Apan Desh | আপন দেশ

দুই সহোদর অতি স্বল্প সময়ে হাফেজ 

নোয়াখালী প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১২:৪৩, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

দুই সহোদর অতি স্বল্প সময়ে হাফেজ 

ছবি : আপন দেশ

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার জামিয়া ইয়াকুবিয়া বসুরহাট মাদরাসার ১১ বছর বয়সী ছাত্র আল মাহির শাহরিয়ার মাত্র সাত মাসে কোরআনে হাফেজ হয়েছেন। একই প্রতিষ্ঠান থেকে ১১ মাসে কোরআনে হাফেজ হয়েছেন ১৩ বছর বয়সী তারই বড় ভাই আল ফাহিম শাহরিয়ার।

দুই ভাই অল্প সময়ে কোরআন মুখস্থ করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ছেলেদের জন্য দোয়া চেয়েছেন তাদের মা সালমা সুলতানা লিলি। সমাজের বিশিষ্টজনরা মনে করেন মানুষ তাদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে দ্বীনি শিক্ষায় আরও বেশি অনুপ্রাণিত হবেন।   

জানা যায়, বাবা ও নানার ইচ্ছায় প্রথমে বড় ছেলে আল ফাহিম শাহরিয়ারকে বাড়ির পাশে জামিয়া ইয়াকুবিয়া বসুরহাট মাদরাসার হিফজ বিভাগে ভর্তি করা হয়। বড় ছেলে কোরআনে হাফেজ হন। এতে পরিবারে দেখা দেয় পরিবর্তন। এরপর  ছোট ছেলে আল মাহির শাহরিয়ারকেও ভর্তি করা হয় একই মাদরাসার হিফজ বিভাগে। সে ওই মাদরাসা থেকে মাত্র সাত মাস একদিনে কোরআন মুখস্ত করে ফেলেন। ছেলেদের এমন সাফল্যে খুশি মা-বাবা সহ এলাকাবাসী। মায়ের আশা ছোট ছেলে আল ফাহিম শাহরিয়ার আরও কম সময়ে কোরআনে হাফেজ হবেন। তারা দুই ভাই বসুরহাট পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বটতলী এলাকার হাজী তাজুল ইসলামের বাড়ির প্রবাসী মাইন উদ্দিনের ছেলে।

হাফেজ আল ফাহিম শাহরিয়ার ও তার ছোট ভাই আল মাহির শাহরিয়ার বলেন, মা-বাবা ও নানার আন্তরিক উৎসাহে আমরা কোরআনে হাফেজ হয়েছি। আমরা আমাদের শিক্ষক এলাকাবাসীসহ সবার কাছে কৃতজ্ঞ।

আরও পড়ুন <> মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামীকে ঢাকা থেকে গ্রেফতার

শিক্ষার্থীদের মা সালমা সুলতানা লিলি বলেন, আমার বাবা তার নাতিদেরকে হাফেজ বানানোর জন্য আমাকে উৎসাহ দেন। আমার তিন ছেলে যেন হাফেজ হয়। নাতিরা যেন তার নানা মারা গেলে নানার জানাজা পড়াতে পারে। প্রথমে কিন্তু আমি ছেলেদের মাদরাসায় দিতে চাইনি। তাদের বাবা আমার সঙ্গে অনেক করে বলে একটি ছেলেকে হাফেজ বানিয়ে দেখ। যখন আমার বড় ছেলে হাফেজ হয়; তখন আমার মধ্যে কথাবার্তা, আদব কায়দা, নামাজ-কালামে পরিবর্তন চলে আসে।তখন আমার দ্বিতীয় ছেলেকে হিফজ বিভাগে ভর্তি করিয়েছি।

জামিয়া ইয়াকুবিয়া বসুরহাট মাদরাসার শিক্ষক হাফেজ আব্দুল মান্নান বলেন, দুই ভাই অনেক মেহনত করে কোরআন মুখস্ত করে।মাঝখানে ছোট ভাই একটু সমস্যা করেছিল।  পরে তা ঠিক হয়ে যায়।

তিনি জানান, ১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর এই মাদরাসা থেকে এখন পর্যন্ত ৫০ জন কোরআনে হাফেজ হয়। 

জামিয়া ইয়াকুবিয়া বসুরহাট মাদরাসার মুহতামিম মুফতি মুহাম্মদ ইদ্রিস বলেন, দুই ভাই অনেক মেহনত করে কোরআনে হাফেজ হয়েছে। আমি তাদের ওস্তাদকেও ধন্যবাদ জানাই তারা ছাত্রদের পিছনে খুব মেহনত করেছেন। 

শুধু মাদরাসার শিক্ষকরাই নয় এলাকাবাসীও শুভ কামনা জানিয়েছেন হাফেজ দুই ভাইয়ের জন্য। তাদের প্রত্যাশা ইসলাম প্রসারে ভূমিকা রাখবে এ হাফেজরা।  

আপন দেশ/প্রতিনিধি/এমআর 

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়