Apan Desh | আপন দেশ

আজানের সময় কথা বলা যাবে?

আপন দেশ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:৫৮, ৩১ জুলাই ২০২৬

আজানের সময় কথা বলা যাবে?

ছবি : আপন দেশ

আজানের ধ্বনি মুসলিমদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে নামাজের এক মহিমান্বিত আহবান। এ আহবান শুনে একজন মুমিনের অন্তর আল্লাহর স্মরণে সাড়া দেয় এবং নামাজের প্রস্তুতি গ্রহণ করে। আমাদের সমাজে আজানের সময় কথা বলা নিয়ে বিভিন্ন ধারণা প্রচলিত রয়েছে। কেউ মনে করেন, আজানের সময় কথা বললে গুনাহ হয়, আবার কেউ বলেন এতে বহু বছরের ইবাদত নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু এসব দাবির পক্ষে কি কুরআন ও সহিহ হাদিসে কোনো প্রমাণ রয়েছে? একজন মুসলিমের জন্য আবেগ বা প্রচলিত কথার পরিবর্তে কুরআন ও সহিহ সুন্নাহর আলোকে বিষয়টি জানা জরুরি।

আজানের জবাব দেয়া সুন্নত

রাসুলুল্লাহ (সা.) আজান শুনলে মুয়াজ্জিনের কথার অনুরূপ জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত, যার মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর আহবানে সাড়া দেয় এবং সালাতের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করে।

إِذَا سَمِعْتُمُ الْمُؤَذِّنَ فَقُولُوا مِثْلَ مَا يَقُولُ

অর্থ: তোমরা যখন মুয়াজ্জিনের আজান শুনবে, তখন সে যা বলে তোমরাও অনুরূপ বলো। (বুখারি ৬১১, মুসলিম ৩৮৩)

আজানের সময় কথা বলা কি গুনাহ?
কুরআন ও সহিহ হাদিসে এমন কোনো দলিল নেই, যেখানে বলা হয়েছে যে আজানের সময় কথা বলা গুনাহ। তাই এ বিষয়ে গুনাহের ফতোয়া দেয়া সঠিক নয়। তবে আজানের জবাব দেয়া একটি সুন্নত আমল। কেউ যদি বিনা কারণে এ সুন্নত ছেড়ে দেয়, তাহলে সে সুন্নতের সওয়াব থেকে বঞ্চিত হবে। কিন্তু শুধু এ কারণে তাকে গুনাহগার বলা যাবে না।

মহান আল্লাহ বলেন—يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اسْتَجِيبُوا لِلَّهِ وَلِلرَّسُولِ إِذَا دَعَاكُمْ لِمَا يُحْيِيكُمْ

অর্থ: হে ঈমানদারগণ! আল্লাহ ও রাসুল যখন তোমাদের এমন বিষয়ের দিকে আহবান করেন যা তোমাদের জীবন দান করে, তখন তোমরা সেই আহবানে সাড়া দাও। (সুরা আল-আনফাল: আয়াত ২৪)

এ আয়াতের আলোকে আজানের আহ্বান শুনে সালাতের প্রস্তুতি গ্রহণ করা একজন মুমিনের কর্তব্য।

আজানের সময় কী করা উত্তম
আজানের সময় অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা বন্ধ রাখা, মনোযোগ দিয়ে আজান শোনা এবং মুয়াজ্জিনের জবাব দেয়া সুন্নত ও উত্তম আমল। আজান শেষ হলে রাসুলুল্লাহ (সা.) শেখানো দোয়া পড়া আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত।

আরও পড়ুন<<>>হজের প্রাথমিক নিবন্ধন শুরু আজ

আজানের পরের দোয়া-اللَّهُمَّ رَبَّ هَذِهِ الدَّعْوَةِ التَّامَّةِ وَالصَّلَاةِ الْقَائِمَةِ، آتِ مُحَمَّدًا الْوَسِيلَةَ وَالْفَضِيلَةَ، وَابْعَثْهُ مَقَامًا مَحْمُودًا الَّذِي وَعَدْتَهُ

