ডা. শফিকুর রহমান। ছবি: আপন দেশ
ক্ষমতাসীন বিএনপির বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ করেছেন জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, আমরা নাকি পরিত্যক্ত ফ্যাসিস্টদের সঙ্গে হাত মেলাচ্ছি। অথচ বিএনপি নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগের কাছে ভোট ভিক্ষা চেয়েছে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ‘জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরের বর্ষপূর্তি’ উপলক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজশাহীর সমাবেশে বলেছেন, পতিত স্বৈরাচার এবং বিরোধী দল এক হয়ে দেশে বিশৃঙ্খলার ষড়যন্ত্র করছে।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান।
তিনি বলেছেন, বিএনপি নতুন নতুন মনগড়া বয়ান তৈরি করছে। তারা বলছে, আমরা নাকি পরিত্যক্ত ফ্যাসিস্টদের সঙ্গে হাত মেলাচ্ছি। অথচ বাস্তবতা হলো-আপনারা নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগের কাছে ভোট ভিক্ষা চেয়েছেন। শেখ হাসিনা নিজেই বলেছেন, হাতে-পায়ে ধরে ভোট নিয়ে এখন বেইমানি করা হচ্ছে। তাদের দলের নেতারাও বলেছেন, ৯৫টি আসনে হেরে যাওয়া বিএনপিকে তারা ভোট দিয়ে জিতিয়েছেন।
বরাবরের মতো আজও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সমালোচনা করেছেন জামায়াত আমীর। বলেছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন সাহেব অন্য সব মন্ত্রণালয় নিয়ে পারদর্শী হলেও নিজের মন্ত্রণালয় সামলাতে পারছেন না।
তিনি বলেছেন, খোদ সরকারি দলের সিনিয়র এমপি সংসদে বলেছেন, মাদকের সবচেয়ে বড় চালান আসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এলাকা দিয়ে। দিনের বেলা ৫০টি ট্রাকে ডাকাতির ঘটনা ঘটছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এ ভয়াবহ অবনতি ধামাচাপা দিতে সরকার বিরোধীদের ওপর দায় চাপাচ্ছে।
জাতীয় সংসদে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, এমপি বদি নাকি কক্সবাজারে ইয়াবার চালান আনতো। তিনি এখন কারাগারে। তাহলে ওই এলাকায় ইয়াবার ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে কে?
আরও পড়ুন <<>> জামায়াতের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা
সরকারে ও প্রশাসনে পতিত দলের পুনর্বাসনের অভিযোগ তুলেছেন বিরোদলীয় নেতা। বলেন, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ক্যাডারদের সমাজের ও দলের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় স্থান দেয়া হচ্ছে।
তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, সীমান্ত দিয়ে যদি টাকা, অস্ত্র ও মাদক ঢোকে, তাহলে সরকার তা ঠেকাতে পারছে না কেন? যে সরকার সীমান্ত সুরক্ষিত রাখতে পারে না, তাদের ক্ষমতায় থাকার কোনো অধিকার নেই।
দ্রব্যমূল্য প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, চাঁদাবাজদের কারণে এক টাকার জিনিস জনগণকে তিন টাকায় কিনতে হচ্ছে। পঞ্চগড়ে দাম না পেয়ে কৃষক চারটি লাউ এক টাকায় বিক্রি করছে। ফেলে দিচ্ছে। আর ঢাকায় একটি লাউ কিনতে হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। চাঁদাবাজির এ নির্মম বোঝা সাধারণ মানুষের ওপর করের মতো চেপে বসেছে।
রাড্ডা মেডিকেল সেন্টারে লুটপাটের ঘটনা টেনে জামায়াত আমীর বলেন, কেবল দলীয় এমপিকে পদত্যাগ করিয়ে দায় এড়ানো হয়েছে। কেন তাকে আইনের আওতায় আনা হলো না? প্রশাসন কি শুধুই ‘হোয়াইটওয়াশ’ করতে চায়- প্রশ্ন জামায়াত আমীরের।
আপন দেশ/এসএস
মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।





































