Apan Desh | আপন দেশ

স্বর্ণ খাতকে আনুষ্ঠানিক কাঠামোয় আনছে সরকার, মতামত চাইল মন্ত্রণালয় 

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ 

প্রকাশিত: ১৯:১১, ৬ আগস্ট ২০২৬

স্বর্ণ খাতকে আনুষ্ঠানিক কাঠামোয় আনছে সরকার, মতামত চাইল মন্ত্রণালয় 

ছবি: আপন দেশ

দেশের স্বর্ণ খাতকে অনানুষ্ঠানিক অবস্থা থেকে বের করে বৈধ, স্বীকৃত ও জবাবদিহিমূলক ব্যবসায়িক খাতে রূপ দিতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে প্রণীত খসড়া স্বর্ণ নীতিমালা ২০১৮ (সংশোধিত) ২০২৬ নিয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা ও অংশীজনদের রোববারের (০৯ আগস্ট) মধ্যে লিখিত মতামত দিতে বলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (০৬ আগস্ট) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে খসড়া নীতিমালা পর্যালোচনা-সংক্রান্ত এক সভায় এ নির্দেশনা দেয়া হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) সভাপতি এনামুল হক খান, রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ। এছাড়া জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা ও স্বর্ণ খাতের প্রতিনিধিরা মতামত তুলে ধরেন।

দীর্ঘদিন একটি স্বীকৃত ব্যবসায়িক খাত আনুষ্ঠানিক কাঠামোর বাইরে থাকাটা স্বাভাবিক নয় উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও উপযুক্ত নীতি ও নিয়ন্ত্রক কাঠামোর অভাবে স্বর্ণ খাত পুরোপুরি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়নি। এ অবস্থার জন্য শুধু ব্যবসায়ীদের দায়ী না করে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সীমাবদ্ধতাও বিবেচনায় নেয়া প্রয়োজন। সময়মতো প্রয়োজনীয় উদ্যোগ না নেয়ায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এখন সরকার খাতটিকে বৈধ ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় আনতে চায়।

বাণিজ্যমন্ত্রীর মতে, স্বর্ণ খাত আনুষ্ঠানিক হলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বৈধ আমদানি, রাজস্ব আহরণ এবং স্বর্ণের মজুদ ও লেনদেনে স্বচ্ছতা বাড়বে। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীরা নিয়ম অনুযায়ী শুল্ক-কর পরিশোধ করবেন এবং সরকারও ব্যবসাবান্ধব নীতিগত সহায়তা নিশ্চিত করবে। তিনি বলেন, বৈধভাবে আমদানি করা স্বর্ণের ক্রয়, বিক্রয় ও মজুদের প্রতিটি ধাপ হিসাবের আওতায় আনতে হবে। ব্যবসায়ীদের কাছে কত স্বর্ণ রয়েছে, কত বিক্রি হচ্ছে এবং এর উৎস কী—এসব তথ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদারকিতে থাকতে হবে।

স্বর্ণের অর্থনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ স্বর্ণ সংরক্ষণ করে। বাংলাদেশেও বৈধভাবে আমদানি করা স্বর্ণ দেশের ভেতরে থাকলে তা মূল্য সংরক্ষণে ভূমিকা রাখবে। তবে চোরাচালান ঠেকাতে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারদরের মধ্যে অস্বাভাবিক মূল্য ব্যবধান না রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। 

আরও পড়ুন<<>>বিমানবন্দরে বাড়ছে নিরাপত্তা, বসছে অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম

মন্ত্রী জানান, স্থানীয় বাজারে কোনো পণ্যের দাম প্রতিবেশী দেশের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম হলে সেটি অবৈধভাবে পাচারের অর্থনৈতিক প্রণোদনা তৈরি করে। তাই শুল্ক ও করহার নির্ধারণে আন্তর্জাতিক বাজারদর, বিশেষ করে দুবাইসহ প্রধান স্বর্ণবাজারগুলোর মূল্য বিবেচনায় নেয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

নতুন নীতিমালার গুরুত্ব তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, নতুন নীতিমালায় শুধু স্বর্ণ আমদানিই নয়, দেশে মূল্য সংযোজনের মাধ্যমে স্বর্ণালংকার উৎপাদন ও রফতানির সম্ভাবনাকেও গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। যৌক্তিক শুল্কে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে স্থানীয় উদ্যোক্তা ও কারিগররা আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক পণ্য তৈরি করতে পারবেন। আন্তর্জাতিক বাজারদরে স্বর্ণ আমদানি করে দেশে মূল্য সংযোজনের মাধ্যমে তা রফতানির সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারেও স্বর্ণের উল্লেখযোগ্য চাহিদা রয়েছে। তাই নীতিমালা প্রণয়নের ক্ষেত্রে সাধারণ ভোক্তার ক্রয়ক্ষমতার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে।

স্বর্ণের ক্রমবর্ধমান দামের কারণে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ বাড়ছে উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, যৌক্তিক নীতি ও কার্যকর সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়বে। এতে ভোক্তারা তুলনামূলক ন্যায্য দামে স্বর্ণ কেনার সুযোগ পাবেন। খসড়া নীতিমালা চূড়ান্ত করার আগে ভারতসহ স্বর্ণালংকার রফতানিকারক কয়েকটি দেশের নীতি ও নিয়ন্ত্রক কাঠামো পর্যালোচনা করা হবে বলে জানান তিনি। এসব দেশের আমদানি ব্যবস্থা, শুল্ক কাঠামো, মজুদ ব্যবস্থাপনা, রফতানি সুবিধা ও তদারকি পদ্ধতির সঙ্গে বাংলাদেশের প্রস্তাবিত নীতিমালার তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হবে।

সভায় এনবিআর, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সম্ভাব্য ঝুঁকি, বাস্তবায়ন-সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ ও প্রয়োজনীয় সুপারিশ লিখিত আকারে জমা দেয়ার আহবান জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য কোনো নতুন জটিলতা সৃষ্টি করা নয়; বরং অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে এমন একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা, যার মাধ্যমে স্বর্ণ খাত বৈধ, স্বচ্ছ ও টেকসই ব্যবসায়িক খাতে পরিণত হবে।

সভায় জানানো হয়, অংশীজনদের মতামত সংকলনের পর প্রয়োজন হলে আবারও আলোচনা হবে। এরপর দ্রুত সংশোধিত স্বর্ণ নীতিমালা চূড়ান্ত করার উদ্যোগ নেয়া হবে।

আপনদেশ/মিম/এসআর

মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement