ছবি: আপন দেশ
বিভিন্ন দাবি জাতির প্রয়োজনে যে কোনো সময় এক দফায় পরিণত হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টায় রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চ সমাবেশে এ কথা বলেন তিনি।
জামায়াত আমীর বলেন, ১১ দলীয় লংমার্চ দেখে অনেকের মাথা গরম হয়ে গেছে, জাতির প্রয়োজনে ৮ দফা এক দফায় পরিণত হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, এক দফা আসলে পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ হবে।
শফিকুর রহমান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দাবি আদায়ে কোনো কিছুকে পরোয়া করা হবে না।
একই সমাবেশে এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকারে এসে মানবাধিকার হরণ করে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করছে বিএনপি সরকার।
এদিকে ১১–দলীয় ঐক্যের সূত্র বলছে, রংপুর অভিমুখী লংমার্চ কর্মসূচিতে তারা বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছে। কারণ, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর বিভাগের ৩৩টি সংসদীয় আসনের মধ্যে জামায়াত ১৭টি এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ২টি আসনে জয় পায়। অর্থাৎ জোটগতভাবে ১৯টি আসনে জয়ী হয় তারা। বিএনপি জয় পায় ১৩টি আসনে। আর একটি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়ী হন।
জোটের নেতারা মনে করেন, এই ফলাফল রংপুর অঞ্চলে তাঁদের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক অবস্থানের শক্তি বোঝায়। সেই শক্তির ওপর ভিত্তি করেই লংমার্চে বড় জমায়েতের লক্ষ্য নেয়া হয়েছে।
চট্টগ্রামের ছয় দাবি, রংপুরে আরও দুই : ৫ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম অভিমুখী লংমার্চে ছয় দফা দাবি সামনে রেখেছিল ১১ দল। দাবিগুলো ছিল গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-জ্বালানি তেল-গ্যাস ও সারের সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ।
রংপুরের কর্মসূচিতে এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দুর্নীতি, দখলবাজি ও চাঁদাবাজি বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি। অর্থাৎ জাতীয় রাজনীতির বিষয়গুলোর পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের দীর্ঘদিনের একটি আঞ্চলিক ইস্যুকেও সামনে এনেছে জোট।
জোটের নেতাদের বক্তব্য অনুযায়ী, উত্তরবঙ্গের মানুষের দাবিকে বিবেচনায় নিয়েই তিস্তা মহাপরিকল্পনাকে কর্মসূচির অংশ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন : ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা টু রংপুর লংমার্চ শুরু
বড় জমায়েত দেখানোর চেষ্টা : শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল সাতটায় রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে উদ্বোধনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে লংমার্চ শুরু হয়। সকাল আটটায় গাড়িবহর রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করার কথা। সকাল ৯টায় গাজীপুরের ভোগরা বাইপাস রোডে, সকাল সাড়ে ১০টায় টাঙ্গাইলের নগর জালফৈ বাইপাস রোড, দুপুর ১২টায় সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল মোড়, বিকেল ৪টায় বগুড়ার মাটিডালি বিমান মোড় ও বিকেল সাড়ে ৫টায় গাইবান্ধার পলাশবাড়ী চৌমাথায় পথসভার সময় নির্ধারিত আছে।
সবশেষে সন্ধ্যা ৭টায় রংপুর জিলা স্কুল মাঠে সমাপনী সমাবেশ হবে। তবে বিভিন্ন কারণে সময়সূচিতে কিছুটা তারতম্য হতে পারে বলে জোটের পক্ষ থেকে আগাম জানানো হয়েছে। লংমার্চের কারণে সম্ভাব্য জনদুর্ভোগের জন্য আগাম দুঃখ প্রকাশ করেছেন জোটের নেতারা।
লংমার্চের সমাবেশ ও পথসভাগুলোতে সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানসহ ১১ দলের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেবেন।
লংমার্চের সর্বশেষ প্রস্তুতি নিয়ে গতকাল সকালে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বৈঠক করেন ১১ দলের নেতারা। বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে লংমার্চ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক ও জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, এই কর্মসূচিতে হাজারের বেশি গাড়ি যুক্ত হবে। তাঁর দাবি, রাস্তার দুই পাশে বিপুলসংখ্যক মানুষ দাঁড়িয়ে লংমার্চকে স্বাগত জানাবেন।
সরকারকে বাধা না দেয়ার আহ্বান : লংমার্চ নিয়ে সরকার ও প্রশাসনের প্রতি সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন মিয়া গোলাম পরওয়ার।
তিনি বলেন, কর্মসূচিতে যেন কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি করা না হয়। গতকাল সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কারও উসকানিতে পা দেব না।’ এমনকি কোনো আঘাত এলেও প্রতিশোধ না নিয়ে কর্মসূচি সফল করাকেই গুরুত্ব দেয়ার কথা বলেন তিনি।
লংমার্চের কারণে সাধারণ মানুষের সম্ভাব্য দুর্ভোগের জন্যও আগাম দুঃখ প্রকাশ করেছেন জোটের নেতারা। রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে সড়কে মানুষের ভোগান্তি তৈরি হতে পারে—বিষয়টি বিবেচনায় রেখে তাঁরা সরকারের পাশাপাশি প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা চেয়েছেন।
সামনে আরও দুই লংমার্চ : ১১–দলীয় ঐক্যের পূর্বঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ৩১ অক্টোবর খুলনা এবং ২১ নভেম্বর সিলেট অভিমুখে লংমার্চ হবে। অর্থাৎ চট্টগ্রাম, রংপুর, খুলনা ও সিলেট—দেশের চারটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলের দিকে ধারাবাহিক লংমার্চের কর্মসূচি নিয়েছে ১১–দলীয় ঐক্য।
১১–দলীয় ঐক্যের সূত্রগুলো বলছে, লংমার্চ ও সমাবেশ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জাতীয় রাজনৈতিক দাবিগুলোকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের কাছে নিয়ে যাওয়াই মূল লক্ষ্য। পাশাপাশি জুলাই সনদ মেনে সংবিধান সংস্কারে সরকারকে চাপেও রাখার বিষয়টিও আছে।
লংমার্চ কর্মসূচি শেষ করে ঢাকায় সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে ১১–দলীয় ঐক্য। তবে জোটের সূত্র বলছে, ঘোষিত চারটি লংমার্চ কর্মসূচি শেষে আরও কিছু বিভাগীয় শহরে লংমার্চ হতে পারে।
আপন দেশ/এমটিআই
মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।





































