Apan Desh | আপন দেশ

রমজান শুরু হতেই অস্থির নিত্যপণ্যের বাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ২০:৫০, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

রমজান শুরু হতেই অস্থির নিত্যপণ্যের বাজার

ছবি: আপন দেশ

পবিত্র মাহে রমজান শুরু হতে না হতেই রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। পর্যাপ্ত মজুদ থাকা সত্ত্বেও পণ্যের দাম এখন আকাশচুম্বী। অধিকাংশ দোকানে নেই কোনো মূল্য তালিকা। ফলে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে ইফতার ও সাহরির প্রয়োজনীয় পণ্যগুলো।

সরেজমিনে বিভিন্ন কাঁচাবাজারে দেখা গেছে, বেশ কয়েকটি পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে লেবু, খেজুর, ব্রয়লার মুরগি, আলু, পেঁয়াজ ও রসুনের দাম সাধারণ ক্রেতাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।

পাইকারী বাজারে আলু কেজি প্রতি ১০ টাকায় বিক্রি হলেও খুচরায় তা ১৫ টাকা। পেঁয়াজ পাইকারীতে ৩৫ টাকা, খুচরায় ৪৫ টাকা। রসুনের দাম পাইকারীতে ১শ টাকা হলেও খুচরা বাজারে ১৪০ টাকার বেশি নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া খুচরা বাজারে শশা কেজি প্রতি ৭০ থেকে ৮০ টাকা, ডিম হালি ৩৬ টাকায় বিক্রি হলেও ছোলার দাম ৯০ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে ওঠানামা করছে। সরবরাহে ঘাটতি না থাকলেও বেগুন ও শসার দাম হাঁকিয়েছে সেঞ্চুরি। লেবুর হালি ঠেকেছে ১২০ টাকায়। ফলের বাজারেও নাভিশ্বাস অবস্থা ক্রেতার। তবে মুরগির বাজার উচ্চমূল্যে স্থিতিশীল থাকলেও কিছুটা স্বস্তি ছড়াচ্ছে ডাল ও ছোলার দাম।
 
মুরগির বাজারেও অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে। দেশি মুরগি ৫২০ টাকা থেকে বেড়ে বর্তমানে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সোনালি মুরগির দাম ২৬০ টাকা থেকে বেড়ে ৩০০ থেকে ৩২০ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

প্রথম রমজানের শুরু থেকে চট্টগ্রামের বাজারে লেবুর দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় চারগুণ মূল্য বৃদ্ধিতে বিক্রি হচ্ছে লেবু। বাজারে ছোট লেবুর হালিও এখন ৮০ থেকে ১০০ টাকার নিচে মিলছে না, আর মাঝারি ও বড় লেবুর দাম পৌঁছেছে ১২০ থেকে ২০০ টাকায়। দুই সপ্তাহ আগে যেখানে এক হালি লেবু ২০ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল, সেখানে গত সপ্তাহে দাম বেড়ে দাঁড়ায় ৮০ থেকে ১০০ টাকা।

বাজারে সবজি কিনতে আসা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, রমজান শুরু হতেই দাম এমন বাড়বে ভাবিনি। লেবু ছাড়া ইফতার কল্পনাই করা যায় না। কিন্তু এক হালি লেবু কিনতেই ১২০ টাকা গুনতে হচ্ছে। বেগুন আর শসার দামও ১০০ টাকার ওপরে।
 
আরেক ক্রেতা শিউলি আক্তার বলেন, সরবরাহ ঠিক আছে, বাজারে পণ্যও আছে। তারপরও কেনো দাম এত বেশি; এর কোনো উত্তর পাই না। রমজান এলেই যেন কিছু পণ্যের দাম বাড়ানো যেন নিয়ম হয়ে গেছে।

ইফতারে বিশেষ চাহিদা থাকা ফলের দামও ঊর্ধ্বমুখী। রমজানকে কেন্দ্র করে আপেল, আনার ও মাল্টার দাম বেড়েছে কেজিতে ৫০ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত। ফল কিনতে আসা ফারহানা ইয়াসমিন বলেন, বাচ্চাদের জন্য ফল নিতে হয়। কিন্তু এখন ফল কিনতে গেলে বাজেটের বাইরে চলে যাচ্ছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, শুল্কছাড়ের সুবাদে খেজুরের আমদানি খরচ কমলেও বাজারে তা দ্বিগুণ-তিনগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে। মেডজুল, আজওয়া ও মরিয়ম জাতের খেজুরের আমদানি খরচ শুল্কসহ ৬০০-৬৫০ টাকার মধ্যে হলেও খুচরা বাজারে তা ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে কেজিতে ২০০-৩০০ টাকা বাড়িয়ে দিয়েছেন বলে খুচরা বিক্রেতাদের অভিযোগ।

নিম্ন ও মধ্যবিত্তের ভরসা ব্রয়লার মুরগির দাম গত ৪৮ ঘণ্টায় কেজিতে ২০-৩০ টাকা বেড়ে ২২০ টাকায় ঠেকেছে। সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকা দরে। অথচ দুই সপ্তাহ আগেও ব্রয়লারের কেজি ছিল ১৬০-১৭০ টাকা। কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো কৃত্রিম সংকট তৈরি করে এই দাম বাড়াচ্ছে বলে ভোক্তা-সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। এছাড়া ছোলার দামও কেজিতে ৫-১০ টাকা বেড়ে ৯০-১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এক সপ্তাহের ব্যবধানে লম্বা বেগুনের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে ১৫০ টাকায় পৌঁছেছে। লেবুর দামও আকাশচুম্বী, প্রতি হালি মাঝারি আকারের লেবু বিক্রি হচ্ছে ১০০-১১০ টাকায়। তবে বাজারে তরমুজ আসতে শুরু করায় কিছুটা স্বস্তি মিললেও দাম কেজিপ্রতি ৬০-৯০ টাকার মধ্যে রয়েছে।

আপন দেশ/এমবি

মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

সম্পর্কিত বিষয়:

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়