Apan Desh | আপন দেশ

বিশ্ব সিংহ দিবস আজ 

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ 

প্রকাশিত: ১০:১৭, ১০ আগস্ট ২০২৬

আপডেট: ১০:৩৮, ১০ আগস্ট ২০২৬

বিশ্ব সিংহ দিবস আজ 

ছবি: আপন দেশ

আজ ১০ আগস্ট (বৃহস্পতিবার), বিশ্ব সিংহ দিবস। সিংহকে বলা হয় ‘বনের রাজা’। কিন্তু সভ্যতার উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে কমছে বনভূমি। ক্রমেই উজার হচ্ছে বন। গড়ে উঠছে বসতি। যার কারণে আজ ‘বনের রাজা’ অস্তিত্ব সংকটে। তাই তাদের সংরক্ষণ ও সুরক্ষা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে প্রতি বছর এদিনে বিশ্বব্যাপী দিবসটি পালন করা হয়।

এ দিনটি কেবল একটি বন্যপ্রাণীকে স্মরণ করার উপলক্ষ নয়; বরং পৃথিবীর অন্যতম প্রতীকী প্রাণী, সাহস, শক্তি ও নেতৃত্বের প্রতীক সিংহকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষার জন্য মানবজাতির এক সম্মিলিত অঙ্গীকারের দিন। হাজার বছর ধরে সিংহ মানবসভ্যতার ইতিহাস, সংস্কৃতি, সাহিত্য, ধর্মীয় প্রতীক, শিল্পকলা এবং লোককাহিনীর অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু আজ সে ‘অরণ্যের রাজা’ নিজেই অস্তিত্ব সংকটে।

বিশ্ব সিংহ দিবসের সূচনা হয় ২০১৩ সালে। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণবাদী ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চলচ্চিত্র নির্মাতা দম্পতি ডেরেক জুবার্ট ও বেভারলি জুবার্ট এ দিবসের প্রবর্তন করেন। তারা দীর্ঘদিন ধরে আফ্রিকার সিংহ ও অন্যান্য বড় বিড়ালজাতীয় প্রাণীর জীবন নিয়ে গবেষণা ও প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ করেছেন। সিংহের দ্রুত হ্রাসমান সংখ্যা দেখে তারা ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক-এর সহযোগিতায় বিগ ক্যাট ইনিশিয়েটিভ গড়ে তোলেন। সেখান থেকেই বিশ্ব সিংহ দিবসের যাত্রা শুরু হয়। 

এর মূল উদ্দেশ্য হলো সিংহ সংরক্ষণ, তাদের আবাসস্থল রক্ষা, চোরা শিকার প্রতিরোধ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি। একসময় আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য এবং ইউরোপের বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে সিংহ বিচরণ করত। বর্তমানে তাদের বিস্তৃতি অনেক সংকুচিত হয়ে গেছে। 

আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংঘ সিংহকে ঝুঁকিপূর্ণ প্রজাতি হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। বিভিন্ন গবেষণা অনুযায়ী বর্তমানে পৃথিবীতে বন্য পরিবেশে মাত্র ২৩ হাজার থেকে ৩৯ হাজার সিংহ অবশিষ্ট রয়েছে। গত শতাব্দীতে সিংহের সংখ্যা নাটকীয়ভাবে কমে গেছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে ২০৫০ সালের মধ্যে আফ্রিকার বন্য সিংহ প্রকৃতি থেকে বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে।

সিংহ শুধু একটি প্রাণী নয়; এটি একটি সম্পূর্ণ বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্যের রক্ষক। খাদ্যশৃঙ্খলের শীর্ষ স্তরের শিকারি হিসেবে সিংহ তৃণভোজী প্রাণীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করে এবং পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সিংহের উপস্থিতি একটি সুস্থ ও কার্যকর বাস্তুতন্ত্রের নির্দেশক। তাই সিংহ হারিয়ে যাওয়া মানে শুধু একটি প্রজাতির বিলুপ্তি নয়, বরং সমগ্র পরিবেশব্যবস্থার জন্য গভীর সংকট।

আরও পড়ুন<<>>আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস আজ

বর্তমান সময়ে সিংহের প্রধান হুমকিগুলোর মধ্যে রয়েছে আবাসস্থল ধ্বংস, বন উজাড়, কৃষি ও মানববসতির সম্প্রসারণ, জলবায়ু পরিবর্তন, অবৈধ শিকার এবং মানুষ-প্রাণীর সংঘাত। আফ্রিকার বহু অঞ্চলে মানুষের বসতি ও কৃষিজমি সম্প্রসারণের ফলে সিংহ তাদের ঐতিহ্যবাহী বিচরণক্ষেত্র হারাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে গবাদিপশুর ওপর আক্রমণের প্রতিশোধ হিসেবে সিংহকে হত্যা করা হয়। এছাড়া চামড়া, হাড়, দাঁত ও অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গের অবৈধ বাণিজ্যও তাদের অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ফেলেছে।

বিশেষ এ দিনটি বিভিন্নভাবে উদযাপন করা হয়। যেমন- কোনও শিল্পকলা, ফটোগ্রাফি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সিংহ ও তার গুণগুলো তুলে ধরা হয়। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ দল, চিড়িয়াখানা এবং ব্যক্তিবিশেষে বিভিন্ন কার্যকলাপ ও কর্মসূচিতে সামিল হন এ দিনটিতে। সিংহের সংরক্ষণ প্রকল্পের তহবিলে টাকা তোলার কাজে লাগায় দিনটিকে। ওয়ার্কশপ, সেমিনার, ওয়েবিনার ও জনগণের সঙ্গে আলোচনারও ব্যবস্থা করা হয় বিশ্ব সিংহ দিবসে। এখন বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মও এনিয়ে সচেতনতা গড়ে তুলতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করছে। হ্যাশট্যাগ, পোস্ট ও ভিডিও শেয়ার করা হয় মানুষকে সচেতন করতে। মানুষ ও এ বন্যপ্রাণির যাতে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান সম্ভব হয়, সে বিষয়ে নাগাড়ে প্রচার চলে।

সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলো বিশ্ব সিংহ দিবসে সচেতনতা ছড়িয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে; যেখানে হ্যাশট্যাগ, পোস্ট ও ভিডিওগুলো ব্যাপক শ্রোতাদের কাছে পৌঁছানোর জন্য ভাগ করা হয়। যখন কিছু প্রচেষ্টা স্থানীয় সম্প্রদায়কে উৎসাহিত করার পাশাপাশি সিংহ এবং তাদের আবাসস্থলগুলোকে সুরক্ষিত করার জন্য শক্তিশালী বন্যপ্রাণী সুরক্ষা আইন ও নীতিগুলোর পক্ষে জোর দেয়। সিংহ সংরক্ষণ এবং সিংহ ও মানুষের মধ্যে সহাবস্থানের প্রচারে অংশ নেয়া, যা আজকের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।

আপন দেশ/জেডআই

মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়