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা রব্বা হাজিহিদ দাওয়াতিত তাম্মাতি ওয়াস সালাতিল কায়িমাহ, আতি মুহাম্মাদাল ওয়াসিলাতা ওয়াল ফাদিলা ওয়াবআ ছহু মাক্বামাম মাহমুদাল্লাজি ওয়া আদতাহ।

অর্থ: হে আল্লাহ! এ পরিপূর্ণ আহবান ও প্রতিষ্ঠিত সালাতের রব! আপনি মুহাম্মদ (সা.)-কে ওসিলা ও শ্রেষ্ঠ মর্যাদা দান করুন এবং তাকে সে প্রশংসিত স্থানে অধিষ্ঠিত করুন, যার প্রতিশ্রুতি আপনি তাকে দিয়েছেন। (বুখারি ৬১৪)

জরুরি প্রয়োজনে কথা বলা বা কাজ করা
যদি কেউ চিকিৎসাসেবা, নিরাপত্তা, জরুরি ফোনকল, গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব বা এমন কোনো প্রয়োজনীয় কাজে ব্যস্ত থাকেন, তাহলে তিনি সে কাজ চালিয়ে যেতে পারেন। ইসলাম মানুষের ওপর অযথা কঠোরতা আরোপ করে না। একইভাবে কোনো দ্বীনি আলোচনা, শিক্ষাদান বা প্রয়োজনীয় কাজ চলাকালেও পরিস্থিতি অনুযায়ী আজানের জবাব দেয়া উত্তম; তবে বিশেষ প্রয়োজনে কাজ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

৪০ বছরের ইবাদত নষ্ট হয়ে যায়—এ কথা কি সত্য?
সমাজে প্রচলিত একটি ধারণা হলো— আজানের সময় কথা বললে ৪০ বছরের ইবাদত নষ্ট হয়ে যায়, অথবা আজানের জবাব না দিলে ঈমান নিয়ে মৃত্যু হবে না।
এ ধরনের বক্তব্যের কুরআন বা সহিহ হাদিসে কোনো প্রমাণ নেই। নির্ভরযোগ্য মুহাদ্দিস ও আলেমরা এসব কথাকে ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেছেন। তাই কোনো বিষয়ে দলিল ছাড়া ভয়ভীতি ছড়ানো বা ধর্মের নামে মনগড়া কথা প্রচার করা থেকে বিরত থাকা উচিত। মহান আল্লাহ বলেন— قُلْ هَاتُوا بُرْهَانَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ

অর্থ: বলুন, তোমরা যদি সত্যবাদী হও, তবে তোমাদের প্রমাণ নিয়ে আসো। (সুরা আল-বাকারা: আয়াত ১১১)

আজানের নময় একজন মুসলিমের করণীয়
আজান শুনলে অপ্রয়োজনীয় কথা বন্ধ রাখা।
মুয়াজ্জিনের কথার অনুরূপ জবাব দেয়া।
আজানের পরে দরুদ ও দোয়া পড়া।
অজু করে সময়মতো সালাত আদায়ের প্রস্তুতি নেয়া।
ধর্মীয় বিষয়ে কেবল কুরআন, সহিহ হাদিস ও বিশ্বস্ত আলেমদের ব্যাখ্যার ওপর নির্ভর করা।
আজানের সময় কথা বলা গুনাহ—এমন কোনো সহিহ দলিল কুরআন বা সুন্নাহতে নেই। তবে আজান ইসলামের অন্যতম মহান নিদর্শন। তাই এর প্রতি সম্মান প্রদর্শন, মনোযোগ দিয়ে শোনা, মুয়াজ্জিনের জবাব দেয়া এবং সালাতের প্রস্তুতি গ্রহণ করা একজন মুমিনের জন্য উত্তম সুন্নত। ধর্মীয় বিষয়ে প্রচলিত গল্প বা ভিত্তিহীন বক্তব্যের পরিবর্তে কুরআন ও সহিহ সুন্নাহকে মানদণ্ড হিসেবে গ্রহণ করাই নিরাপদ পথ। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সুন্নাহ অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করার তৌফিক দান করুন এবং তার আহবানে আন্তরিকভাবে সাড়া দেয়ার সৌভাগ্য দান করুন। আমিন।

আপন দেশ/জেডআই

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

সম্পর্কিত বিষয়:

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়