা দেয়া হবে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হাফিজুল হক বলেন, বন্যার পর হঠাৎ করে ওই এলাকায় ভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছি। বিষয়টি ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। পরিস্থিতি দেখে ভাঙন রোধকল্পে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আপন দেশ/এসআর

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়